Wednesday, June 14, 2017

ক্র্যাকপট বা পাগলা জগাই -- অনির্বাণ কুণ্ডু

    
   ক্র্যাকপটের বাংলা করা মুশকিল। আমার নিজের পছন্দ পাগলা জগাই। অর্থাৎ সোজা কথায়, কিঞ্চিৎ ছিটেল। এঁদের দেখা সর্বত্র পাওয়া যায়। আমার কাছে বেশি আসেন বৈজ্ঞানিক ক্র্যাকপটরা, নিজেদের তত্ত্ব শোনাবার জন্যে। এটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর অকুপেশনাল হ্যাজার্ড। এঁদের কথা বিশ্বাস করলে, কয়েক শতাব্দীতে যত জিনিয়াসের আবির্ভাব হবার কথা, আমি এই কয়েক বছরে তার চেয়ে বেশি জিনিয়াস দেখে ফেলেছি।

       পাগলা জগাই বিভিন্ন রকমের আছেন। কেউ খুব গোবেচারা নিরীহ টাইপ, কেউ জেদি, কেউ কিঞ্চিৎ উগ্র, কেউ বিশ্বসংসারের ওপর বেজায় খাপ্পা। এঁদের একমাত্র মিল হলো এঁরা সকলেই কিছু নতুন তত্ত্ব বা যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যার ফলে বিজ্ঞানের বাজারচলতি ধ্যানধারণা সব বদলে যাওয়া উচিত। মুশকিল হলো কেউ এঁদের পাত্তা দিচ্ছে না, ভাগ্য ভালো হলে বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ে একটু মন দিয়ে শোনে আর ভাবে, আহা ইনি কি প্রতিভাবান, আর ভাগ্য ভালো না হলে পাড়ার চায়ের দোকানদার বা বাজারের মাছওয়ালাকে শোনাতে হয়, কেউ কেউ সামনে বা পেছনে আওয়াজও খান। তাই এঁরা আরেকটু পড়াশোনা করা লোকজনের কাছ থেকে স্বীকৃতির আশায় ঘোরেন।

       বাঙালির স্বাভাবিক দুর্বলতা নিষ্ফলের এবং হতাশের দলে থাকাদের দিকে, তাই এই পর্যন্ত পড়েই কেউ কেউ বলে উঠবেন, তার মানে কি প্রচলিত তত্ত্বকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, গুরুবাক্য বলে মেনে নিতে হবে? আর মেনে নিলে কি বিজ্ঞান এগোবে?


Monday, January 23, 2017

একটি মৃত্যু সংক্রান্ত কাহিনী -- তপোব্রত

উৎস
ষোলই জানুয়ারি, সোমবার!

সকাল সকাল যমরাজ সভায় গিয়ে দেখলেন সন্তোষপুরের নিবারণ পাল একটা ছেঁড়া গেঞ্জি আর নীল চেক-চেক লুঙ্গি পরে শুকনো মুখে মোবাইলে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলছেন। চিত্রগুপ্ত (মানে ঐ জহর রায় লুক-অ্যালাইক) তাক থেকে রোজকার হিসেব নিকেশের খাতাগুলো নামিয়ে ধুলো ঝাড়ছে আর দুটো যমদূত এক কোণে বসে গুলতানি মারছে।

“কি ব্যাপার? এটা কে?”- নিবারণবাবুকে দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন যমরাজ। “স্যার, এনার নাম নিবারণ পাল। কাল রাত্তিরে সিগনাল পেয়ে জোড়া-ব্রিজের পাশের গলি থেকে তুলে এনেছি। বাকি ডিটেল চিত্রবাবু জানেন।”- কান চুলকোতে চুলকোতে বললো এক যমদূত, “আমাদের নাম দু’টো মান্থলি পারফর্মেন্সের খাতায় লিখে নিন, তারপর যাই গিয়ে রেস্ট নিই। মেলা পরিশ্রম হয়েছে।”

আজকাল সিন্ডিকেটের বাজারে এইসব পাতি যমদূতরাও যমরাজকে ভয় পায় না। গম্ভীর মুখে মনে মনে ওদের বাপ-বাপান্ত করতে করতে চিত্রগুপ্ত নাম দু’টো লিখে নিয়ে দু’টোকে বিদায় করলেন। এই জানুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছে, এবার ডিসেম্বর অবধি কে ক’জনকে নিয়ে এলো তার ভিত্তিতেই বছরের শেষে ‘যমালয়-শ্রী’, ‘মহাযমদূত’ এইসব পুরস্কার দিতে হবে।

নিবারণবাবু পিটপিট করে ব্যাপারটা দেখছিলেন। যমদূত দু’টো কেটে পড়ার পর গুটিগুটি যমরাজের সামনে এসে একটা সেলাম ঠুকলেন।


ইচ্ছে -- ঐকিক


      - খুব ইচ্ছে করে।
- কি?
- সে জানিনা, শুধু জানি ইচ্ছে করে। ক্যাপসুল লিফটে, গাড়ির মধ্যে, ঘরে, জানালার ধারে, সব সময় ইচ্ছে করে।
- অত ইচ্ছের কি আছে আবার? চুপ করে বোস।
- কিন্তু ইচ্ছেপূরণ না হলে মন খারাপ হয় যে ... তোর ইচ্ছে করে না?
- তোর না শরীর খারাপ? জল খা। কাল জানিস, কি হয়েছে? আমার যে ছোট মাসি জামশেদপুরে থাকে, আরে ... যার বরের ক্যান্সার হয়েছিল ...
- একটু চুপ কর। উত্তর দিবি না, তোর ইচ্ছে করে কি না?
- আমার তোর মত অত বাঁধভাঙা ইচ্ছে-টিচ্ছে করে না বাপু। তোর সবেতেই একটু বেশি বেশি।
- বেশ। এই চুপ করলাম।
- আচ্ছা, ঠিক আছে, আর গোসা করতে হবে না। আমারও মাঝেমধ্যে অল্পস্বল্প ইচ্ছে করে। হল এবার?
- লোকজনের মধ্যে? না আড়াল চাই?
- ধুর! লোকজনের মধ্যে! পাগল নাকি? কেউ না থাকলে ভেবে দেখতেও পারি।
- চল না, এই দেখ, ধারেকাছে কেউ কোত্থাও নেই।
- ধুস! যখন-তখন ইচ্ছে হলেই হয় নাকি?
- হয়। দেখবি?
- ................
- কি হল?
- ......... দেখা।



কয়েক সেকেন্ড পরে জনান্তিকে একটি বায়ুনিঃসরণের শব্দ পাওয়া গেল।

Friday, October 25, 2013

দাড়িদাদু আর মুখোশ মানুষেরা -- ঊর্মি

পর্ব-১

তা বেশ কয়েকমাস আগের কথা, সবে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করা হয়েছে পাড়ায়-পাড়ায়, মোড়ে-মোড়ে, ট্রাফিক সিগন্যাল-এ। কবিগুরুর সৃষ্টির শতবিভক্ত রূপ ক্রমশঃ বিকৃতির আকার ধারণ করেছে। ভাগ্যিস আমার বাড়িতে টেলিভিশন নেই, তাই অত্যাচারটা অন্তত সহ্য করতে হয়নি। তবে শুনেছি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবারে শাহরুখ খানকে রবীন্দ্রনাথ সাজিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন!!! তা আমি যে রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় ফ্যান এরকম দাবী আমি কখনই করবো না (অত লেখা সব এখনো পড়ে ওঠার সুযোগই হয়নি)। তবে আমার মা-এর অতিরিক্ত রবীন্দ্র-ভক্তির জন্য ছোটবেলা থেকে ওঁর অনেক প্রচলিত-অপ্রচলিত সৃষ্টির সাথেই মোটামুটি পরিচিত আছি।

তা হয়েছে কি, পাশের ক্লাবের মাইকে “ক্লান্তি আমার ক্ষমা কারো প্রভু” শুনতে শুনতে আর প্রায় আট-দশ হাজার (সঠিক জানা নেই) গান, কবিতা, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ইত্যাদি ইত্যাদি লেখার সময় বাদ দিলে খাওয়া-দাওয়া-ঘুমের জন্য ওঁর ঠিক কতটা সময় বাঁচতো সেই হিসেব করতে করতে নিজেই ক্লান্ত হয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই বুঝতে পারিনি... ঘুম ভাঙ্গতে দেখি চতুর্দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, বুঝলাম নিশ্চয় লোডশেডিং হয়েছে। হাতড়ে হাতড়ে বারান্দায় পৌঁছে যা দেখি তাতে নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না!!! অনেক দিন থেকেই আমার বাড়িতে ঝুলবারান্দার খুব শখ; কিন্তু ভাড়ার ফ্ল্যাটে থেকে সে শখ মিটল কই। চোখ কচলে ভালো করে দেখলাম সত্যিই এক লম্বা ঝুলবারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, শুধু তাই নয় সেটা আমাদের 'আপন-নীড়'  ফ্ল্যাট বাড়িও নয়-পুরনো জমিদার আমলের কোনো বাড়ি।  চাঁদের আলোয় এটুকু বোঝা যাচ্ছিল যে কোনো বনেদী পরিবারের বাসস্থল হবে সেটা। পূবদিকের একটা ঘর থেকে যেন ক্ষীণ একটা আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে মনে হলো। আমিও গুটি গুটি পায়ে সেদিকে পাড়ি দিলাম এই আশা নিয়ে যে আমার হঠাৎ এই জমিদার বাড়িতে হাজির হবার কোন না কোন কারণ ঠিক  জানতে পারব।



ঘরের বাইরে থেকে দেখে মনে হলো ওটা কারো পড়ার ঘর। বই-এ ঠাসা আলমারি ও তাক পেরিয়ে চোখ থমকালো- একটা লন্ঠন আর তার সামনে বসে থাকা এক বৃদ্ধকে দেখে। খোলা খাতা কলম সামনে রেখে নিবিষ্টমনে ভাবছেন আর সুদীর্ঘ দাড়িতে হাত বোলাচ্ছেন। আমি একটু এগিয়ে যেতে উনি মুখ তুলে তাকালেন আমার দিকে- এ কি? এ যে দাড়িদাদু!!!

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই