যাদবপুর-কাণ্ডে নতুন মোড়, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ!

!! টাটকা খবর !!




নিজস্ব প্রতিবেদন:  হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়িটার ঠিক নিচে  ভারতীয় ইন্দ্রজাল মন্ত্রকএর সদর দফতরের প্রধান প্রবেশ পথ বানানো নিয়ে অনেকের মনেই ঘোর সন্দেহ ছিল। একে কলকাতা মোটেই দেশের রাজধানী নয়, তার ওপর ওই রকম প্রচণ্ড ভিড় স্টেশনে দুমদাম কিছু গোলমেলে লোকের একটা বিশেষ জায়গা থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটা ভীষণরকম সন্দেহ তৈরি করতে পারে  মাগ্‌ল্‌দের মনে, জোর গলায় এই রকম দাবী তুলেছিল উত্তর ভারত লবি। শেষ পর্যন্ত সরকারি হস্তক্ষেপে, মানে পি. সি. সরকারের কড়া চিঠিতে গোলমাল মিটেছিল। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, চিঠিতে নাকি কলকাতা দারুণ  ম্যাজিকাল’ আর ওই বড় ঘড়ির নিচে প্রতিদিন এত লোক দাঁড়িয়ে থাকে আর এত ঘন ঘন তাদের মুখ বদলায় যে ওখানেই প্রবেশপথ সবচেয়ে নিরাপদ এমন সব সওয়াল করে অনেক কথা বলা ছিল। সে সব কথা যে ঠিক, সে তো অনেকদিনই প্রমাণ হয়ে গেছে।

সে যাই হোক, ঠিক ওই জায়গাটাতেই সকাল থেকে প্রবল ব্যস্ততা। হুড়মুড় করে একগাদা লোক ঢুকছে, বেরোচ্ছে। খবর এসেছে, তাবড় তাবড়  মাগ্‌ল্‌’ প্রতিনিধিদের নিয়ে অনেক আগেই মন্ত্রকে চলে এসেছেন বড়কর্তারা। সক্কাল থেকে দফায় দফায় চলছে মিটিং। রাজ্যের সবচেয়ে বড় জাদু-খবর কাগজ খবরজালএর একমাত্র মাগ্‌ল্‌প্রতিনিধি হিসেবে দেরি না করে ঘড়িটার নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম কোন রকমে উত্তেজনা চেপে।
প্রিয় পাঠক, আপনার বয়স দশের বেশি হলে নিশ্চয়ই কখনো না কখনো আপনি ওই মন্ত্রকে গিয়েছেন সে প্রথম জাদু-নাগরিকত্বের পরীক্ষাই হোক, বা ভুল করে মাগ্‌ল্‌ প্রতিবেশীর টবে বনসাই বটগাছ বানিয়ে বাবা-মায়ের হাত ধরে নিজের অঞ্চলের বিধায়কের বকা খাওয়াই হোক। তাই সেদিন পুরো সময় জুড়ে নানা রকম ভয়ানক কীর্তিকলাপ দেখে আমার কেমন চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল, সে সব বলে আর সময় নষ্ট করছি না।
‘রাজা ভোজ সেমিনার রুমেঢোকার আগে থেকেই প্রবল চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছিল। ভেতরে গিয়ে দেখি একেবারে প্রলয় শুরু হয়ে গেছে।

আমায় কেউ বলে দেয়নি যে বিদিশি লোকজন থাকবেন। মাগ্‌ল্‌ প্রতিনিধি যাঁরা ছিলেন, সরকার পক্ষের বা ছাত্রদলের বা যাদবপুরের প্রাক্তনী এতক্ষণে প্রাথমিক ম্যাজিকের ধাক্কাটা কাটিয়ে তাঁরা কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছেন, তাই তাঁদের গলাই বেশি শোনা যাচ্ছে। বিদেশিদের এখনো  অ্যাপারিশন-ল্যাগ’  কাটেনি, তাই তাঁরা সামান্য ঝিমোচ্ছেন। আমার আসতে বেজায় দেরি হয়ে গেছে, ঝগড়া তুঙ্গে উঠেছে, ভদ্রতায় টান পড়তে পড়তে প্রায় ছিঁড়ে যাওয়ার জোগাড়।
যাঁরা বিশেষ খবর রাখেন না, তাঁদের সুবিধার্থে ছোট করে ঘটনাটা জানিয়ে দিই। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের নিয়ম ভেঙে কিছু অল্পবয়সী জাদুকর জাদুকরনি, স্থানীয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাম্প্রতিক কুরুচিকর ঘটনার প্রতিবাদে ঘটা অবস্থান বিক্ষোভে শুধু অংশ নেয় তা-ই নয়, কিছু ভয়ানক শক্তিশালীঅস্ত্র হাতে সেখানে বসেছিল। সে সব দেখে ভয়ে কোণঠাসা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজের প্রাণের আশঙ্কায় মাগ্‌ল্‌ পুলিশ ডেকে বসেন। এইবার, দুর্ভাগ্যক্রমে, গিটার, ভায়োলিন, স্যাক্সোফোন এই জাতীয় প্রবল শক্তিশালী অস্ত্রগুলি জাদুকরদের আর নিরস্ত্র মাগ্‌ল্‌দের মানসিক অবস্থাকে সাঙ্ঘাতিক প্রভাবিত করতে পারলেও কিছু মাগ্‌ল্‌ অস্ত্র, যেমন লাঠি, চটি বা ঘুষির সামনে নেহাতই অসহায়। ফলস্বরূপ, অবস্থানকারী ছাত্রছাত্রীদের অমানবিক এবং অ-ঐন্দ্রজালিক ভাবে মারা হয়। যারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাদের মধ্যে অধিকাংশই জাদুকর। মেয়ে জাদুকরদের বিচ্ছিরিরকম হেনস্থা করা হয়। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, এই ধরনের বেলেল্লাপনায় সে সময় তারা এতটাই মানসিকভাবে আহত হয়, যে নিজেদের মাগ্‌ল্‌ বন্ধু-বান্ধবীদের সম্মানে তারা একটিও জাদুর আশ্রয় নেয়নি। যদিও মন্ত্রকের তরফে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া আছে, যে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যে কোন সময় জাদুর আশ্রয় নিতে পারে আঠেরো বছরের বেশি বয়সীরা।

ঘটনার পর থেকে মাগ্‌ল্‌ জগতে যেমন আলোড়ন চলছে, তেমনই গোলমাল বেধেছে জাদু-জগতে। বিধান রায়ের পরে আজ অবধি কখনো কোন জাদুকর এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হননি, অথচ এখানেই জাদুকরদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক অবহেলার কারণে বহুদিন ধরেই রাজ্যের অধিকাংশ জাদুকর রাজ্য ছেড়ে দেশে-বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। এখন সরাসরি ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ে হাত পড়ার পরে তাই স্বভাবতই তাঁরা যে যেখানেই থাকুন না কেন, রাগে, দুঃখে, উত্তেজনায় ক্রমাগত খবর নিয়ে চলেছেন, ছাত্রদের সমর্থন করে চলেছেন। অন্যদিকে, মাগ্‌ল্‌ প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এইসব সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী ঐন্দ্রজালিক-গোষ্ঠী।
আপনারা কি ভেবেছেন টা কি? অ্যাঁ! বারবার করে, পইপই করে বলে দেওয়া সত্ত্বেও আপনাদের ওই সব জাদু-পড়ুয়ারা যা ইচ্ছে তা-ই পরবো বলে উদ্ভট সব জামা-কাপড় পরে কলেজে আসে, কোন মাগ্‌ল্‌ রাজনৈতিক দলকেই সমর্থন করে না, ছেলে-মেয়েরা অবাধে মেশে, কোন বিষয়ে কথা বলতে হলেই হাতে ওইসব সাঙ্ঘাতিক তার লাগানো বা হাওয়াভরা অস্ত্র নিয়ে প্রবল উস্কানিমূলক গান গেয়ে আমাদের মাগ্‌ল্‌ ছেলেমেয়েদের ওপর জাদু চালায়... শান্তি তো আপনারাই প্রথম ভেঙেছেন, নাকি? আপনাদের জ্বালায় আমাদের মাননীয় নেত্রীর এখন এমন অবস্থা, যে বিরোধী কথা শুনলেই  ম্যাজিক! মাদারি!’ বলে চিৎকার করে উঠছেন! প্রতিদিন আপনাদের মন্ত্রকের অধিকাংশ আইনরক্ষকের প্রধান কাজ হল ওগুলো বদলে  মাওবাদী!’  করে দেওয়া... আর কদ্দিন এ জিনিস চালাবেন বলুন তো আপনারা?...” – চেঁচাতে চেঁচাতে সরকারপক্ষের প্রতিনিধির মুখে প্রায় ফেনা ওঠার জোগাড়। ভদ্রলোক হাঁফ নিতে একটু দাঁড়িয়েছেন কি দাঁড়াননি, এমন সময় ঘটনাটা ঘটলো।






চশমা পরা বিদিশি ভদ্রলোক তাঁর সঙ্গীদের মতই অনেকক্ষণ থেকে ঝিমোচ্ছিলেন টেবিলের এক প্রান্তে বসে। বাকিরা সকলেই কখনো না কখনো আলোচনায় অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করলেও উনি বিশেষ নড়েননি। ঘরে ঢোকার পরে একঝলক দেখে একবার মনে হলেও পরক্ষণেই নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, নাহ্‌, এ হতে পারেনা। তাই আর তাকাইনি। এইবার তিনি প্রায় বুলেটের স্পিডে দাঁড়িয়ে টেবিলে ঝোঁকার সময় কপালের ওপর থেকে চুলের গোছা একদিকে সামান্য সরে গেল। বিদ্যুতরেখার মত চিহ্নটা দেখেই আমার মুখ হাঁ হয়েছিল, সেই হাঁ মিনিট দশেকেও বন্ধ হয়নি।
সামান্য মোটা হয়ে গেলেও মাঝারি উচ্চতার ভদ্রলোককে দেখে বোঝা যায়, পরিশ্রমী চেহারা। ওঁকে দাঁড়াতে দেখেই আমাদের প্রতিনিধি চমকে উঠে পিছিয়ে এসেছিলেন, আর কথা বলার খুব একটা সাহস ওঁর ছিলনা বলেই মনে হয়। তাই সময় নিয়ে, কেটে কেটে (বোধহয় ওঁর সন্দেহ ছিল পাছে ওই বিলিতি উচ্চারণ আমরা বুঝতে না পারি) ইংরিজিতে উনি যা বললেন, আমার সীমিত ক্ষমতায় তার তর্জমা করার চেষ্টা করছি:

সরি, কিন্তু আর আপনাদের এই প্রলাপ শোনার আমার সময় নেই। আমি নিজস্ব সূত্রে কিছু খবর পেয়েছি, আর তার মধ্যে কিছু আমার নিজের উদ্যোগেই ঘটেছে। সেগুলো একে একে বলে রাখি।

প্রথমত, আমি জানতে পারি, যে ওই উপাচার্য বড্ড প্রাণের ভয় পাচ্ছেন, তাই তাঁর মানসিক শান্তির ব্যবস্থা করতে আজ সকালে  ফ্লাফি’  মানে আমাদের সবার প্রিয় তিন মাথা-ওয়ালা চার-পেয়েকে নিয়ে হ্যাগ্রিড ওই উপাচার্যের বাড়িতে গিয়েছিল। হ্যাঁ, আমারই নির্দেশে...শেষ কথাটা ছিল ছাত্রপক্ষের এক সদস্যের উদ্দেশ্যে, যে সামান্য উশখুশ করে উঠেছিল।
এখন থেকে প্রতিদিন উনি ৬৫০ কেজি চাল আর ৪৫ কেজি মুরগির মাংসের ব্যবস্থা করবেন ফ্লাফির জন্য। পাছে লোকে কিছু মনে করে, তাই পাড়ার কুকুরদেরকেও সেখান থেকে খাওয়ানো হবে। দ্বিতীয়ত, যে জাদুকরটি আইন অমান্য করে জাদু প্রয়োগ করে উপাচার্যের ওয়েব-পেজে ‘I am sorry.’ লিখে দিয়েছিলো, তাকে সতর্ক করে লেখাটা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আর বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে ওটা হ্যাকিংএর ফল।
তৃতীয়ত, আজ সকাল থেকে রাস্তায় ডাম্বলডোর আর্মির কিছু সদস্য প্রচ্ছন্নভাবে মিছিলে মিশে থেকে নিশ্চিত করবেন যাতে মিছিল শান্তিপূর্ণ হয়। এঁদের বিশাল অভিজ্ঞতা, ছাত্রজীবন থেকেই সবরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে ওঁরা অভ্যস্ত। আমি মিছিলের সাফল্য নিয়ে নিশ্চিত।
অবশেষে, আমায় বারবার ভারতীয় ইন্দ্রজাল মন্ত্রকের তরফ থেকে বারণ করা সত্ত্বেও আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনাদের কি মাথায় গোবর পোরা? এর আগেও ঠিক এইরকম এক সময়ে আমি এসেছিলাম এখানে, কিছু নিও-ডেথ-ইটার, মানে নব্য- ভোল্ডেমর্ট সমর্থকের প্ররোচনায় আগের সরকার এভাবেই পিটিয়েছিল যাদবপুরের ছেলে-মেয়েদের। সেখানেই থেমে না থেকে এন্তার মানুষ মেরেছিল তারা। আপনাদের কি মনে-টনে নেই, তারপর কি হয়েছিল? আপনারা জানেন তো, ডার্ক-লর্ডকে কোন বয়সে শেষ করেছিলাম আমরা? মনে আছে, সেই লড়াই কোথায় হয়েছিল? একটা হাইস্কুলে। আপনাদের কোন ধারণা আছে, কি হতে চলেছে?”

এই সময় অধুনা-বিরোধী হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই এক চ্যাংড়া উত্তেজিত হয়ে বলে বসলো, “তাই তো আমরা ওদের সমর্থন করছি!পৃথিবীখ্যাত ভদ্রলোক এবার প্রায় গর্জন করে উঠলেন, “একদম টানবেন না এই সহজ ব্যাপারটাকে নিজেদের স্বার্থে। কিছু মাগ্‌ল্‌-জাদুকর ছাত্র-ছাত্রী মিলে একটা নিখুঁত কাজ করছে, এর মধ্যে আপনাদের ওই মাগ্‌ল্‌ রাজনীতির গন্ধ দেখতে পেলেও কপালে আপনাদের দুঃখ আছে। আপনারা সব এক গোয়ালের গরু, গায়ের রঙ যা একটু আলাদা মাত্র। আর হ্যাঁ, এই যে আপনি,” এবার মুখ ঘুরলো সরকারপক্ষের সেই প্রতিনিধির দিকে, যিনি একটু আগেই গাঁক গাঁক করছিলেন, “ম্যাজিশিয়ানরা কি জামা-কাপড় পরে, কাদের সাথে কিভাবে মেশে, সেটা ঠিক করা আপনার এক্তিয়ারে পড়ে না। কিছু পাতি হিংসেয় জ্বলেপুড়ে যাওয়া অসুস্থ মানুষ ছাড়া আর কাউকে আপনারা এ ব্যাপারে নিজেদের সমর্থনে পাবেন না, তাই ভাল বলছি, সময় থাকতে ওই রাস্তা ছাড়ুন। যদি রাজ্যের উন্নতি চান, বেশি সংখ্যক জাদুকর-জাদুকরনিকে এ রাজ্যে আপ্যায়ন করুন, কাজে দেবে নইলে মধ্য-প্রাচ্যের ওই দেশগুলোর মত অবস্থা হবে। কেউ, কখনো, কোন ম্যাজিক দেখতে পাবে না।


ভদ্রলোক কথা শেষ করে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ কি মনে হল, আবার ঘুরে এসে বললেন, “ভাল কথা, সদ্য খবর পেলাম, ইরানে একটা ম্যাজিকাল গ্রুপ হ্যাপিনামের একটা একটা গানের ভিডিও বানিয়েছে আমাদের ম্যাজিকাল কমিউনিটির জামাকাপড় পরে, সে কারণে সরকার তাদের গ্রেফতারকরেছে আর বেত্রাঘাতের আদেশ দিয়েছে। আমি সোজা ইরান যাচ্ছি এখান থেকে... কিন্তু আজ ওই নিও ডেথ ইটারদের কাজে লাগিয়ে যদি মিছিল ভণ্ডুল করার সামান্য চেষ্টাও করেন, মনে রাখবেন আমি না থাকলেও ডাম্বলডোরস আর্মি আজ কলকাতার রাস্তায় ছেয়ে থাকবে। কিছুতেই কিছু হবে না।

ভদ্রলোক বেরিয়ে যাওয়ার পর মিটিংয়ের আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। ঘণ্টাখানেক পরে যখন আপনমনে হাওড়া স্টেশনের বইয়ের ওই দোকানটার সামনে নিয়ে হাঁটছি, হঠাৎ করে দোকানদার ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, “কি দাদা, কিছু বুঝলেন? আমাদের হিরোকিছু বললো?” ভদ্রলোক হলেন একজন স্কুইব’, মানে ওই যাঁরা জাদুকর পরিবারে জন্মেও মাগ্‌ল্‌, তাই প্রশ্ন শুনে অবাক হইনি।

দোকানের নিচে লুকনো খোপ থেকে একটা ইন্ডিয়ান ম্যাজিকাল ডেইলিবের করে আমার হাতে দিলেন উনি, আমি দুটাকার খোঁজে পকেট হাতড়াতে হাতড়াতে বললাম, “বললেন তো অনেক কিছুই, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে উনি কেমন আশাবাদী, সে তো জানেনই। আমি যেটা বুঝতে পারছি না, সেটা হলো, এবার এমন কি রাজনীতি-নিরপেক্ষ আন্দোলনের আশা দেখলেন উনি, যে সশরীরে হাজির হলেন? জানি, যে ভীষণ কম বয়সে, অসম্ভব প্রলোভনের মুখেও উনি এমনকি দেশের জাদু-মন্ত্রীকেও সটান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু আজকালকার কজন ছাত্র-ছাত্রী পারবে বলুন তো অমন কাজ? আগে তো কেউ কখনো পারে নি, না আপনাদের সময়ে, না আমাদের সময়ে... এবারটাই আর এমন কি আলাদা?”
 - , সেই কথা? সে তো খুব সোজা উত্তর! ওরা তো হ্যারি পটারপড়েছে! এই তো, এখনও হপ্তায় দুএকটা করে কপি বিক্রি করি। ওরা সব পড়ছে, সব জেনে গেছে কায়দা কসরত। হে হে...
একটা অসম্ভব তৃপ্তির হাসি নিয়ে আবার নিজের শব্দছকটার ওপর ঝুঁকে পড়লেন ভদ্রলোক।

***********
নিজস্ব সংযোজন: অন্তত পঞ্চাশজন নিও-ডেথ-ইটার হানা দিয়েছিল মিছিলের ওপর বিভিন্ন সময়ে, কিন্তু আত্মগোপন করে থাকা ডাম্বলডোরস আর্মির কিছু সদস্যের তৎপরতায় তাদের আক্রমণ ভেস্তে যায়। স্থানীয় মাগ্‌ল্‌দের ওপর সফলভাবে বিধিসম্মত জাদু প্রয়োগ করায় তারাপুরো ঘটনাটা খারাপ আবহাওয়া আর বৃষ্টি বলে মনে করেছে।

বিয়ে-টিয়ের ব্যাপার -- তপোব্রত

পড়াশুনোর পাটাপাট চুকিয়েছি প্রায় সাত বছর হতে চলল সুতরাং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে লিখছি ভেবে ভুল করবেন না। আমার এই লেখার বিষয় হল বিবাহ। সেই সানাই বাজিয়ে, শোলার টোপর পরে সাত পাকে ঘুরে আদি অকৃত্রিম চার হাতের মিলন, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘Holy Matrimony’।
নিজের বিয়ে আগতপ্রায়, তাই এই অবস্থায় বিয়ে নিয়ে বেশি বাঁদরামি করাটা মনে হয় না উচিত হবে তবু সামান্য কিছু লেখার লোভ সামলাতে পারলুম না। কোথায় যেন পড়েছিলাম যে দেশে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ, দার্শনিক এবং গৃহত্যাগী সন্ন্যাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণই হল ক্রম-বর্দ্ধমান বিয়ে।

নাহ্‌ লেখার শুরুতেই গৃহত্যাগী সন্ন্যাসীতে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার চেয়ে বরং বাচ্চাদের দিয়েই
ছবি: সুনন্দ
শুরু করি। যেকোন বিয়েতেই বাচ্চাদের খুব আনন্দ। বিয়েবাড়ি গেলেই দেখা যায় নানা সাইজের বেশ কিছু বাচ্চা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ছুটছে, লাফাচ্ছে, রসগোল্লা খাচ্ছে, নিমন্ত্রিতদের পা মাড়িয়ে বা মাথার চুল টেনে দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, কখন আবার আছাড় খেয়ে তারস্বরে কান্না জুড়ে সারা বিয়েবাড়ি মাথায় করছে! কিন্তু বাচ্চা ছাড়া বিয়েবাড়ি ভাবাই যায় না।
এরকমই এক নিষ্পাপ শিশুর পুরনো গল্পটা এই ফাঁকে বলে ফেলি। বাচ্চা মেয়েটি তার পুতুল নিয়ে খেলছিল। ঘটনাচক্রে তার মা সেই একই ঘরে তাঁর বান্ধবীদের সঙ্গে পাড়ার একটি সাম্প্রতিক বিয়ে নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। পাত্র-পাত্রী তাদের বাবা-মার কথা না শুনে নিজেরাই আলাপ করে বিয়ে করেছে, এটাই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। হঠাৎ মেয়েটি তার মাকে জিজ্ঞেস করল, “মা, তোমার কার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল?”
মা বললেন, “কেন? তোমার বাবার সঙ্গে!”
মেয়েটি চোখ বড় বড় করে বলল, “ছি ছি! এত চেনাশোনার মধ্যে!”

যাক, শুরুতেই গুরু তারাপদ রায়ের কাণ্ডজ্ঞান থেকে টুকে দিয়েছি, এবার লেখাটা নিশ্চয়ই দাঁড়িয়ে যাবে!

দাড়িদাদু আর মুখোশ মানুষেরা -- ঊর্মি

পর্ব-১

তা বেশ কয়েকমাস আগের কথা, সবে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করা হয়েছে পাড়ায়-পাড়ায়, মোড়ে-মোড়ে, ট্রাফিক সিগন্যাল- কবিগুরুর সৃষ্টির শতবিভক্ত রূপ ক্রমশঃ বিকৃতির আকার ধারণ করেছে। ভাগ্যিস আমার বাড়িতে টেলিভিশন নেই, তাই অত্যাচারটা অন্তত সহ্য করতে হয়নি তবে শুনেছি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবারে শাহরুখ খানকে রবীন্দ্রনাথ সাজিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন!!! তা আমি যে রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় ফ্যান এরকম দাবী আমি কখনই করবো না (অত লেখা সব এখনো পড়ে ওঠার সুযোগই হয়নি) তবে আমার মা-এর অতিরিক্ত রবীন্দ্র-ভক্তির জন্য ছোটবেলা থেকে ওঁর অনেক প্রচলিত-অপ্রচলিত সৃষ্টির সাথেই মোটামুটি পরিচিত আছি।

তা হয়েছে কি, পাশের ক্লাবের মাইকে “ক্লান্তি আমার ক্ষমা কারো প্রভু” শুনতে শুনতে আর প্রায় আট-দশ হাজার (সঠিক জানা নেই) গান, কবিতা, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ইত্যাদি ইত্যাদি লেখার সময় বাদ দিলে খাওয়া-দাওয়া-ঘুমের জন্য ওঁর ঠিক কতটা সময় বাঁচতো সেই হিসেব করতে করতে নিজেই ক্লান্ত হয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই বুঝতে পারিনি... ঘুম ভাঙ্গতে দেখি চতুর্দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, বুঝলাম নিশ্চয় লোডশেডিং হয়েছে। হাতড়ে হাতড়ে বারান্দায় পৌঁছে যা দেখি তাতে নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না!!! অনেক দিন থেকেই আমার বাড়িতে ঝুলবারান্দার খুব শখ; কিন্তু ভাড়ার ফ্ল্যাটে থেকে সে শখ মিটল কই। চোখ কচলে ভালো করে দেখলাম সত্যিই এক লম্বা ঝুলবারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, শুধু তাই নয় সেটা আমাদের 'আপন-নীড়'  ফ্ল্যাট বাড়িও নয়-পুরনো জমিদার আমলের কোনো বাড়ি।  চাঁদের আলোয় এটুকু বোঝা যাচ্ছিল যে কোনো বনেদী পরিবারের বাসস্থল হবে সেটা। পূবদিকের একটা ঘর থেকে যেন ক্ষীণ একটা আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে মনে হলো। আমিও গুটি গুটি পায়ে সেদিকে পাড়ি দিলাম এই আশা নিয়ে যে আমার হঠাৎ এই জমিদার বাড়িতে হাজির হবার কোন না কোন কারণ ঠিক  জানতে পারব।



ঘরের বাইরে থেকে দেখে মনে হলো ওটা কারো পড়ার ঘর বই- ঠাসা আলমারি তাক পেরিয়ে চোখ থমকালো- একটা লন্ঠন আর তার সামনে বসে থাকা এক বৃদ্ধকে দেখে খোলা খাতা কলম সামনে রেখে নিবিষ্টমনে ভাবছেন আর সুদীর্ঘ দাড়িতে হাত বোলাচ্ছেন। আমি একটু এগিয়ে যেতে উনি মুখ তুলে তাকালেন আমার দিকে- কি? যে দাড়িদাদু!!!

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই