Monday, May 8, 2017

অবসেশন -- বাসবেন্দু

উৎস

"...এটাকে আমি নিছকই 'হত্যা' মানতে পারি না, কারণ 'হত্যা' শব্দটার মধ্যে একটা ডেরোগেটরি সেন্স কাজ করে, প্রাথমিকভাবে। আমার ধারণা এটা ঠিক সেই অর্থে হত্যা নয়। হ্যাঁ, অনস্বীকার্য যে এটা হত্যা। কিন্তু একটা ব্যাপার আপনাকে বুঝতেই হবে যে এই হত্যার একটা লক্ষ্য আছে, একটা সিদ্ধান্তে সে উপনীত হতে চাইছে, দু'জনেই, অর্থাৎ হত্যা মানে দা এক্ট ইটসেল্ফ এবং হত্যাকারী অর্থাৎ আমি, আমরা দু'জনেই চাইছি একটা সার্বিক মুক্তি। কার? না শিল্পীর। আপনি বলবেন সাহিত্যিক, কিন্তু সেটাও তো একটা শিল্পই, নয় কি? মানে কিভাবে আপনি এই ডিমার্কেশন লাইনটা টানলেন? যার হাতে তুলি সে শিল্পী, যার হাতে কলম সে সাহিত্যিক, কে বলেছে আপনাকে? আপনি অমিয়ভূষণ পড়েছেন? পড়েননি সে আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়, নামই শোনেনি তো? আপনি পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ, আপনি শুনেছেনও তাই, আপনাকে সবাই বলেছে রবিঠাকুর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি - শুধু বলেইনি, আপনাকে ইস্কুলে, কলেজে, টিভিতে সর্বত্র ধরে ধরে ব্রেনওয়াশ করে বোঝানো হয়েছে রবিঠাকুরই শেষ কথা। গদ্য, পদ্য, গান, ছোটগপ্পো, ছবি, নাটক মানে ইউ জাস্ট নেম ইট! অদ্ভুত ব্যাপার, আপনার কখনো মনে হয়নি, ক্যানো? এর'ম ক্যানো? ক্যানো একজনই সব পারে আর যদি ধরেও নিই সে পারে, তাহলে আর কারুর পক্ষে কি এর'ম হওয়া সম্ভব না? পুরোপুরি না হলেও, এর শতকরা ষাট ভাগ? বা অন্তত চল্লিশ ভাগ? ভেবেছেন কখনো? ভাবেননি, আপনাকে ভাবতে দেওয়াই হয়নি, আর আপনিও স্বেচ্ছায় ভাবতে চাননি। একটু আগে অমিয়ভূষণের কথা বলছিলাম মনে আছে? উনি শব্দ দিয়ে ছবি আঁকতেন। আপনি হয়তো পড়ছেন অমিয়ভূষণ, পড়তে পড়তে ভাবছেন এনাকে কি বলবো, শিল্পী না সাহিত্যিক? অবশ্য আপনি পড়বেন ক্যানো? আপনি তো জানেনই রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কেউ লিখতে পারেনা, পারেনি, পারবেও না। সুতরাং আপনি চাইবেন আমি ফার্স্ট বয়ের খাতাটাই দেখবো এবং মন দিয়ে দেখবো, আর বাকিরা লিখলেও সেটা ওপর ওপর পড়ে 'হ্যাঁ ভালোই কিন্তু ওর মতন তো না' বলে সব ভুলেটুলে যাবো। আমার দাদু একবার একটা গপ্পো বলেছিলো, দাদু ক্লাসে সেকেন্ড হতো আর ফার্স্টের সাথে তার ওই দু'এক নম্বরের ফারাক থাকতো। তো একবার কি হলো, কোনো একটা পরীক্ষায় আমার দাদু আর ওই জনৈক ফার্স্ট বয় একই ভুল করেছে, অথচ মাস্টার দাদুকে দিয়েছে গোল্লা আর ফার্স্ট বয়কে দুই না তিন নম্বর। তা দাদু উঠে গিয়ে বলেছে যে ওর আর আমার তো একই ভুল, ও নম্বর পেলো কিন্তু আমি পেলামনা ক্যানো? শুনে মাস্টার রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলেছিলো, 'ওরে তুই ভুল করেছিস না বুঝে আর ও করেছে বুঝে!' বলুন দেখি, এটা একটা যুক্তি হলো? ঠিক এই অন্ধযুক্তিটাই আমরা দিয়ে আসছি এখানেও। আমরা মানে আমরা মাইনাস আমি। আপনারা রবীন্দ্রনাথকে মাথায় তুলে ধেই ধেই করতে গিয়ে দুটো অকল্পনীয় অপরাধ করেছেন। কি কি? এক, আপনারা বহু লেখককে তাদের প্রাপ্য লাইমলাইট থেকে নির্মমভাবে বঞ্চিত করেছেন এবং এখনো করছেন আর দুই, আপনারা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি চটকে একগাদা আবর্জনা পয়দা করেছেন যেটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। হেন্স আই চোজ্ টু কিল রবিঠাকুর অল বাই মাইসেল্ফ। আমি চাইনি ভদ্রলোক আমার হাতে খুন হোক, রাদার বেঁচে থাকলে উনি আরও দু'হাজার লেখা দিয়ে যেতে পারতেন কিন্তু একইসাথে ওনাকে নিজের সৃষ্টির নির্মম পতনও দেখতে হতো। সেদিক থেকে আমার এই হত্যা বা বারংবার হত্যার কাজ মার্সি কিলিং এর আওতায় পড়ে। কারণ এই হত্যার মধ্যে দিয়ে আমি শিল্পী ও শিল্প দু'জনকেই বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। শিল্পী তো তুচ্ছ! সে তো এক্সপ্লোরার! তার কাজ তো শিল্পসমুদ্রে ডুব মেরে গভীরে প্রোথিত মণিমাণিক্য কুড়িয়ে আনা! শিল্প তো বয়ে যাওয়া নদী, আর শিল্পী তাতে বিরামহীন অবগাহনে মত্ত! দেখলেন এখানে কিন্তু আমি 'স্নান' বললাম না। 'অবগাহন' বললাম। খেয়াল করলেন? স্নান একটি অতি ছেদো শব্দ। 'কোথায় চল্লি রে? এইত্তো চানে।' কিন্তু অবগাহন? শব্দটা উচ্চারণ করুন। আহা করুনই না একবার! অ ব গা হ ন। আত্মার শুদ্ধি হলো না কির'ম একটা? বাদ্দিন আপনি বুঝবেন না, আপনি ক্যানো আপনারা কেউ বুঝবেন না, যদি বুঝতেন তাহলে রবীন্দ্রনাথের 'নিভে' আর 'নিবে' ব্যবহারের ফারাক বুঝতেন আর দু'টোকেই ওইতো একই হলো বলে কামিনী প্রকাশনার 'সেরা পঞ্চাশটি রবীন্দ্রগান' বলে পেপারব্যাকে ছেপে বের করতেন না। বের করলে রেগে যেতেন, পুড়িয়ে ফেলতেন ওর'ম বই। যাগ্গে, যা বলছিলাম, আমার এই হত্যা বেসিকালি শিল্পের বাস্তিল দুর্গকে পতনের হাত থেকে বাঁচানোর একটা একক প্রচেষ্টা। এবং এতে আমার কোনো অহংবোধ নেই। আমার মনে হয়েছে একজন সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করা জরুরি, এবং আমি তা সফলভাবে করতে পেরে যারপরনাই উৎফুল্ল। আপনাদের ভার্ডিক্ট আমাকে কোনোভাবেই মর্মাহত করবে না কারণ আমি জানি আমি না থাকলে আপনারা সবাই মিলে প্রথমে রবিঠাকুরকে আর তারপর ধীরে ধীরে সাহিত্যকে সামগ্রিকভাবে কবর দিতেন। এবং সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো এই কাজটা আপনারা করতেন অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে। অতএব, মহাশয়, এ বরমাল্য আমি সাদরে গ্রহণ করবো...

Monday, April 3, 2017

খট্‌ -- বাসবেন্দু

উৎস

পুরো ব্যাপারটার শুরুয়াৎ শুক্রবার সন্ধে নাগাদ। মানে গত পরশু। সময়টাও মনে আছে কমলেশের বিলক্ষণ - আটটা পনেরো। সাতটা পঁচিশের আপ কাটোয়াটার ফার্স্ট স্টপেজ চন্দননগর, পরেরটাই কমলেশের। ট্রেন থেকে নেমে, একটা চা খেয়ে, ভাঁড়টা লাইন পার করে ফেলে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” গোছের কথা অনুপমাকে ফোনে জিজ্ঞেস করতে করতে প্ল্যাটফর্মটা পার করে অটোয় উঠতে খুব বেশি হলে মিনিট বারো সময় নেয় বিয়াল্লিশের কমলেশ সরকার। এর অবশ্য হেরফের হয়। হয়, যেদিন উৎপলরাও একই ট্রেনে ফেরে। সেদিন দু’রাউন্ড চা চলে সিগারেট সমেত (বেশিরভাগ দিন দামও মেটায় কমলেশ, আক্ষেপহীন), তারপর নিরুপমদা আর উৎপল এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হাঁটা দেয়, যেদিকটা সাইকেল গ্যারেজ। কমলেশ দু’নম্বর বরাবর সোজা হাঁটে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” বলতে বলতে, স্বাভাবিক। গত পরশুও এর’মই একটা দিন ছিলো। তফাতের মধ্যে, কমলেশের খেয়াল ছিলোনা অটোর জন্য আগলে রাখা খুচরো পাঁচ টাকা কমলেশ বাছাই করা সল্টেড বাদামে খরচ করে ফেলেছিলো এবং চায়ের তিন টাকা দিয়ে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” বলবার সময়ও কমলেশের ঘুণাক্ষরেও মনে পড়েনি পকেটে সর্বনিম্ন টাকার পরিমাণ একশ’, আর স্টেশন থেকে কমলেশের টু বি এইচ কে ফ্ল্যাটের দূরত্বমূল্য সাত। সাতটাকা মাত্র। অতএব, গলির মুখে নেমে, অটোর শেষ যাত্রী কমলেশ, বুকপকেটে হাত দিয়েই উপলব্ধি করে সল্টেড বাদামের কিছুটা দাঁতের গভীর ফাঁকে আটকে আছে যেখানে জিভ পৌঁছোয় না। সুতরাং কমলেশ, রাদার সল্টেড বাদামের অবশিষ্টাংশ উদ্ধাররত কমলেশ, অটোচালকের সাথে নিম্নলিখিত কথোপকথনে লিপ্ত হয়:

অ: “কি হোলো দাদা কি খুঁজ্জেন?”


Monday, March 6, 2017

মাশরুম -- তনুজিৎ

উৎস

ঘুম তখন ভাঙতে যাবে। খুব অল্প সময়ের জন্যে, তখনও আমি ঘুমের মধ্যে, মনে হলো কেউ খাটটা খুব জোরে নাড়াচ্ছে; আমি একটা খুব অদ্ভুত গোঙানির মত শব্দ করে জেগে উঠি, ধড়মড় করে। আচমকা খুব নড়ছে ঘরটা। প্রথম কয়েক মুহূর্তের জন্যে কিছু বুঝে উঠতে পারিনা যে কি হচ্ছে। অসময়ে ঘুম ভাঙলে আমার চোখ খুব জ্বলে আর জল বের হয়, দেখতে অসুবিধা হয়। বিছানা থেকে উঠে মেঝেতে পা দিয়ে যখন দাঁড়াতে যাই তখন জোরালো ধাক্কার মতো পড়ে যাই। যখন প্রথম সাঁতার শিখেছিলাম, তখনো পায়ের তলায় যেরকম একটা অনুভূতি হয়েছিলো, যেটা ঠিক মাটির মতো নয়, সেরকম একটা ভূমিহীন অনুভূতি হলো। আমি কখনও ভুত দেখিনি, তবে মাঝেমাঝে যখন চেনা অন্ধকার কোনাটায় একটা অচেনা বস্তুর অবয়ব কয়েক মুহূর্তের জন্যে দেখি, তখন এক ধাক্কায় একটা ভয় আসে; মাথার ভিতর এক ধাক্কায় রক্ত আসে, গরম করে দেয়, বুকের ভিতর ধাক্কাটা খুব জোর শুরু হয়, হাত-পা বেশ অকেজো অসাড় হয়ে আসে। সেটাও কেটে যায়, যখন দেখি অচেনা বস্তুটা আসলে একটা চাদর বা অন্যকিছু। অল্প সময়ের জন্যে ওরকম একটা হঠাৎ ভয় এলো। কিছুক্ষণ মেঝেতে ওইভাবেই পড়ে রইলাম। আমি যে শহরে থাকি, সেখানে খুব বৃষ্টি হয়, আর দূষণটাও বেশি, তাই

Wednesday, May 15, 2013

নামান্তর -- নির্মাল্য

অনেকদিন আগে, যখন বিজ্ঞান মাথাটাকে পুরোটা মুড়িয়ে খায়নি, মানে যখন পুরনো বাড়ির কার্নিশে ভুতের সাদা কাপড় দেখে ভয় পাওয়ার আনন্দটুকু পেতাম, তখন ক্লাস সেভেন-এর সদ্য গোঁফ ওঠা ‘বড়’ দাদা প্রশ্ন করেছিল, “আচ্ছা, বলত, এমন কি জিনিস, যা ছোট-বড়, জ্যান্ত-মরা, প্রাণী-ভুত সব্বার আছে?” গোল গোল চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেও এরকম সার্বজনীন সম্পত্তির কোন পাত্তা পাই নি। পাড়াতুতো দাদা বিজ্ঞের মত মাথা নেড়ে জানিয়ে দিয়েছিল, সেই বস্তুটি আর কিছুই নয়, সেটি হল “নাম”। সত্যিই তো এটা মনে এল না! সেদিন বুঝলাম ক্লাস সেভেনে উঠলে সত্যিই পণ্ডিত হয়ে ওঠা যায়। তারপর থেকে আজ অবধিও এই ব্যাপারটার তেমন কোন ব্যতিক্রম চোখে পড়ে নি। “প্রাচীরের গাত্রে” “নামগোত্রহীন” ফুলের পরিচয় জমিদার বাড়িতে বসে হয়তো পাওয়া যায়নি, কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা ফচকে ছেলের কাছে ফুলটা বোধহয় অতটাও অখ্যাত নয়। যাই হোক, ধান ভানতে গিয়ে শিবের উদ্দেশ্যে দু’চার কলি গেয়ে নিতে আমার মোটেই ভাল লাগে না। কিন্তু নাম ব্যাপারটা নিয়ে দু’চার কথা বলতে পেলে মন্দ হয় না।

প্রাচীন সংস্কৃত, ল্যাটিন, গ্রীক প্রায় সব ভাষাতেই “নাম” শব্দের মূলটি মোটামুটি একই। তবে প্রাচ্যে “নাম” তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক। আপনার নিশ্চয় মনে আছে,

Monday, November 12, 2012

রান্নাবান্না -- অভীক

আমার বউ মাঝে মধ্যেই অনেক রকম রান্না করে, রকমারি সব নাম, এইরকম নানা ধরনের অদ্ভুত সব রান্না কোথা থেকে যে পায় কে জানে। খেতে কেমন হয় জিজ্ঞেস করলে বলব যে আপনিও একদিন এসে চেখে যান। খেয়ে খারাপ বলার সাহস আমার তো দূরে থাক, স্বয়ং শিবেরও হবে না যদি পার্বতী রান্না করে নিয়ে আসে। মিরাক্কেলে শুনেছিলাম স্বামী দুই প্রকার হয়,
এক) যারা বউকে ভয় পায়, দুই) যারা বউকে খুব ভয় পায়।
নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন আমি প্রথম দলে, এই লেখা যে লিখতে পারছি, সেটাই তার প্রমাণ। প্রথমে ভেবেছিলাম ছদ্মনামে লিখবো, কিন্তু পাছে নিন্দুকে আমায় দ্বিতীয় দলের বলে সন্দেহ করে, তাই স্বনামেই লিখে ফেললাম।

আমার বউ যা-ই রান্না করুক, সেগুলো আমি মহানন্দে খেয়ে নিই, রান্নায় ভালবাসা মেশানো থাকলে সব রান্নাই ভালো লাগে। অবশ্য খেয়ে তখনই খারাপ না বললেও পরে বলি ঠিকই, যখন বউ বলে যে – "সেই রান্নাটা আবার করবো, যেটা খেয়ে তোমার খুব ভালো লেগেছিল"। আমি তখন আঁতকে উঠে সেই রান্নাটা না করতে দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে নতুন কিছু একটা করতে পাঠিয়ে দিই।

অভিযোগ -- সুনন্দ


-      সর্বক্ষণ অন্যের কথা ভাবতে, শুনতে, বলতে আর ভাল লাগেনা। কে কোথায় কার স্বাধীনতা কেড়ে নিলো, কে কবে কার ওপর অত্যাচার করলো, কোথায় কোন নক্ষত্রে ক’টা টিকটিকি দেখা গেছে, সেই নিয়ে আলাপ, প্রলাপ, বিলাপ, আলোচনা, প্রস্তাবনা, সমালোচনা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, দুর্গন্ধ – আর ভাল লাগেনা। আর ভাল লাগেনা এত শব্দ। শব্দ-কল্পদ্রুম মানে অনেক পরে বুঝেছি। ওর মানে কেউ বাজে শব্দ করলে কল্পনা করা যে তার মাথায় দুড়ুম করে হাতুড়ি বসিয়ে দিলাম। Anger Management এর দরকার হবে না, ওই দুড়ুম শব্দেই বেজায় হাসি পাবে। আমারও এখন তেমন ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে, কেউ একটু আমার কথা বলুক। কেউ না বললে অন্তত আমিই একটু নিজের কথা বলি। একটু নিজের পিঠ চাপড়ে দিই, নিজের কাঁধে মাথা রেখে একটু ঘুমোই। অন্য সক্কলের মতো আমিও নিজেকে ভালবাসি, কথাটা একবার অন্তত বলার মতো করে বলি। “প্রতিটি বলের সমান ও বিপরীতধর্মী বল দোকানে পাওয়া যায়” এর মতো করে নয়। কিছু নিখাদ সত্যি কথা আছে, যা জনসমক্ষে বলতে গেলেই আর মেরুদণ্ডে জোর পাওয়া যায় না।

-      যাহা শিরশির করে, তারে শিরদাঁড়া কয়।

-      নিজের কথাও ঠিক তাই। একদম বাচ্চারা ছাড়া সবাই বোঝে ‘আমি, আমি’ করা মানে কি। ‘আত্মসর্বস্ব’ হয়ে যাওয়া। ‘স্বার্থপর’ হওয়া। ‘খারাপ’ হয়ে যাওয়া। কেন?

Friday, September 28, 2012

সখী, ভালবাসা কারে কয় -- সৈকত


বন্ধুদের আড্ডায় আমি প্রায়ই এই প্রশ্ন শুনতে পাই, যে জীবনে কটা প্রেম করেছিস? একটু হেসে উত্তর দিই, অসংখ্য। হাসির মানেটা সবার কাছে নানাভাবে পৌঁছায়। কেউ ভাবে সলজ্জ, কেউ ভাবে নির্লজ্জ। কিন্তু আসল ব্যাপারটা কেউ বোঝে না। আমার হাসি পায় এটা ভেবে যে, ‘প্রেম’ কিভাবে করে? এটা কি সকালের প্রাতঃকৃত্যের মত কিছু? নাকি বাজারের দরদাম করার মত? প্রশ্নটার উত্তরটা জানার জন্য মনটা কয়েকদিন ধরেই ঘুরঘুর করছে এর ওর দরজায়। ‘কেউ বলে ফাল্গুন, কেউ বলে পলাশের মাস...’। কেউ বা বলে অভ্যাস। প্রেম নিয়ে সবার কি মত, তাই ভেবে ঠিক করলাম কিছু একটা লিখি। সার্থক গদ্য না হোক, একটা স্ট্যাটিস্টিকাল রিপোর্ট তো হবে!

Wednesday, August 15, 2012

পুরনো কথা (৪)

আজকের পুরনো কথা: 'জোর করে নাক গলাবেন না প্লিজ!! --  ধানসিঁড়ি' (১৩/৮/২০১১, সকাল ১০:৩৭), আহা... ভয় নেই, চলুন সক্কলে মিলে একটু গন্ধবিচার করে আসি খন।
ছবির উৎস: লিঙ্ক

হ্যাঁ, আমার বড্ড গন্ধ বাতিক। বাতিক আমি বলছি না, লোকে বলে তাই বললাম। তা বাতিক হলে বাতিক। হলফ করে বলতে পারি কমবেশি সবারই এই বাতিক আছে। কি বললাম?  হ্যাঁ ঠিকই বললাম। যা শুনছেন ঠিকই শুনছেন। আছে কিনা নিজেই ভেবে দেখুন না। যদি নাই থাকত তাহলে সবেতেই আমরা গন্ধ পাই কেন? বৃষ্টির গন্ধ , পুজোর গন্ধ , নলেন গুড়ের গন্ধ থেকে শুরু করে এমনকি বিপদের গন্ধ, রহস্যের গন্ধ পর্যন্ত, স--স--সবেতেই আমরা গন্ধ পাই। অথচ এটাকেই আবার বাতিক বলা হয়। তাজ্জব !

Monday, July 23, 2012

বর্ষায় বসন্ত বিলাপ -- লিল্টু



“সে ছিল তখন উনিশ আমি তখন ছত্তিরিশ
প্রেমে পড়তে লাগে না বয়স মনে থাকেনা উনিশ বিশ” - নচিকেতা

সক্কাল থেকে শুধু

Thursday, March 1, 2012

মধ্যবিত্ত ভীরু প্রেম -- কূপমণ্ডূক

জানো, বহুদিন হয়ে গেল, বাড়িতে মিথ্যে কথা বলা হয় নি। নোট নিতে আজকাল আর বন্ধুর বাড়ি যেতে হচ্ছে না... বা এক্সট্রা ক্লাসগুলোও

Monday, November 21, 2011

'যদি হও সুজন...' -- গঞ্জিলা

বড়লোকের ‘বস্তি’র আস্তানা থেকে সকাল সাড়ে নটায় অফিসের জন্য বেরোন সুজনবাবু। সরকারি

Monday, November 7, 2011

স্মৃতি লজ -- কূপমণ্ডূক

১
পিকনিক করতে গিয়েছিলাম সেবার, নদীর ধারে। শুধু আমরা নয়, প্রচুর লোকজন জমেছিল সেদিন। শুকনো মরা নদী, তাই নিয়ে লোকের আদিখ্যেতার

Thursday, September 29, 2011

Indoctrinated -- শক্তিপদ পাত্র


একটি হাউসিং এস্টেটের ক্যাম্পাস। একা হাঁটছি। সামনে আসছেন এক মধ্যবয়স্কা মহিলা। তাঁর সঙ্গে আছে একটি বছর চারেকের মেয়ে। মেয়েটি বেশ প্রগল্‌ভা। পরিষ্কার উচ্চারণে জোরে জোরে কথা বলে চলেছে- ‘জানো মাসি, ঠাকুমা কোন কাজ করে না। শুধুই ব’সে ব’সে গেলে। মা সারাদিন খাটে। ঠাকুমা কথায় কথায় মাকে জ্ঞান দেয় আর অনেক বাজে কথা বলে।’ তারপর ওরা পাশ দিয়ে চলে গেল। প্রথম মনে হল, এইটুকু মেয়ে, বড্ড পাকা- একেবারেই ইঁচড়ে পাকা। এ ধরনের মেয়েরা বড় হয়ে দজ্জাল হয়। মানুষের মন বিষোয়। হঠাৎ ভাবলাম, আচ্ছা, মেয়েটি কি সব বুঝে বলছে?

Thursday, September 8, 2011

হতে পারতো -- প্যালারাম

হতে পারতো – ১



সই...
এখন এই শেষ মুহূর্তে বড্ড তোর কথা মনে পড়ছে। তুই থাকলে বলতি’ – এটা কোন

Thursday, September 1, 2011

ধরমবীর- ভিড়ধর্ম -- ঐকিক

আবার চলে এয়েচি দ্বিধান্বিত(ভক্ত) ওষ্ঠাধরে কিছু প্রাণের-মনের কথা প্রাণের ভয় না রেখে বলে ফেলবো বলে। বিশেষ কাজ কোনদিনই ছিলনা। তাই এই শ্রাবণে, আষাঢ়ে নিবন্ধের সূত্রপাতে বেশি motivation

Thursday, August 25, 2011

ভাবের ঘরে -- হিজিবিজবিজ

ছবির উৎস: লিঙ্ক

আসমুদ্র হিমাচল ভারতবর্ষ আবার উত্তাল। আণ্ণা হাজারের নেতৃত্বে আবার একবার সবাই জন লোকপাল বিলের দাবীতে সরব। জয় গণতন্ত্র!

Thursday, August 18, 2011

চিঠি ... তোমায় দিলাম আজ -- কূপমণ্ডূক

পৃথিবীর ছোট হয়ে যাওয়ায় ‘নাকি’ যখন প্রায় সম্পূর্ণ উবে যেতে বসেছে, তখনও আমি তোমায় রেখেছি বহু দূরে। তোমার অপেক্ষার

Saturday, August 6, 2011

পাগল “আমার” জন্য -- আগন্তুক

courtesy: link
আপনি কি স্বার্থপর? না না মশাই, আপনাকে বলিনি। নিজেকেই জিজ্ঞাসা করছিলাম আর কি। আপনি বলবেন আরে পাগল নাকি? পাগল

Saturday, July 30, 2011

অনভিজ্ঞতার কাঁটা-চচ্চড়ি* -- কূপমণ্ডূক


*(লেখকের মতে ওটা 'চড়চড়ি' হবে!)

লিঙ্ক


আমাদের একজন ইতিহাসের মাস্টারমশাই বলতেন, “পড়বা আর লিখবা, তবেই ভাল নাম্বার পাবা”। তা নাম্বার পাওয়ার লোভ যেহেতু ঈশ্বরপ্রদত্ত, কথাটা মনে এবং মগজে ধরেছিল। এখন ব্যাপার হল (ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যের এবং উপলব্ধিটা গত কয়েকদিনের), ফর্মুলাটা সব বিষয়ের মতো বাংলার ক্ষেত্রেও চালিয়ে এসেছি। আর বাংলা পড়া বলতে তো ওই চটি বইটা বারদুয়েক নমোনমো করে চোখবুলিয়ে সোজা নোটবইয়ে গিয়ে প্রথমে লেখককে বার খাওয়ানোর জন্য গুটিকতক ভারী ভারী শব্দ খোঁজা, তারপর বাঘা-বাঘা খানদশেক লাইন (সে বাঘের বিচরণ এম. সেন থেকে পি. আচার্যর

Saturday, July 23, 2011

আরও একটা অশান্ত দুপুরে -- হিজিবিজবিজ

ছবি: সুনন্দ

মাঝেমধ্যে মনে হয় একটা মাকড়সা কামড়ালে বেশ হয়। স্পাইডারম্যান হয়ে বেশ কিছু কাজের কাজ করা যাবে। এই ভেবে একবার একটা মাকড়সাকে অনেকক্ষণ হাতের উপর রেখেছিলাম। কিন্ত কামড়াল না! হাত বেয়ে জামার ভিতর ঢুকে পড়েছিল। তারপর প্রায় স্পাইডারম্যানের মত লম্ফঝম্প করেই সেটাকে বের করতে হয়েছিল। তিতিবিরক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল, নাঃ, স্পাইডারম্যান হয়ে বিশেষ লাভ নেই। তাছাড়া মালটার মাঝেমধ্যেই জাল ফুরিয়ে যায়.........হেব্বি হ্যাপা। তার উপর

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই