Monday, May 15, 2017

Water and life -- Sudarshan

Have you also learned that secret from the river; that there is no such thing as time? -- Hermann Hesse 
It's everywhere. It's in the calm at the source and at the mouth, in the trepidations of rapids, in the desperation of horse-show lakes, in the placid homecoming of ferries. It's the prima donna of elements. Crystalline in its purity, fluid in its deviousness, vacuous in its promises, torrential in keeping them.
Water is life. We present the photo-series ‘Water and life’ by the brilliant and extremely talented photographer Sudarshan Mondal.


Click on the photos for full-screen viewing...











************************************************
About The Photographer:
Sudarshan Mondal

Sudarshan Mondal loves making images and its creative process. His selection of subjects and approach depends on the project theme he is up to and in this pursuit he works on mundane things: people on streets, landscapes, nature, travel, abstract forms - both in color and black & white. He is now working on a few short and long term non-journalistic projects, mostly personal in nature. Through his photographic endeavor, he tries to establish a sense of time, search social theories, look at the world in a different perspective, and sometimes depicts his own state of mind. From his early days of learning basic camera technicalities, color theories and management, processing raw files in Photoshop or Lightroom, to a trip photographing fashion in Miami, tracing fall colors in New Hampshire, driving on the mountain roads of Smoky or Yellowstone, shooting bikini babes in Puerto Rico or streets in New York City, his quest for new experience compelled him to continually evolve his thought process, while reminding him the importance of carrying a camera with humor, compassion, and curiosity.


Monday, May 8, 2017

অবসেশন -- বাসবেন্দু

উৎস

"...এটাকে আমি নিছকই 'হত্যা' মানতে পারি না, কারণ 'হত্যা' শব্দটার মধ্যে একটা ডেরোগেটরি সেন্স কাজ করে, প্রাথমিকভাবে। আমার ধারণা এটা ঠিক সেই অর্থে হত্যা নয়। হ্যাঁ, অনস্বীকার্য যে এটা হত্যা। কিন্তু একটা ব্যাপার আপনাকে বুঝতেই হবে যে এই হত্যার একটা লক্ষ্য আছে, একটা সিদ্ধান্তে সে উপনীত হতে চাইছে, দু'জনেই, অর্থাৎ হত্যা মানে দা এক্ট ইটসেল্ফ এবং হত্যাকারী অর্থাৎ আমি, আমরা দু'জনেই চাইছি একটা সার্বিক মুক্তি। কার? না শিল্পীর। আপনি বলবেন সাহিত্যিক, কিন্তু সেটাও তো একটা শিল্পই, নয় কি? মানে কিভাবে আপনি এই ডিমার্কেশন লাইনটা টানলেন? যার হাতে তুলি সে শিল্পী, যার হাতে কলম সে সাহিত্যিক, কে বলেছে আপনাকে? আপনি অমিয়ভূষণ পড়েছেন? পড়েননি সে আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়, নামই শোনেনি তো? আপনি পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ, আপনি শুনেছেনও তাই, আপনাকে সবাই বলেছে রবিঠাকুর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি - শুধু বলেইনি, আপনাকে ইস্কুলে, কলেজে, টিভিতে সর্বত্র ধরে ধরে ব্রেনওয়াশ করে বোঝানো হয়েছে রবিঠাকুরই শেষ কথা। গদ্য, পদ্য, গান, ছোটগপ্পো, ছবি, নাটক মানে ইউ জাস্ট নেম ইট! অদ্ভুত ব্যাপার, আপনার কখনো মনে হয়নি, ক্যানো? এর'ম ক্যানো? ক্যানো একজনই সব পারে আর যদি ধরেও নিই সে পারে, তাহলে আর কারুর পক্ষে কি এর'ম হওয়া সম্ভব না? পুরোপুরি না হলেও, এর শতকরা ষাট ভাগ? বা অন্তত চল্লিশ ভাগ? ভেবেছেন কখনো? ভাবেননি, আপনাকে ভাবতে দেওয়াই হয়নি, আর আপনিও স্বেচ্ছায় ভাবতে চাননি। একটু আগে অমিয়ভূষণের কথা বলছিলাম মনে আছে? উনি শব্দ দিয়ে ছবি আঁকতেন। আপনি হয়তো পড়ছেন অমিয়ভূষণ, পড়তে পড়তে ভাবছেন এনাকে কি বলবো, শিল্পী না সাহিত্যিক? অবশ্য আপনি পড়বেন ক্যানো? আপনি তো জানেনই রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কেউ লিখতে পারেনা, পারেনি, পারবেও না। সুতরাং আপনি চাইবেন আমি ফার্স্ট বয়ের খাতাটাই দেখবো এবং মন দিয়ে দেখবো, আর বাকিরা লিখলেও সেটা ওপর ওপর পড়ে 'হ্যাঁ ভালোই কিন্তু ওর মতন তো না' বলে সব ভুলেটুলে যাবো। আমার দাদু একবার একটা গপ্পো বলেছিলো, দাদু ক্লাসে সেকেন্ড হতো আর ফার্স্টের সাথে তার ওই দু'এক নম্বরের ফারাক থাকতো। তো একবার কি হলো, কোনো একটা পরীক্ষায় আমার দাদু আর ওই জনৈক ফার্স্ট বয় একই ভুল করেছে, অথচ মাস্টার দাদুকে দিয়েছে গোল্লা আর ফার্স্ট বয়কে দুই না তিন নম্বর। তা দাদু উঠে গিয়ে বলেছে যে ওর আর আমার তো একই ভুল, ও নম্বর পেলো কিন্তু আমি পেলামনা ক্যানো? শুনে মাস্টার রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলেছিলো, 'ওরে তুই ভুল করেছিস না বুঝে আর ও করেছে বুঝে!' বলুন দেখি, এটা একটা যুক্তি হলো? ঠিক এই অন্ধযুক্তিটাই আমরা দিয়ে আসছি এখানেও। আমরা মানে আমরা মাইনাস আমি। আপনারা রবীন্দ্রনাথকে মাথায় তুলে ধেই ধেই করতে গিয়ে দুটো অকল্পনীয় অপরাধ করেছেন। কি কি? এক, আপনারা বহু লেখককে তাদের প্রাপ্য লাইমলাইট থেকে নির্মমভাবে বঞ্চিত করেছেন এবং এখনো করছেন আর দুই, আপনারা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি চটকে একগাদা আবর্জনা পয়দা করেছেন যেটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। হেন্স আই চোজ্ টু কিল রবিঠাকুর অল বাই মাইসেল্ফ। আমি চাইনি ভদ্রলোক আমার হাতে খুন হোক, রাদার বেঁচে থাকলে উনি আরও দু'হাজার লেখা দিয়ে যেতে পারতেন কিন্তু একইসাথে ওনাকে নিজের সৃষ্টির নির্মম পতনও দেখতে হতো। সেদিক থেকে আমার এই হত্যা বা বারংবার হত্যার কাজ মার্সি কিলিং এর আওতায় পড়ে। কারণ এই হত্যার মধ্যে দিয়ে আমি শিল্পী ও শিল্প দু'জনকেই বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। শিল্পী তো তুচ্ছ! সে তো এক্সপ্লোরার! তার কাজ তো শিল্পসমুদ্রে ডুব মেরে গভীরে প্রোথিত মণিমাণিক্য কুড়িয়ে আনা! শিল্প তো বয়ে যাওয়া নদী, আর শিল্পী তাতে বিরামহীন অবগাহনে মত্ত! দেখলেন এখানে কিন্তু আমি 'স্নান' বললাম না। 'অবগাহন' বললাম। খেয়াল করলেন? স্নান একটি অতি ছেদো শব্দ। 'কোথায় চল্লি রে? এইত্তো চানে।' কিন্তু অবগাহন? শব্দটা উচ্চারণ করুন। আহা করুনই না একবার! অ ব গা হ ন। আত্মার শুদ্ধি হলো না কির'ম একটা? বাদ্দিন আপনি বুঝবেন না, আপনি ক্যানো আপনারা কেউ বুঝবেন না, যদি বুঝতেন তাহলে রবীন্দ্রনাথের 'নিভে' আর 'নিবে' ব্যবহারের ফারাক বুঝতেন আর দু'টোকেই ওইতো একই হলো বলে কামিনী প্রকাশনার 'সেরা পঞ্চাশটি রবীন্দ্রগান' বলে পেপারব্যাকে ছেপে বের করতেন না। বের করলে রেগে যেতেন, পুড়িয়ে ফেলতেন ওর'ম বই। যাগ্গে, যা বলছিলাম, আমার এই হত্যা বেসিকালি শিল্পের বাস্তিল দুর্গকে পতনের হাত থেকে বাঁচানোর একটা একক প্রচেষ্টা। এবং এতে আমার কোনো অহংবোধ নেই। আমার মনে হয়েছে একজন সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করা জরুরি, এবং আমি তা সফলভাবে করতে পেরে যারপরনাই উৎফুল্ল। আপনাদের ভার্ডিক্ট আমাকে কোনোভাবেই মর্মাহত করবে না কারণ আমি জানি আমি না থাকলে আপনারা সবাই মিলে প্রথমে রবিঠাকুরকে আর তারপর ধীরে ধীরে সাহিত্যকে সামগ্রিকভাবে কবর দিতেন। এবং সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো এই কাজটা আপনারা করতেন অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে। অতএব, মহাশয়, এ বরমাল্য আমি সাদরে গ্রহণ করবো...

Monday, May 1, 2017

নবরত্ন -- সুস্মিতা

পর্ব (১) অতঃপর রাজামশাই কহিলেন- "আমারও নবরত্ন চাই"।
উৎস
মন্ত্রীমশাই সবেগে ঊর্ধ্বে-নিম্নে গ্রীবাচালনা করিলেন এবং বলিলেন- "বটেই তো বটেই তো। কিন্তু রাজামশাই, এই গেলো হপ্তাতেই তো রাজজ্যোতিষীমশায়ের কথামতো অতোগুলো টাকা গচ্চা দিয়ে নবরত্নের আংটি ধারণ করলেন, সীমান্তে ওই ন'টা বজ্জাত প্রতিবেশী রাজার অনুপ্রবেশ আটকাতে।" রাজামশাই রোষকষায়িত দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া পুনরায় বলিলেন- " না রে বাবা! সে পাথুরে নবরত্নের কথা বলছি না রে বাপু। আমি বলছি..." মন্ত্রী মধ্যপথেই রাজার বাক্যি হরণ করিয়া বলিয়া উঠিলেন- "ও হো হো এবার বুঝেছি! তবে কিনা কাল রাতেই তো বড় রাণীমার সন্তোষী মায়ের শুক্রবারের ব্রত বলে নিরিমিষ্যি নবরত্ন কোর্মা খেয়ে এই আজ সকালেও 'হেউ হেউ' করে চোঁয়া ঢেকুর মারছিলেন সিংহাসনে বসে। তাই বলছিলুম কি আজ হাল্কা করে চিকেন বিরিয়ানী আর চিকেন চাপের ওপরেই রইলেন নাহয়। নিরিমিষ্যিটা তো আপনার আবার... হেঁ হেঁ।" রাজামশাই স্বগতোক্তি করিলেন- "এ কোন আবোদাগুলোকে নিয়ে দরবার খুলেছি রে ভাই! এই ধম্মের ষাঁড়গুলো শুধু মাস গেলে বসে বসে মোটা মাইনে আর ভুঁড়ি বাগাতেই সিদ্ধহস্ত। অ্যাকে তো কী বলি বোঝে না তায় আবার লম্বা লম্বা বক্তিমে ঝাড়ছে দ্যাখো ঘাটের মড়া বুড়োটা। অবশ্য মাটন ছাড়া বিরিয়ানী যে ভাবতে পারে তার দৌড় আর কদ্দুরই বা হবে!" প্রকাশ্যে বলিলেন- " জ্বালাতন তো! ওইসব বলছি না মন্ত্রী। আমি নবরত্ন সভার কথা বলছি। যেমনটি আকবরের ছিলো, বিক্রমাদিত্যের ছিলো। ইতিহাসের বই হাতে ধরেননি নাকি। পরের দিন নাতির বইটা একটু উল্টে পাল্টে দেখে আসবেন। বলি একটা জ্ঞানীগুণী রত্নখচিত রাজসভা না হলে কি জাতে ওঠা যায় হে?"

Monday, April 24, 2017

ছায়াচ্ছন্ন -- কৃষ্ণাঞ্জন


শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক। স্টেশনের নাম মথুরাপুর। সেখান থেকে অটো ধরে খটিরবাজার। তারপর ভ্যান-রিকশোতে সাতঘড়া গ্রামের তালপুকুর। আমার ছোট পিসির বাড়ি। গত পুজোয় একাদশীর দিন গিয়েছিলাম, প্রায় অনেক বছর পরে। না, আমাকে শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরতে হয় না। আমার বাড়ি মথুরাপুরের তিনটি স্টেশন আগে। দক্ষিণ বারাশত। কিন্তু এই তালপুকুর গ্রামের অনেকে সেটাকেই শহর ভাবে।

দুপুর নাগাদ খটিরবাজারে পৌঁছে ভ্যানে চেপেছি। ইট বিছানো রাস্তা। রাস্তার পাশে ঘন বাঁশবন, ‘সবুজ হলুদ সর পড়া পুকুর’ ঝিম মেরে আছে। ছোটবেলায় মা-বাবার সাথে বেশ ঘটা করে আসতাম, রাস্তাগুলো সব আবছা মনে পড়ছে। অনেকদিন পর নিজের বাড়িতে ফেরার মতো লাগছে। যেতে যেতে একটা কুমোর-পাড়া পড়ে, রোদে দেওয়া মাটির কলসি, মিষ্টির ভাঁড়। খুব মনোযোগ দিয়ে ছোটবেলায় এগুলো বানানো দেখতাম - বন বন করে চাকা ঘুরছে আর এক বুড়ো নিপুণ হাতে একটা কলসি বানিয়ে ফেলছে। একটা বড় মুসলিম-পাড়ার পরেই রাস্তার বাঁক, বাঁক পেরিয়ে ভ্যানটাকে দাঁড়াতে বললাম। পিসি দাঁড়িয়ে, পিসির ছেলেরা দাঁড়িয়ে, প্রতিবেশী আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে। ভ্যান থেকে নামতেই অর্ধেক-চেনা মুখে হাসি এক মহিলার- “কতো বড়ো হয়ে গেছিস বাবা... আমায় চিনতে পারিস?” কিছু বলার আগেই পিসির ছেলেরা এসে পড়লো। ওরাও বড়ো হয়ে গেছে। প্রায় হাত ধরে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলো। আগে মাটির বাড়ি ছিলো। দাদা চাকরি পেয়ে পাকা বানিয়ে নিয়েছে, ইলেক্ট্রিসিটিও এসেছে। প্লেট-ভর্তি খাবার সাজিয়ে নিয়ে এলো বৌদি, পিসি মাটির উনুনে রান্নায় ব্যস্ত, দেশি মোরগের ঝোল খাব আগেই বলে রেখেছিলাম।

কোনওমতে লুচিগুলো খেয়ে হাঁটতে বেরলাম সেজো ছেলেটির সাথে। অদ্ভুত ভাবে এই ভেতরের রাস্তাগুলোও মনে আছে আমার। মাটির রাস্তা, চারদিকে ঘন সবুজ গাছপালা, নিশ্চিন্দিপুরের থেকে একেবারেই আলাদা করা যায়না। হঠাৎ রাস্তা শেষ, বিশাল ধান-জমি। দাঁড়িয়ে পড়লাম ওখানেই। এটা-ওটা গল্পের মধ্যেই পাশের মুসলিম-পাড়ার কথা উঠলো, কারণ বাইরে তখন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। মুসলিম-পাড়ার সবাই নাকি আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সমর্থক।


আবহাওয়ার খবর -- সৌভিক

উৎস

আজ সারাদিন প্রধানত মেঘলা আকাশ
বিকেলের দিকে আপনার ঘর ও বারান্দায়
মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
বাসন্তী রঙের ওড়না জড়ানো মেয়েটা
নীল রঙের গাড়ীতে চেপে অফিসে চলে যাবে,
জানলা দিয়ে তার গম্ভীর মুখটা দেখে
মেঘ জমবে আপনার বাড়ির গলিতে;
মনে হবে ওই ওড়নাটা জড়িয়ে
মেয়েটা সাইকেল চালালে বা দুপুরবেলা
লোকাল ট্রেনের জানলার ধারে বসলে
বেশি মানাত।
বিকেলের বিমানে মেয়েটা পাড়ি দেবে পশ্চিমে
অনির্দিষ্টকালের জন্য, শহরের আকাশে
ভিড় করবে কিউমুলোনিম্বাসরা;
রাতে যখন বিমান আবু ধাবির মাটি ছোঁবে
আপনার ঘরে তখন ঝোড়ো হাওয়ার সাথে
বজ্র-বিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণের সতর্কতা।
খবর আপাতত এই পর্যন্তই।

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই