Monday, May 8, 2017

অবসেশন -- বাসবেন্দু

উৎস

"...এটাকে আমি নিছকই 'হত্যা' মানতে পারি না, কারণ 'হত্যা' শব্দটার মধ্যে একটা ডেরোগেটরি সেন্স কাজ করে, প্রাথমিকভাবে। আমার ধারণা এটা ঠিক সেই অর্থে হত্যা নয়। হ্যাঁ, অনস্বীকার্য যে এটা হত্যা। কিন্তু একটা ব্যাপার আপনাকে বুঝতেই হবে যে এই হত্যার একটা লক্ষ্য আছে, একটা সিদ্ধান্তে সে উপনীত হতে চাইছে, দু'জনেই, অর্থাৎ হত্যা মানে দা এক্ট ইটসেল্ফ এবং হত্যাকারী অর্থাৎ আমি, আমরা দু'জনেই চাইছি একটা সার্বিক মুক্তি। কার? না শিল্পীর। আপনি বলবেন সাহিত্যিক, কিন্তু সেটাও তো একটা শিল্পই, নয় কি? মানে কিভাবে আপনি এই ডিমার্কেশন লাইনটা টানলেন? যার হাতে তুলি সে শিল্পী, যার হাতে কলম সে সাহিত্যিক, কে বলেছে আপনাকে? আপনি অমিয়ভূষণ পড়েছেন? পড়েননি সে আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়, নামই শোনেনি তো? আপনি পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ, আপনি শুনেছেনও তাই, আপনাকে সবাই বলেছে রবিঠাকুর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি - শুধু বলেইনি, আপনাকে ইস্কুলে, কলেজে, টিভিতে সর্বত্র ধরে ধরে ব্রেনওয়াশ করে বোঝানো হয়েছে রবিঠাকুরই শেষ কথা। গদ্য, পদ্য, গান, ছোটগপ্পো, ছবি, নাটক মানে ইউ জাস্ট নেম ইট! অদ্ভুত ব্যাপার, আপনার কখনো মনে হয়নি, ক্যানো? এর'ম ক্যানো? ক্যানো একজনই সব পারে আর যদি ধরেও নিই সে পারে, তাহলে আর কারুর পক্ষে কি এর'ম হওয়া সম্ভব না? পুরোপুরি না হলেও, এর শতকরা ষাট ভাগ? বা অন্তত চল্লিশ ভাগ? ভেবেছেন কখনো? ভাবেননি, আপনাকে ভাবতে দেওয়াই হয়নি, আর আপনিও স্বেচ্ছায় ভাবতে চাননি। একটু আগে অমিয়ভূষণের কথা বলছিলাম মনে আছে? উনি শব্দ দিয়ে ছবি আঁকতেন। আপনি হয়তো পড়ছেন অমিয়ভূষণ, পড়তে পড়তে ভাবছেন এনাকে কি বলবো, শিল্পী না সাহিত্যিক? অবশ্য আপনি পড়বেন ক্যানো? আপনি তো জানেনই রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কেউ লিখতে পারেনা, পারেনি, পারবেও না। সুতরাং আপনি চাইবেন আমি ফার্স্ট বয়ের খাতাটাই দেখবো এবং মন দিয়ে দেখবো, আর বাকিরা লিখলেও সেটা ওপর ওপর পড়ে 'হ্যাঁ ভালোই কিন্তু ওর মতন তো না' বলে সব ভুলেটুলে যাবো। আমার দাদু একবার একটা গপ্পো বলেছিলো, দাদু ক্লাসে সেকেন্ড হতো আর ফার্স্টের সাথে তার ওই দু'এক নম্বরের ফারাক থাকতো। তো একবার কি হলো, কোনো একটা পরীক্ষায় আমার দাদু আর ওই জনৈক ফার্স্ট বয় একই ভুল করেছে, অথচ মাস্টার দাদুকে দিয়েছে গোল্লা আর ফার্স্ট বয়কে দুই না তিন নম্বর। তা দাদু উঠে গিয়ে বলেছে যে ওর আর আমার তো একই ভুল, ও নম্বর পেলো কিন্তু আমি পেলামনা ক্যানো? শুনে মাস্টার রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলেছিলো, 'ওরে তুই ভুল করেছিস না বুঝে আর ও করেছে বুঝে!' বলুন দেখি, এটা একটা যুক্তি হলো? ঠিক এই অন্ধযুক্তিটাই আমরা দিয়ে আসছি এখানেও। আমরা মানে আমরা মাইনাস আমি। আপনারা রবীন্দ্রনাথকে মাথায় তুলে ধেই ধেই করতে গিয়ে দুটো অকল্পনীয় অপরাধ করেছেন। কি কি? এক, আপনারা বহু লেখককে তাদের প্রাপ্য লাইমলাইট থেকে নির্মমভাবে বঞ্চিত করেছেন এবং এখনো করছেন আর দুই, আপনারা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি চটকে একগাদা আবর্জনা পয়দা করেছেন যেটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। হেন্স আই চোজ্ টু কিল রবিঠাকুর অল বাই মাইসেল্ফ। আমি চাইনি ভদ্রলোক আমার হাতে খুন হোক, রাদার বেঁচে থাকলে উনি আরও দু'হাজার লেখা দিয়ে যেতে পারতেন কিন্তু একইসাথে ওনাকে নিজের সৃষ্টির নির্মম পতনও দেখতে হতো। সেদিক থেকে আমার এই হত্যা বা বারংবার হত্যার কাজ মার্সি কিলিং এর আওতায় পড়ে। কারণ এই হত্যার মধ্যে দিয়ে আমি শিল্পী ও শিল্প দু'জনকেই বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। শিল্পী তো তুচ্ছ! সে তো এক্সপ্লোরার! তার কাজ তো শিল্পসমুদ্রে ডুব মেরে গভীরে প্রোথিত মণিমাণিক্য কুড়িয়ে আনা! শিল্প তো বয়ে যাওয়া নদী, আর শিল্পী তাতে বিরামহীন অবগাহনে মত্ত! দেখলেন এখানে কিন্তু আমি 'স্নান' বললাম না। 'অবগাহন' বললাম। খেয়াল করলেন? স্নান একটি অতি ছেদো শব্দ। 'কোথায় চল্লি রে? এইত্তো চানে।' কিন্তু অবগাহন? শব্দটা উচ্চারণ করুন। আহা করুনই না একবার! অ ব গা হ ন। আত্মার শুদ্ধি হলো না কির'ম একটা? বাদ্দিন আপনি বুঝবেন না, আপনি ক্যানো আপনারা কেউ বুঝবেন না, যদি বুঝতেন তাহলে রবীন্দ্রনাথের 'নিভে' আর 'নিবে' ব্যবহারের ফারাক বুঝতেন আর দু'টোকেই ওইতো একই হলো বলে কামিনী প্রকাশনার 'সেরা পঞ্চাশটি রবীন্দ্রগান' বলে পেপারব্যাকে ছেপে বের করতেন না। বের করলে রেগে যেতেন, পুড়িয়ে ফেলতেন ওর'ম বই। যাগ্গে, যা বলছিলাম, আমার এই হত্যা বেসিকালি শিল্পের বাস্তিল দুর্গকে পতনের হাত থেকে বাঁচানোর একটা একক প্রচেষ্টা। এবং এতে আমার কোনো অহংবোধ নেই। আমার মনে হয়েছে একজন সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করা জরুরি, এবং আমি তা সফলভাবে করতে পেরে যারপরনাই উৎফুল্ল। আপনাদের ভার্ডিক্ট আমাকে কোনোভাবেই মর্মাহত করবে না কারণ আমি জানি আমি না থাকলে আপনারা সবাই মিলে প্রথমে রবিঠাকুরকে আর তারপর ধীরে ধীরে সাহিত্যকে সামগ্রিকভাবে কবর দিতেন। এবং সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো এই কাজটা আপনারা করতেন অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে। অতএব, মহাশয়, এ বরমাল্য আমি সাদরে গ্রহণ করবো...

Monday, February 20, 2017

মধ্যম পুরুষ -- শ্রীময়


ল্যাঙ্গুয়েজ ডে! খায় না মাথায় দেয়? হোয়াট হ্যাপেন্ড এই দিনটাতে? এই তো এতো গুলো 'ডে' গেলো হুড়মুড় করে, সেই লিস্টে তো এটা ছিল না! সত্যি মাইরি! গোটা ফেব্রুয়ারি মাসটাই এই সব আলবাল ডে'তে চলে গেলো! হুজুগে পাবলিক সব!

যাকগে ছাড়ুন। এসব নিয়ে ফালতু টাইম ওয়েস্ট করে লাভ নেই। আপনারও অনেক কাজ আছে, আমার তো আছেই... তারচেয়ে বরং আসুন একটু আড্ডা মারা যাক। তবে হ্যাঁ, আগেই বলে রাখছি আমি কিন্তু ওই পেজ-থ্রি গসিপ টসিপ-এ নেই। ওসব আমি একদম টলারেট করতে পারিনা। কি বলছেন? টপিক? ধুউউউরর... আড্ডা দিতে বসে টপিক নিয়ে ভাবলে চলে!! যা মনে আসছে, তাই দিয়েই স্টার্ট করুন। কিচ্ছু মনে আসছে না? কিস্সু না! কে রে ভাই! আচ্ছা দাঁড়ান, আমি এট্টু ভেবে দেখি...

মিল গিয়া! আচ্ছা আপনি ছোটবেলায় কোন স্কুলে পড়তেন? না, মানে হোয়াট আই'ম ট্রাইং টু নো ইজ- ইংলিশ মিডিয়াম না বেঙ্গলি মিডিয়াম? আমি কিন্তু পাতি বেঙ্গলি মিডিয়াম। সিক্স-এ প্রথম ক্লাসে এ, বি, সি, ডি পড়ানো হয়েছিল। লার্নিং ইংলিশ, পাতলা করে বইটা ছিল... একদিনেই সব পড়ে ফেলেছিলাম। আসলে আমি বরাবরই ইংলিশে স্ট্রং। সব সময় হায়েস্ট না পেলেও বেস্ট ফাইভে থাকতাম। এখনো ক্লিয়ারলি মনে আছে, ইংরেজির জন্য একটা আলাদা কপি করেছিলাম। দ্যাট ওয়াজ মাই সিঙ্গেল কপি, যেটা ব্রাউন পেপারে মলাট দেওয়া ছিল। মলাটের ওপরে সাদা কাগজ হাফ সার্কেল করে কেটে, তার পেরিফেরি বরাবর লেখা ছিল "ইংলিশ ফেয়ার কপি ফর মিস্টার এস.এস.রে"। হাফ সার্কেল থেকে তিন আঙ্গুল নিচে আবার একটা কাগজ স্কোয়ার করে কেটে, তার ভেতরে লিখেছিলাম নেম, রোল নাম্বার, ক্লাস।

Monday, September 22, 2014

যাদবপুর-কাণ্ডে নতুন মোড়, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ!

!! টাটকা খবর !!


নিজস্ব প্রতিবেদন:  হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়িটার ঠিক নিচে ‘ ভারতীয় ইন্দ্রজাল মন্ত্রক’ এর সদর দফতরের প্রধান প্রবেশ পথ বানানো নিয়ে অনেকের মনেই ঘোর সন্দেহ ছিল। একে কলকাতা মোটেই দেশের রাজধানী নয়, তার ওপর ওই রকম প্রচণ্ড ভিড় স্টেশনে দুমদাম কিছু গোলমেলে লোকের একটা বিশেষ জায়গা থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটা ভীষণরকম সন্দেহ তৈরি করতে পারে ‘ মাগ্‌ল্‌’ দের মনে, জোর গলায় এই রকম দাবী তুলেছিল উত্তর ভারত লবি। শেষ পর্যন্ত সরকারি হস্তক্ষেপে, মানে পি. সি. সরকারের কড়া চিঠিতে গোলমাল মিটেছিল। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, চিঠিতে নাকি কলকাতা দারুণ ‘ ম্যাজিকাল’ আর ওই বড় ঘড়ির নিচে প্রতিদিন এত লোক দাঁড়িয়ে থাকে আর এত ঘন ঘন তাদের মুখ বদলায় যে ওখানেই প্রবেশপথ সবচেয়ে নিরাপদ – এমন সব সওয়াল করে অনেক কথা বলা ছিল। সে সব কথা যে ঠিক, সে তো অনেকদিনই প্রমাণ হয়ে গেছে।

সে যাই হোক, ঠিক ওই জায়গাটাতেই সকাল থেকে প্রবল ব্যস্ততা। হুড়মুড় করে

Monday, July 1, 2013

আনন্দবাজার পত্রিকার উপকারিতা -- তপোব্রত

বঙ্গ জীবনের অঙ্গ শুধু বোরোলিনই নয় - আনন্দবাজার পত্রিকাও। গত ৯০ বছর ধরে যে দৈনিক পত্রিকা বাঙালিকে খালি এগিয়েই নিয়ে যাচ্ছে, এই লেখায় তারই সামান্য গুণ-কীর্তন।


১
প্রতিবেশীর ছেলে বিল্টু ইস্কুলের পরীক্ষায় GK- তে আপনার খোকনকে টপকে যাচ্ছে।
পাড়ার হকারকে বলে রোজ বিল্টুদের বাড়িতে আনন্দবাজার ফেলবার ব্যবস্থা করলেন।
পরের পরীক্ষায় বিল্টু ‘নীল তিমির ডিম ফুটে বাচ্চা হয়’ নিয়ে লিখে GK- তে ১০০-র মধ্যে সাড়ে তিন পেল।

২
পাড়ার ক্লাবের ছেলেগুলো সবসময় ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ে আলোচনা করে আর আপনার ফুটবলের ফান্ডা নিয়ে হ্যাটা দেয়। পাড়ার ফুটবল কুইজ জেতা নিয়েও ওদের হেভি ঘ্যাম। পাড়ার ক্লাবে রোজ শুধু আনন্দবাজার রাখার ব্যবস্থা করলেন। 
পরের মাসে পাশের পাড়ার কুইজ থেকে ছেলেগুলো মুখ চুন করে ফিরে এল। জানা গেল, মেসী চেলসির গোলকিপার আর অ্যালেক্স ফার্গুসন ইতালির দল ডর্টমুণ্ডের কোচ বলায় প্রথম রাউন্ডেই নাম কাটা গেছে।

৩

অফিসে লোকজন ক্রিকেট আর আইপিএল নিয়ে কথা বলে বলে আপনার মাথা ধরিয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ আনন্দবাজার খুলে ম্যাচ-রিপোর্ট জোরে জোরে পড়তে লাগলেন।
কয়েক মিনিটের মধ্যে ঐ ম্যাচ-রিপোর্ট থেকে আলোচনা ভীমনাগের সন্দেশ, ক্যাটরিনা কাইফ আর রাহুল গান্ধীতে পৌঁছে গেল।



Monday, April 29, 2013

পিয়ানো-ওয়ালা -- সুনন্দ


১
পলের বাবা-মা ওর ছোটবেলায় ওকে অন্য অনেকের মতোই পিয়ানো শিখতে বাধ্য করেছিলেন। সে বয়সে কি আর অত শান্ত সুর ভাল লাগে? নিয়ম করে রেওয়াজই বা কাঁহাতক সহ্য হয়! তাই সে চেষ্টা বৃথা গেল। বেশ খানিকটা বড় হয়ে, নানা ঘাটের জল খেয়ে, নিজের দেশ উটায় ফেরত আসার আগে নতুন করে প্রেমে পড়তে হলো- ডিজিটাল পিয়ানোর প্রেম। নেহাত শখেই পিয়ানো, আর তার নানা ঘুপচি খবর জেনে ফেললো পল। তবে আমাদের অনেকের মতোই সে সব জানা ওর কোন কাজে লাগেনি। দেশে ফিরে ও কাজ নিলো এক পানীয় জল সরবরাহ করে, এমন সংস্থায়।

ওর যাতায়াতের রাস্তায় একটা ইয়ামাহা পিয়ানোর দোকান পড়ে। সেখানে জল পৌঁছে দিয়ে একদিন ও বসে নতুন ক্ল্যাভিনোভা ডিজিটাল পিয়ানোয় টুংটাং করছিল, এমন সময় এক ভদ্রলোক দোকানের দরজা খুলে ভেতরে এসে ওকে জিজ্ঞেস করলেন এই যন্ত্রটা কি?(আহা, আমাদের সঙ্গে এরকম হয়না কেন! মাঝেমাঝে মনে হয় না, যে বিষয়ে গুচ্ছের জেনে গেছেন, যেটা খুব বেশি ভালবাসেন, তা নিয়ে কেন কেউ একটাও প্রশ্ন করেনা?) লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে পল দেখাতে শুরু করলো ক্ল্যাভিনোভা ঠিক কি আর কত মজার কাজ করতে পারে। কিছুটা যন্ত্রের গুণে, আর বেশ খানিকটা ওর ছোঁয়াচে উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে ভদ্রলোক কিনেই ফেললেন জিনিসটা। মনে রাখবেন, দেশটা আমেরিকা হলেও আর যন্ত্র ডিজিটাল হলেও- একখানা পিয়ানো বেচে ফেলা কিন্তু চাড্ডিখানি কথা নয়! দোকানের মালিক যারপরনাই খুশি হয়ে পলকে দোকানে চাকরির প্রস্তাব দিলেন আর পলও এককথায় রাজি হয়ে গেল!
রাজি হওয়ার কারণ আছে। ওই দোকানেই এক সোনালি চুলের কন্যে কাজ করেন- যার সঙ্গে দু-দণ্ড আলাপ করার ইচ্ছে পলের অনেকদিনের।

Monday, March 25, 2013

আ মোলো বাংলাভাষা -- সুনন্দ


যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাঘা যতীনের দিকে যেতে সুলেখা মোড় পেরিয়ে ডানদিকে একটা ‘ক্যাফে কফি ডে’র আউটলেট। বিকেলের দিকে প্রায় প্রতিদিনই ফাঁকা থাকে। স্বাভাবিক। অন্তত ইউনিভার্সিটির গড়পড়তা ছাত্র-ছাত্রীরা যে এখানে আসবে না, সেটা বলাই বাহুল্য। হাতখরচের টাকা বেশি খরচ করে খেতেই যদি হয়, তবে সামান্য দূরেই সাউথ সিটি আছে, বৈচিত্র্যের পসরা সাজিয়ে। এখানে আসে প্রধানত প্রেমী-যুগল – হয় ডাক্তারি, নয় ব্যবসার পিতৃদত্ত পয়সার মালিক, নয়তো নতুন প্রেমে পড়া মধ্যবিত্ত ছোকরা – ছোটবেলায় নচিকেতার ‘...মোটা মানিব্যাগ দেখে/ তোমাকে সাইডে রেখে/ দৌড়বে সোজা, সোজা দৌড়বে প্রেম...’ কথাটায় বেজায় ভয় পেয়ে তিনদিন টিফিন না খেয়ে জমানো টাকা উড়িয়ে মেয়েটিকে ইম্প্রেস করবে বলে, নয়তো মধ্যবয়স্কা নারীর দল – সমাজ বা প্যান্টালুন্‌স কিছু একটা উদ্ধার করে শরীর জুড়োতে আসা। এখানেই বসে গম্ভীর মুখে ল্যাপটপ খুলে দেশোদ্ধার করার ভান করছি। আসলে কিন্তু কান পড়ে আছে পাশের টেবিলে ট্যাঙ্ক-টপ আর হোঁৎকা বয়ফ্রেন্ডের অধিকারিণী চটকদার মেয়েটির কথার দিকে।

আজকের লেখার বিষয় এই কফিশপ-বিশ্বায়ন হতে পারতো – ‘আহা আমাদের কফি-হাউসের কি হবে গো!’ বলে চাড্ডি কান্নাকাটি করার সুযোগ থাকতো। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা কি করে তরুণ সমাজের পকেটের গভীরতায় প্রতিফলিত হয়, সে নিয়ে পাঁচ পাতা প্যাঁচানো যেত। এমন কি ওই হোঁৎকা ছেলেটির ক্রমবর্ধমান মেদপুঞ্জ আসলে কিভাবে মুক্ত-বাণিজ্যের ষড়যন্ত্র আর ষড়রিপুর ফল, সে নিয়েও কিছু বিদ্যে ফলানো যেত – কিন্তু এ সব মাটি করল ওই মেয়েটা। 

প্রথমে খেয়াল করিনি। আধা-ইংরেজি, আধা হিন্দিতে বকবক শুনে ভেবেছিলাম

Tuesday, January 22, 2013

ফুটপাথের গন্ধভার ও পুরনো বইয়ের কিস্যা -- সুশোভন


যে রাস্তাটা মির্জাপুর থেকে সোজা চলে গেছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গা ঘেঁষে, ফুটপাথ জুড়ে সারি সারি বিন্যস্ত প্রচ্ছদ ও পুরনো গন্ধভারে আক্রান্ত।
কলকাতার ফুটপাথে স্বনামধন্য বা উদীয়মান লেখকদের আজও কোনোদিন হাত পেতে বসতে হয়নি যেমনটা বিদেশের ফুটপাথে গায়ক, লেখক থেকে অভিনেতাদের হয়। তবে এই শহরে লেখকদের বই বহুদিন আগে থেকেই ফুটপাথে এসে গলাগলি করে দাঁড়িয়েছে।
সেখানে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মানেনি কোনও পক্ষপাতিত্ব ধার ধারেনি। এবং তারা ফুটপাথে এসে দাঁড়িয়ে লেখকদের আসার পথ সুগম করেছে। বই এসেছে অথচ লেখক আসেননি এটা নেহাতই ভাগ্যের কথা বটে।
ফুটপাথের এপাশে প্রকাশক আর ওই পাশে প্রকাশিত বইয়ের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি কলেজ স্ট্রীটে যেরকম দেখা যায়, এরকম আর কোথাও দেখা যায় কিনা সন্দেহ।
মধু কবি বলেছিলেন ‘জন্মিলে মরিতে হবে/অমর কে কোথা কবে!
ঠিক তেমনই লিখলেই একদিন সেই বই ফুটপাথে আসবেই। ব্যাপারটা একটা বৈজ্ঞানিক নিয়মের মতোই ক্রমে এমন অকাট্য হয়ে উঠেছে যে, অনেক ‘বইপাগল’- কেও এই নিয়ম অনুযায়ী বই সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

কলকাতা শহরে যে কয়েক শ্রেণীর ‘উন্মাদ’ বা ‘বাতিকগ্রস্ত’ লোক আছেন তার মধ্যে বইপাগলরা অন্যতম। ফুটপাথের বইয়ের প্রধান ক্রেতা তাঁরাই। সমস্ত কলকাতা শহরের অলি গলি, রাস্তা ঘাট তাঁরা চষে বেড়ান। ফুটপাথের বইয়ের সমস্ত ‘সেন্টার’ তাঁদের নখদর্পণে। সিনেমা, থিয়েটার বা কোনও আড্ডাতে তাঁরা যান না, যাওয়ার সময় ও নেই , মাথার মধ্যে সব সময় ফুটপাথের বই ঘুরছে। এবং তার সন্ধানে তাঁরা অবসর সময়টুকু দূরে দূরে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

Tuesday, January 8, 2013

শিরে-সংক্রান্তি -- নির্মাল্য

পৌষ মোদের ডাক দিয়েছে। ছুটে আসার কারণ আছে বৈকি। শীতের মাঝখান বরাবর এই মাস শেষ হলেই বাংলার হেঁশেল সরগরম। আজ্ঞে হ্যাঁ পিঠে খেলে পেটে সয়- প্রবাদটি আর সর্বতোভাবে সত্যি না হলেও “চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী”র মতো বাঙালি না শুনে স্বাস্থ্যের কাহিনী। কাজেই ময়দা, আটা, চালের গুঁড়ো, খেজুর গুড়, ক্ষীর, দুধ, ঘি এবং হাল্কা ডালডা সহ বাঙালি নেমে পড়বে রসনাতৃপ্তিতে। বিশেষ একটা দিনও ঠিক করা আছে। ঘটা করে নাম দেওয়া হয়েছে পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর আরাধনা করে ঠাকুরের জন্য সামান্য ঘুসের ব্যবস্থা- তিলুয়া ভোগ। বস্তুটি আর কিছুই নয়। কদমা জাতীয় চিনির ড্যালা ও তার মধ্যে গুটিকতক সাদা তিল। ঈশ্বর বোধহয় সত্যিই সর্বংসহ। তা নইলে ভগার ভাগে এতটুকু দিয়ে ভক্তের নিজের জন্য এই রাজকীয় আয়োজন বরদাস্ত করতেন না কখনই। যাহোক, ওনাকে ওনার বাঁশি এবং প্রেমিকা সহ ঠাকুরঘরে ‘বিশ্রাম’ দিয়ে চলুন হেঁশেলের দরজা খুলি।

বড়দিনের কেককে দু’শো শতাংশ চ্যালেঞ্জ জানানো এই অমৃত পদটির নাম পিঠে। বাঙালির একান্ত নিজস্ব সৃষ্টি। মূলত দু’রকম ভাবে এটি খাইয়ে আসছেন মা-ঠাকুমারা। দুধে সেদ্ধ করে বা সেরায় ডুবিয়ে। আর এই পিঠে তৈরির হরেক প্রণালীর পেছনে সমান্তরালে রান্না হয়ে চলে হাজারো রীতিনীতি ও সংস্কার। প্রথম বিজয়ী ও জনপ্রিয়তম প্রতিনিধি হলো পুলিপিঠে। চালের গুঁড়ো, ময়দা একটু সুজি দিয়ে বস্তুটির খোলস তৈরি হয়। এই চালের গুঁড়ো নির্বাচনেও বঙ্গগিন্নি careful. সিদ্ধ চালের গুঁড়ো ব্যবহারে নরম পিঠে ও আতপ গুঁড়ো থেকে একটু শক্ত পিঠে- প্রয়োজন ও রুচি অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়। পুর তৈরি হয় দু’ভাবে- নারকোল কোরা ও আঁখি গুড় পাক দিয়ে বা নারকোল কোরা ও ক্ষীর জ্বাল দিয়ে। খোলসের ভেতরে ঐ উপাদেয় পুরটি পুরে দিয়ে পটলের মত আকারের পিঠে রান্নার জন্য প্রস্তুত- প্রেমিকার পটলচেরা চোখের চাইতে বহুগুণে বেশি আকর্ষণীয় (আসলে প্রথম ক্ষেত্রে ঐ চোখের চোখরাঙানীও সহ্য করতে হয় কিনা!)।

Friday, November 30, 2012

কালীঘাটের পট -- সুশোভন


পটচিত্র ঐতিহ্যানুসারী শিল্প। এই চিত্রধারা বংশপরম্পরায় একটা স্রোতের মতো এক শিল্পী থেকে অন্য শিল্পীর কাছে যায়। তাই বলা হয় পটচিত্র অনভিজাত এবং শিক্ষা নিরপেক্ষ সংহত এক সমাজের ঐতিহ্যানুসারি শিল্পী মনের প্রকাশ। চিত্র অঙ্কনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, রঙের বিন্যাস, অঙ্কন শৈলী, অলংকরণ, প্রতীক ভাবনা সবই একটি সংহত গোষ্ঠীর মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। আবার পরীক্ষা নিরীক্ষার দ্বারা বিকশিত হয় গোষ্ঠীর ফসল হিসেবে। পটচিত্রে কোনও কোনও লোকাচার ও লোকবিশ্বাস জড়িয়ে থাকে। কিছু বিখ্যাত পটের নাম করলে শুরুতেই আসে পুরুলিয়ার চক্ষু দান পট, কালীঘাটের ঘট পট, মনসার পট ইত্যাদি। পটচিত্রকে formalized folklore এর মধ্যে ফেলা যায়। বাকআশ্রয়ী এবং শিল্পাশ্রয়ী বিষয় নিয়েই formalized folklore। শিল্পাশ্রয়ীর মধ্যে নকশিকাঁথা, নকশি পিঠা, নকশি বিছা, নকশি পুতুল, নকশি পাখা, আলপনা, দেওয়াল চিত্র, কুলোচিত্র, পাটা চিত্র, পটচিত্র, মুখোশ চিত্র, অঙ্গচিত্র, শোলার কাজ, কেশ বিন্যাস, শাঁখের অলংকার, দশাবতার তাস ইত্যাদি।

‘পট’ শব্দটি ব্যাঞ্জনাময়।
‘পট’ শব্দটির গঠনগত অর্থ পটি + অ (অচ)-ণ-বস্ত্র।

লেখা বা চিত্র আঁকার জন্য বস্ত্র খণ্ডকেও পট বলা হয়। চিত্র আঁকার কাঠাদিকেও পট্ট বলা হত। চিত্রপট বা ছবিও পট নামে চিহ্নিত হত। সংস্কৃত ‘পট্ট’ শব্দের অর্থ কাপড়। পরবর্তীকালে বস্ত্রখণ্ডের ওপর অঙ্কিত চিত্রই পট নামে চিহ্নিত হয়। কাপড়ের ওপর যাঁরা ছবি আঁকতেন, অতীতে তাঁরাই পট্টিদার>পট্টিকার>পটকার>পটুয়া।

এরা কোথাও পোটো, চিত্রকর বা পাইক্কা নামেও চিহ্নিত। পরবর্তীকালে কাগজ আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে কাপড়ের ওপর চিত্র অঙ্কন ধারাই কাগজের ওপর এসে পড়েছে। ভারতবর্ষের প্রাচীন পুঁথিগুলোতে পটের উল্লেখ দেখা যায়। পাণিনির অস্থাধ্যায়ী বর্ণিত গ্রামশিল্পীকেই পটিদার বা পটুয়া বলা হত। গ্রন্থটির সময়কাল গবেষকদের মতে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক। ‘পতঞ্জলির মহভাষ্য’, ‘অভিজ্ঞানম শকুন্তলম’, কিংবা অষ্টম শতকে রচিত বিশাখাদত্তের ‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটকে পটুয়াগণ গুপ্তচর বৃত্তিতে নিযুক্ত। এইসব গ্রন্থে পটুয়া প্রসঙ্গ থাকায় বোঝা যায় চিত্রকর বৃত্তি এক প্রাচীন বৃত্তি। শাস্ত্রের বিধান মেনে কাপড়ের ওপর যাঁরা ছবি আঁকতেন তাঁরা অধিকাংশই ছিলেন বৈশ্য বা শূদ্র সমাজের অন্তর্ভুক্ত। ক্ষত্রিয়দের চিত্র অঙ্কন নিষিদ্ধ না হলেও পেশা হিসেবে ক্ষত্রিয়রা একাজ করতেন না। ব্রাহ্মণের পক্ষে চিত্র অঙ্কন নিষিদ্ধ। এমনকি নট নর্তক এবং শিল্পীদের ঘরে অন্ন গ্রহণ ব্রাহ্মণদের পক্ষে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে ছিল। তৎকালীন সমাজকে পরিচালনা করত শাস্ত্র। চিত্র অঙ্কনের ক্ষেত্রেও শাস্ত্রের নির্দেশ ছিল। পট বিশ্বকোষ বলছে 

Tuesday, November 20, 2012

কিস্তিমাত -- তপোব্রত


“কিস্তিমাত!”
কথাটা শুনে দাবার বোর্ড থেকে মুখটা তুলে একবার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখের দিকে তাকালেন আর্থার। চশমার আড়ালে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চোখগুলো তখন খুশিতে জ্বলজ্বল করছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বোর্ডের দিকেই চোখ ফেরালেন তিনি। কোনো রাস্তা আছে কি কিস্তি বাঁচানোর?
বোর্ডের ওপর গুটি বেশি নেই। অনেকক্ষণ ধরে খেলা হচ্ছে তাই বেশিরভাগ গুটিই বোর্ডের বাইরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর্থারের সাদা রাজার সঙ্গে তিনটে বোড়ে, একটা গজ আর একটা নৌকো আছে। উল্টোদিকে রাজার সঙ্গে গজ, নৌকো তো আছেই আর আছে একটা ঘোড়া আর সেটা দিয়েই জব্বর কিস্তিটা খেয়েছেন তিনি, রাজাকে সরানোর কোনো রাস্তাই তাঁর কাছে নেই, সরালেও সেটা পড়ে যাবে গজ বা নৌকোর সামনে। অনেকক্ষণ ভেবেও কোনো রাস্তা না পেয়ে বোর্ড ছেড়ে উঠে পড়লেন তিনি। তাঁর প্রতিপক্ষ এতক্ষণ মুচকি মুচকি হাসছিলেন। এবার তাঁকে উঠতে দেখে বললেন, “কি হলো হে ডাক্তার? Dark Knight-এর চালটায় রণে ভঙ্গ দিলে আজকের মতো? আচ্ছা হিসেবটা লিখে রাখি! কত হলো বলো তো? ২৩৮৭-২৩৪২?”

Thursday, September 6, 2012

অন্ধকারের রাজপুত্র -- হিজিবিজবিজ

গল্পের ভিলেন একটা গোটা শহরকে জ্বালিয়ে তছনছ করে দিয়ে বাধ্য করেছে নায়ককে রাস্তায় নামতে। নায়ক যখন প্রচণ্ড ক্রোধে ধেয়ে আসে তার দিকে সে নায়ককে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করে না। মৃত্যুবরণে তার কোন অনীহা নেই। বরং সে চায় তাকে হত্যা করে নিজের চারপাশে গড়ে তোলা আদর্শের ইমারত ভেঙ্গে বেরিয়ে আসুক নায়ক। সে মনে করে আদর্শ, ন্যায়-অন্যায় বোধ, এসব মানুষ ততক্ষণই কপচায় যতক্ষণ তার চারপাশের দুনিয়াটা তার স্বার্থে বিঘ্ন না ঘটিয়ে টিকে আছে। ভালোবাসা, অন্যের প্রতি সহিষ্ণুতা, ইত্যাদি যে গুণগুলো পশুদের থেকে আমাদের আলাদা করে রেখেছে বলে আমাদের গর্ব, নিজের গায়ে আঁচ পড়ামাত্র মানুষ সেগুলোকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে প্রবৃত্ত হয়। এটাই দুনিয়ার নিয়ম...... সাধারণ মানুষের নিয়ম। আমাদের রোজকার হাসি, আনন্দ, দুঃখ, কান্না সবই একটা মুখোশের অভিব্যক্তি মাত্র! পাগলামি নাকি শুধুই আমাদের আর একটা মানসিক স্তর।

Monday, August 27, 2012

ফোটোজেনিক -- কুন্তলা

আমি জানিনা কেন ফোটোশপিং ব্যাপারটাকে এখনও লোকে যথাযথ শিল্পের মর্যাদা দিতে পারছে না। জ্যান্ত মানুষের শরীরের ওপর কসমেটিক সার্জারি, ইমপ্ল্যান্ট, ইলংগেশন, আরও কত রকমের হ্যানা-জব ত্যানা-জব রমরমিয়ে সাম্রাজ্য বিস্তার করে ফেলল অথচ ফোটোর ওপর রঙতুলি ছোঁয়ালেই গেল-গেল রব। অদ্ভুত। 

বছর দুয়েক আগে স্কুলের বাচ্চাদের ছবি পছন্দমত অদলবদল করা নিয়ে খুব শোরগোল হয়েছিল। অনেকে অনেক গলা ফাটিয়েছিলেন। বলেছিলেন এটা জেনেশুনে কচি মনে চেহারা নিয়ে অতিসংবেদনশীলতার বীজ বপন করা ছাড়া আর কিছু নয়। আর যে দল ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সর্বদা সবকিছুর ওপর স্থান দেন, তাঁরা বলেছিলেন বাচ্চাদের বাবামায়েদের যদি বিষয়টায় আপত্তি না থাকে তাহলে বাকিদের মতামতে কিছু এসে যায় না।

Thursday, July 5, 2012

আমার পরাণ যাহা চায়... -- সুনন্দ


“I can’t take my eyes off you…”—Damien Rice
ভেবে বসবেন না যেন, আবার একটা কবর-পচা প্রেমের গল্প বলতে বসেছি। নাঃ, প্রেম নয়, উপরের লাইনটা মনে পড়লো এক ইংরেজি সিরিয়ালের

Thursday, February 16, 2012

বাকিটা ব্যক্তিগত... -- মেঘদূত


যদিও আকাশ ধোঁয়াশায় ম্রিয়মাণ/তোমার জন্য লিখছি প্রেমের গান...

- কবীর সুমন

একটা সময় ছিল যখন বাংলা ছবি ছিল আন্তর্জাতিক। বিশ্বায়ন শব্দটার সাথে বাঙালির কোন সম্পর্ক তখন ছিলনা। তথাপি বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে যখন জা লুক গোদারের ‘আলফাভিল’ গোল্ডেন বিয়ার পাচ্ছে তখন তার সাথে একই মঞ্চে চারুলতার জন্য

Wednesday, September 14, 2011

আজ আমি কোথাও যাব না -- কূপমণ্ডূক


শামসুদ্দিন সাহেব সংসার করেননি। শেষ জীবনে একবার আমেরিকা যেতে চান। গড়পড়তা মধ্যবিত্তর মত দু’চোখে

Wednesday, August 31, 2011

বিদায়-পরিচিত -- সুনন্দ


যে দু’একটা কাজ অল্প অল্প করতে পারি বলে আমার ধারণা, তার একটা আজ করার চেষ্টা করব। সেটা হ’ল সিনেমার

Sunday, August 14, 2011

বে-খবর -- নির্মাল্য

টিভি আসবার পর থেকেই জীবনটা বেশ বদলে গেছে আমাদের, তাই না? মানে বলা

Sunday, August 7, 2011

কালের আচার - কালচার -- ধানসিঁড়ি

ছবির উৎস: লিঙ্ক
"সংস্কৃতি" এ এক বড্ড খটমটে শব্দ। চারশো বছরের বেশি সময় ধরে যে শব্দটিকে

Sunday, July 31, 2011

সাজ - সতেরো -- নির্মাল্য


ছবি: সুনন্দ

সাজসজ্জা। বাংলা অভিধানের অনেক আপাত- নির্বিষ সন্তানদের মধ্যে একটি। বিখ্যাত, সুপ্রাচীন (কারণ ভাষা’র জন্মের অনেক আগে এটি পৃথিবী‘র আলো দেখেছে) এবং victory stand এ ক্ষুন্নিবৃত্তি‘র ঠিক নীচেই দেখা যায় একে। আক্ষরিক অর্থেই আমার-আপনার আপাদনখশির এরই তত্ত্বাবধানে। ব্যাপারটার জন্মকাল সম্বন্ধে পণ্ডিতেরা একমত নন। সম্ভবত ঠান্ডা-গরম-লজ্জা’র হাত থেকে বাঁচানোর অছিলায় ‘বস্ত্র’ ছদ্মনামে সভ্যতার ইতিহাসে এর অনুপ্রবেশ। তারপর “জীবনের প্রয়োজন দেখা দিল Addiction রূপে......কাটিলে সময়”। খুব শীঘ্রই দেহাবরণ ছাড়াও একে একে এসে গেলো দেহাভরণেরা- মাকড়ি, হার, বাজুবন্ধ,

Sunday, July 24, 2011

চলতি কা নাম 'দাড়ি' -- সুনন্দ

ছবি: সুনন্দ


তা, বছর দশেক হবে মন দিয়ে ফিলিম দেখছি। সে অনেক ফিলিম, নিজেরই ভাল মনে নেই অনেক।ও সর্বনাশা নেশায় অনেক কিছুই পোড়ায়। যা এত বছর, এত প্রযুক্তি, এত টাকা ধ্বংস করার পরেও ভাল করে বুঝিনি, তা হল সিনেমার দর্শককে। অথচ, যে যাই বলুক, এক ছাড়া আর অপূর্ণ। “আপনি সিনেমা দেখেন কেন?” ভাল লাগে বলে। “লোকে সিনেমা বানায় কেন?” ভাল বানালে ভাল তো লাগেই,

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই