Wednesday, July 19, 2017

হেমন্তের কবিতা -- রাজীব

উৎস
আমার ব্যালকনিতে কুয়াশা এলে
আমি তার দাস হয়ে উঠি
জলের প্রতিটি বিন্দু শাসনের
আঙ্গুল দেখায়।
ধ্রুপদী ছন্দ তবু
কিছু কথা বলে যায় কানে।
একফালি হেমন্তের রোদ
উঁকি মারে ভালবাসা হয়ে।
ঋতুচক্রের মতো
লুকোচুরি খেলে যায় মন।
ফাঁদ পাতা হিসেব
ফিরে আসে গ্রীষ্মের দহন বেলায়।
তৃষ্ণার্ত কন্ঠে তখন চেয়ে থাকি
আকাশের নীলে।
আমার ব্যালকনিতে কুয়াশা এলে
তুমি তার দেবী হয়ে ওঠো।

Thursday, July 6, 2017

অরাজনৈতিক -- শ্রীময়

উৎস
হ্যাঁ দাদা, আমি হিসি করে দেয়াল ভেজাই,
সঙ্গে লোক জুটলে কাটাকুটিও খেলি
কানে জল ঢুকলে এক পা তুলে লাফাই
পকেটে পয়সা এলে ফুত্তি কত্তে মদ খাই

হ্যাঁ দাদা, আমি আম বেচতে উঠি বসিরহাট লোকালে
পিঠে রবারের ফিতে মেরে বগলে শব্দ করি
দেখতে কালো খেতে ভালো লজেন বেচি
রাত্তি বেলা ঘরে ঢোকার আগে
কেলাবের টিভিতে সারূপ খানকে দেখে চুল আঁচড়াই

হ্যাঁ দাদা, দেখাসোনা ফিরি, যত দেখবেন তত লাভ
কেনাকাটা আপনার বেক্তিগত চাপ, ওসব আমি বুঝি

কিন্তু এই যে দাদারা, আপনাদের এই ছোট ভাইটিকে
এট্টা  কথা বোঝান দেখি ?
কেন আমার দাদা, বাবার বডি নিয়ে সসান যাওয়ার সময় মার খাবে?
কেন আমার মাসির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে অন্য পাড়ার লোক ?
কেন কালকে সকালে ঠাকুর পোনাম করে লোকগুলো খুন কত্তে বেরোবে?
কেন সোন্ধে বেলা নামাজ পড়ে লোকগুলো মোসাল নিয়ে ঘর জ্বালাতে নামবে?
কেন পোস্সু আমি বাদাম বেচতে বেরোতে পারবোনা ?

কেন তস্সু আমার মাথা, হাত, কাঁধের ঝোলা, দুটো পা

খুঁজতে গেরামের লোক পাসের গেরামে  যাবে?

Wednesday, May 31, 2017

আফ্রোদিতি রিভিজিটেড -- সায়ন্তন

উৎস
আফ্রোদিতি রিভিজিটেড (১)
-------------------------
এখন সকাল শেষ হওয়ার আগে
দু'চারটে পাখি আসে খুদকুঁড়ো লোভে
ফ্যানের বাতাসে ঘরে ঢুকে পড়ে
সেসব পাখির ছায়া দেওয়ালে ভাসে
তারা গান শোনে গল্প করে হাতের আঙুলে
লেখার টেবিলে ছটফট করে
জেনে নিতে চায়--
শেষ কবে আফ্রোদিতির সঙ্গে আমার
দেখা হয়েছিলো।

আফ্রোদিতি রিভিজিটেড (২)
--------------------------
জল জমে আছে। গর্ত আর কাদা পার হয়ে হেঁটে চলা। কতদিন আগে এসব পথে রোদ্দুর উঠতো। হাওয়া ঝলমলে দিন ছিলো সব। বব মার্লের গীটার শোনা যেত সন্ধেবেলা। কয়ামৎপুরের বাড়ির উঠোনে আহির ভৈরবী। ট্যাটু থেকে উঠে আসতো টগবগে এক ঘোড়া। জ্যৈষ্ঠ দিনে দেখি নাই ফিরে আর লাল ধুলো। সেসব এক দিন ছিলো। যখন চারপাশে মায়া আর মায়া। রাতট্যাক্সির আলোয় উৎসব। বাইরে তুমুল মৌসুমি হাওয়া। অবুঝমাড়ের জঙ্গল আর শ্বাপদ আড়বাঁশি।

এখন রাস্তা পার হয়ে ফিরে যাওয়া। অন্য বাতাসে এখন ফুলের গন্ধ।

পরিত্যক্ত অক্ষর কলোনি ছেড়ে আফ্রোদিতি চলে গেছে অনেকক্ষণ।


Wednesday, May 24, 2017

জয়-স্টিক -- শ্রীময়

উৎস
গোলাগুলি পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে
সাদা ধপধপে বরফ ঢাকা রাস্তাই সিলেক্ট করা ভালো

যে রাস্তায় নতুন করে রক্ত খেলার জায়গা নেই
সেখানে টাটকা রক্ত ছড়িয়ে কি লাভ?
তার চেয়ে বরং সাদার ওপরই লাল ভালো মানায়
বেশ একটা ফটফটে, ঝাঁ-চকচকে ব্যাপার,
তার মাঝখানে কটকটে উজ্জ্বল লাল
দেখেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে


Monday, April 24, 2017

আবহাওয়ার খবর -- সৌভিক

উৎস

আজ সারাদিন প্রধানত মেঘলা আকাশ
বিকেলের দিকে আপনার ঘর ও বারান্দায়
মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
বাসন্তী রঙের ওড়না জড়ানো মেয়েটা
নীল রঙের গাড়ীতে চেপে অফিসে চলে যাবে,
জানলা দিয়ে তার গম্ভীর মুখটা দেখে
মেঘ জমবে আপনার বাড়ির গলিতে;
মনে হবে ওই ওড়নাটা জড়িয়ে
মেয়েটা সাইকেল চালালে বা দুপুরবেলা
লোকাল ট্রেনের জানলার ধারে বসলে
বেশি মানাত।
বিকেলের বিমানে মেয়েটা পাড়ি দেবে পশ্চিমে
অনির্দিষ্টকালের জন্য, শহরের আকাশে
ভিড় করবে কিউমুলোনিম্বাসরা;
রাতে যখন বিমান আবু ধাবির মাটি ছোঁবে
আপনার ঘরে তখন ঝোড়ো হাওয়ার সাথে
বজ্র-বিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণের সতর্কতা।
খবর আপাতত এই পর্যন্তই।

Monday, April 10, 2017

নায়িকা-সংবাদ -- সৃজিতা


উৎস
বাসকসজ্জা

ফসলের কণা ঘিরে আয়োজন কৃষকের তূণে।
লোধ্ররেণু, লিপস্টিক, পূর্ণ হয়েছে প্রসাধন...

অচিরেই দেবদূত ভেঙে দেবে শস্যের ঘর

বিপ্রলব্ধা

‘বঞ্চনা’ শব্দ জুড়ে বেড়ে ওঠে শিকড় বাকড়

স্থানকালপাত্ররা পৃথিবীর পরিধি মাপেনি।
মোহনবাঁশির স্নেহে ভেসে এসেছিলো আশ্বাস...

সিম-কার্ড বুঝে নিক খোলস ছাড়ার কথকতা,
ফেলে আসা ফোন রাখে মৃত শহরের দিনলিপি

উৎকণ্ঠিতা

‘পন্থ নেহারি’ রাই, নিভে আসে দ্রুত চরাচর।
প্রলয়ের কাল বুঝি ছুঁয়েছিলো এত ব্যাকুলতা।
সংকেত ভুলে গেলে.. রিংটোন থাকবে তো মনে?


Monday, March 13, 2017

পিতামহের প্রতি -- রাজীব


উৎস


পিতামহ,
তোমার ক্রোধাগ্নি ছড়িয়ে পড়ুক
নক্ষত্রের শিরা উপশিরায়।
মহাকাশের নাভিমূলে ফুটে উঠুক
একান্নটি একান্নবর্তী সংসারের পৃথিবী।
প্রথম পঞ্চাশটিতে থাক শান্ত শ্বেত শুভ্র মনুষ্যকুল।
আর একান্নতম গ্রহটি হোক কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধস্থল।
কুরু বা পাণ্ডব বুঝিনা, আমি শুধু
সেই জীবন যুদ্ধের সৈনিক হতে চাই।

Monday, February 20, 2017

লগবুকে শেষ এন্ট্রি -- অরুণাচল


উৎস

বন্দরে পৌঁছে গেছে মায়াবী জাহাজ
বাতিল কামানে আজ তোপ দাগো। একশ’টা নীরব আওয়াজ
ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়ে যাক নাবিকের লুকোনো বাসনা
সবাই জানুক তবে, আমরা যে আর ভাসবো না।
তার পরে বৃষ্টি শুরু হোক
ধুয়ে যাক তমসুক ... মুছে যাক সমস্ত কুহক
নষ্ট এই সময়ের সমস্ত স্মৃতি গায়ে মেখে
বাতাসেরা নতমুখে জাহাজের ভিজে যাওয়া ডেকএ
এখুনি উড়িয়ে দেবে যাবতীয় শোকগাথাগুলি
ছায়া শুধু রয়ে যাবে। থেকে যাবে অনন্ত গোধূলি।


Monday, February 6, 2017

কবি-জন্ম -- বিবস্বান

উৎস
ছেলেটিকে সবাই বলতো বিষণ্ণ নাস্তিক
আর মেয়েটি প্রতি সপ্তাহে দক্ষিণেশ্বর
ওদের কিভাবে যে আলাপ হলো,
গাছেরা অবাক
হাওয়ারা ফিসফিসিয়ে বললো,
শুনেছ খবর?
এমনকি যে নদীটা প্রত্যেক সপ্তাহে দেখতো প্রণাম ভঙ্গি শান্ত সন্ধেতারার


সেও চমকে উঠলো এমন, লোকে ভাবলো
অসময়ে জোয়ার
ও! বলা হয়নি বুঝি! মেয়েটির নাম সন্ধেতারা


আর ছেলেটির?

গল্পে গল্পে রাতের ওপর মায়ার আলো
আলোয় আলোয় শুদ্ধ স্বরে রেওয়াজ


ওদের মাত্র তেইশ দিনের আলাপ

আলাপ গড়িয়ে চলে বন্দিশের দিকে

Thursday, July 4, 2013

ঋতুবিতান -- রাকা



মুখের যে পাশটায় রোদ পড়ে, সেখানটা চিরসবুজের দেশ। উল্টো দিকটা, স্বভাবতই তুন্দ্রা অঞ্চল।

আজকাল গ্রিল বেয়ে প্রায়ই কিছু না-শীত, না-বসন্ত আশ্চর্য ছায়া নেমে আসে। যারা তাদের চেনে না, তারা ভাবে উল্টোদিকের মাধবীলতা গাছটুকুর ছায়া হয়তো বা। কিন্তু রোদচশমা দিয়ে দেখলে বোঝা যায়, ওরা এক অচেনা প্রজাতি। তাদের হাতে, চুলে, কোমরবন্ধনীতে অন্ধকার সব আকর্ষ, আর কোষের ভেতরে হাজার হাজার বছরের ঘুম। 


তোমারও আছে আয়নাজোড়া আঁখি
নিজেকে বেঁধা লক্ষ সূচিমুখে 
নিজে নিজের হত্যাকারী সেজে
দুঠোঁটে নীল এঁকেছ কৌতুকে

দুই ভ্রূর মাঝখান দিয়ে খাড়া উঠে গেলে আগ্নেয় পাহাড়। উজ্জ্বল টিপ সেখানে দিনরাত্রি কমলারঙের শিখায় জ্বলতে থাকে। অথচ সবাই ভাবত, ও বুঝি মৃত আগ্নেয়গিরি। আর সেই সুযোগে সে আগুনে শান দিয়েছে একটু একটু করে ...


Tuesday, April 9, 2013

স্বপ্ন-সময় -- সঞ্চারী


স্বপ্ন দেখার সময় বয়ে গেছে –

বয়স পেরোয় মানুষ হাজার-লাখো;

দুহাত দিয়ে জামার পকেট খোঁজা

হাতড়াতে হাতড়াতে –

আশাও পেরোয় নড়বড়ে এক সাঁকো।।


Monday, February 4, 2013

আত্মসমর্পণ -- পিয়াল



সেও তো একটা গাছেরই গল্প বটে
বনের মধ্যে, আলাদা তেমন নয়
দু'একটা পাখি খড়কুটো জুড়ে জুড়ে
শূন্য কোটরে বুনেছিল আশ্রয়

প্রাপ্তি বলতে সেইটুকু ছিল শুধু
হুহু হাওয়া আর পঞ্চমে শোনা গান
তারপর সবই ব্যবহার উপযোগী
ভুল করে যাকে গাছ ভাবে অভিমান...

এমন গল্প যদিও ভীষণ চেনা
বলা যায়, বড় বেশি রকমের ক্লিশে
জীবন আসলে ছুটে ছুটে খোঁজে দিশা
লাভ ও ক্ষতির ছকে বাঁধা বন্দিশে

আমিও খুঁজেছি তবুও অতর্কিতে
বুকের মধ্যে ঝড় উঠে গেলে ভাবি
গাছের মতোই শেকড় গেঁথেছি ভুলে
সঙ্গত হবে উপড়ে ফেলার দাবি

তখনই শরীরে পর্ণমোচীর টান
শূন্য কোটর মনের গোপন ঘরে...

সেও তো একটা আমারই গল্প বটে

নিত্য যেখানে পিয়ালের পাতা ঝরে




Thursday, January 17, 2013

অসতর্ক -- অরুণাচল



যে কোনও দিব্যি দিতে বলো ... দেব
তোমাকে আগলে রেখেছিলাম আমার সমস্ত আমিটুকু দিয়ে
ঘরের চার দেয়াল সাক্ষী ... দেয়ালে ঝোলানো ছবি আর
তাদের ঢেকে রাখা টিকটিকিরা সাক্ষী
গ্রিলের জানলা দিয়ে উঁকি মারা রুগ্ন ফুল্ল লতা, তার পাশের একচিলতে আকাশও সাক্ষী
অক্ষরে অক্ষরে যা যা বলেছিলে,
যাতে ঝাঁকুনি না লাগে, যাতে রোদ না লাগে,
যেন ধারে কাছে না আসে নোংরা লালার মাকড়সা, দুশ্চিন্তার ধুলোবালি,
গোপন মরণের ঘুণপোকা,
সব মেনেছি
তোমার পাঠানো সত্যি মিথ্যে সমস্ত বাধা নিষেধ
এখনও সেভাবেই
শুধু মাঝে একদিন ... ঘর পাল্টানোর শেষ সময়ে
অজান্তে হাত ফস্কে মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলে ভালবাসা,
তোমাকে বলিনি ...

Monday, January 14, 2013

নামো -- সুনন্দ


সেখানেই নামো, যেখানে নামার কথা ছিল
উদ্ভ্রান্ত জামার হাতায় কালিঝুলি মেখে বসে থেকো না জানালার সিটে।

লেকের কিনার ঘেঁষে, বাঁকা নারকেল সার
নীলচে রুপোলি জলে একছবি আকাশের ফালি-
তাকিয়ে থেকো না তার উঁচু-নিচু মাপতে আবার
নামতে যখন হবে, কেন আর মিছেমিছি গড়িমসি বলো?

এ তো আর মহাকাশ-গামী কোন যান-টান নয়
নেহাত ভিখিরি কিছু চাকুরের বাস
কনুই-পেটের কিছু মৃদুমন্দ কথন
ঘামে চুপচুপে কিছু অন্তর্বাস
স্টপ স্টপে কিছু ক্লান্ত যাপন

নেমে পড়ো- ধুলো মেখে, হাওয়ায় উড়িয়ে দাও
টুকরো টিকিট আর বাকি যত খুশকির গ্লানি
নেমে যাও- দ্বিধাহীন, শহরতলিরও নীচে
যেখানে ত্রিসন্ধে চলে অকাতর জীবন-দালালি
নেমে এসো। এ শহরে সকলেই আকাশ দেখেছে, কেউ
                           উঠতে পারেনি।

Friday, November 30, 2012

চল ফিরি... -- নীল


ফালতু পথ স্বপ্নহীন
একটা গান বেসুরে
আসছে কাল শুধবো ঋণ
কাজ পেলে, সুদ সমেত।

কথার দাম,কমছে কই
বাজারদর যাচ্ছেতাই
নীল আলো নিভছে ঐ
ঠিক যেন রূপকথাই।

তারচে' চল গা ভাসাই,
জুটবে ঠিক পেটের ভাত।
স্বপ্ন পথ, তরল ছাই
তোর সাথে একটা রাত...

রাত পোহালে আবার সেই ব্যস্ত দিন
এধার ওধার গন্ধ শুঁকে গোয়েন্দা,
মাইক্রো-ফিনান্স, ধান্দাবাজির সুযোগ নিন,
বুক পকেটে লুকোনো সুখ বারান্দা।

সুখের ভ্রমর, বুক আর কোমর, লাবণ্যে
আটকে যাওয়া চটচটে ঘাম, ঠোঁটের দাগ
শরীর জুড়ে অসময়ের ভৈরবী রাগ---
তুই আর আমি চল ফিরি সেই অরণ্যে...

Tuesday, September 18, 2012

নিজের সঙ্গে ভালো থাকা -- অনিমেষ বৈদ্য


এখন রোজ একের পর এক একঘেয়ে সব দিন,
ক্লান্ত পায়ে আসে রোজ, ক্লান্ত পায়ে যায়।
সিসিফাসের মতোই পাথর টানছি অন্তহীন,
ধুলো জমে মনের ভিতর, ধুলো জমে পা’য়।

এতো এতো সম্পর্ক, সম্পর্ক ঘিরে জাল,
লেপটে থাকা অনিচ্ছায়, জড়িয়ে জড়িয়ে থাকি।

Thursday, September 13, 2012

যখন মনে মনেই সুপার স্টার (২) -- পিয়াল

অমর প্রেম

জীবন বড় কঠিন, বড় বাধা
দুঃখ যেন ঢেউয়ের মতো আসে
সন্ধে হলে আকাশে ধ্রুবতারা
স্কাই-স্ক্র্যাপারে আড়াল বারোমাসে

শহর পথে তখন হেঁটে ফেরা
ভুলগুলির ইশারা হাতছানি

Monday, September 10, 2012

কবিতা -- ধীরাজ



পর্ব এক 
অ-নে-ক-দূ-র থেকে হেঁটে এসে দেখলাম 
                            ---------  নদীটা বেঁকে গেছে।
খাড়া পাহাড়টা পাশে হাঁটতে হাঁটতে 
                         ---------   সামনে দাড়িয়ে পড়েছে।
বাঁকের পরের পৃথিবীটা -------- অদেখা, অচেনা  

Thursday, September 6, 2012

একলব্য -- অরুণাচল


বুড়ো আঙুল কেটে ফেলার পর কি হল একলব্য?
নিজের মুখে সবটা বল। কাব্যগাথায় যে যাই বলুক
তোমার তো আর ঠিক সে রকম ভদ্র কিম্বা সভ্যভব্য
সাজার কোনও দায় ছিলনা। তুমি নেহাত পতঙ্গভুক
অসংস্কৃত ব্যাধের ছেলে। মজার কথা তুমি নিষাদ
অস্ত্রশালায় না ঢুকলেও, অস্ত্র চেনো। সেই মহাভুল
ধরল ওরা। ধরল বলেই বুঝিয়ে দিল বাঁচার কি স্বাদ।
কাব্য মানে মিথ্যাকথন। কেউ কী নিজের বুড়ো আঙুল
অবলীলায় কাটতে পারে? নাই বা পারুক। ভয় কী তাতে?
কৌরব আর পাণ্ডবেরা, পারবে সেটা ... গুরুর কসম।
বেয়াদবির শিক্ষা দেবে। মেধার শক্তি ওদের হাতে।
বন্যপশুর সঙ্গে তোমার ভেদ ছিলনা কোনও রকম।
অলীক মূর্তি তৈরি করল অগ্রজ আর অনুজেরাও।
গল্প তৈরি বড্ড সহজ। সাধ্য কি সেই গল্প ফেরাও!

Wednesday, September 5, 2012

পুরনো কথা (৭)

আজ পুরনো কথায় চলুন আর একবার পড়ি 'সঞ্চারী'-র কবিতা 'ধর্মের রঙ'... (১৩/০৯/২০১১; সকাল: ১০:৩২)

তোমার জন্যেই একশো চার বার বিরহে হু হু করে জ্বলেছি
আমারও দোষ আছে তোমার হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া আর হল না!
ওদিকে মেলট্রেন, এদিকে আক্ষেপ- ছুটছে, রাতভোর ছুটছে-
তুমি কি ভাবছিলে? এটুকু বললাম; পালিয়ে বেঁচে যাবে ভেবেছ!

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই