Wednesday, May 24, 2017

জয়-স্টিক -- শ্রীময়

উৎস
গোলাগুলি পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে
সাদা ধপধপে বরফ ঢাকা রাস্তাই সিলেক্ট করা ভালো

যে রাস্তায় নতুন করে রক্ত খেলার জায়গা নেই
সেখানে টাটকা রক্ত ছড়িয়ে কি লাভ?
তার চেয়ে বরং সাদার ওপরই লাল ভালো মানায়
বেশ একটা ফটফটে, ঝাঁ-চকচকে ব্যাপার,
তার মাঝখানে কটকটে উজ্জ্বল লাল
দেখেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে

ঘাড় ঝুঁকিয়ে, পা টিপেটিপে
ওই যে বিন্দু গুলো ঢুকছে দেয়াল টপকে
এ.সি রুমে বসে টিপ করে মারতে মারতে যখন বোর লাগে,
তখন চোখের আরামটাও ম্যাটার করে বৈকি
এই যে একেরপর এক তাঁবু অধিগ্রহণ,
এবং তৎসংলগ্ন মৃতসঞ্জীবনী সুধা আহরণ করে
হৃত জীবনের পুনরুদ্ধার
তার মধ্যে কি কোথাও চ্যালেঞ্জ নেই!!

ক'টা লোকের হাতে ছিলো এই ক্ষমতা?
আর ক্ষমতা থাকলেই তো হলো না!!
ক'জনই বা পারে এভাবে একের পর এক অঞ্চল
অনায়াসে পেরিয়ে যেতে?
কি অবাধে লুঠে নেওয়া যায়
হিম শীতল পার্বত্য উপত্যকা কিংবা
খেজুর গাছ সর্বস্ব মরুভূমি!!

কি অবলীলায় অধিগৃহীত হয়
নদীমাতৃক উর্বরতা অথবা
খনিজ সমৃদ্ধ কালো মাটি!!

কি মোলায়েম নৃশংসতায় হাতবদল হয়
বিখ্যাত তেলের নেশন!!

আগে এসবের জন্য রাজা বা সম্রাট হতে হতো
এখন শুধু জয়-স্টিক থাকলেই চলে

বসন্ত পঞ্চম -- শ্রীমন্তী


তুমি বলেছিলে, তোমার সবচেয়ে প্রিয় রাগ বসন্ত পঞ্চম। পরে জেনেছিলাম তোমার সব আসরে প্রিয়তম রাগ বলে সরোদে বাজাও ইমনকল্যাণ। বলেছিলে, প্রিয় কবি শক্তি চাটুজ্যে। অথচ তোমার বাড়িতে বইয়ের তাক দখল করে আছে সার সার সুনীল গাঙ্গুলির কবিতাগুচ্ছ। বলেছিলে, আমার গান শুনে নাকি প্রথম পছন্দ হয়েছিলো আমায় – বিয়ের পর একদিনও এক কলি শুনতে চাওনি। একদিন তুমুল ঝগড়ার শেষে মিটমাট হয়ে গেলে আদর করে তোমার নাম দিয়েছিলাম 'উলটপুরাণ'। তুমি শুনে শুধু সংক্ষেপে বলেছিলে, "আদিখ্যেতা"। তোমার কথার তুমি আর আসল তুমির মধ্যে কাকে বেশি ভালোবাসি - এই বুঝতে বুঝতেই পনেরোটা বছর কেটে গেলো আমার। তোমার দেশি বিদেশী বহু অনুরাগিণীর ফ্যান মেল পড়তে পড়তে আমার হিংসে হলে বলতে পজেসিভনেস তোমার একদম পোষায় না। অথচ কুশলের সাথে আমি কোনোদিন বেরোলেই তোমার চোখে মুখে যেটা ফুটে উঠতো, সেটা পজেসিভনেস ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি আমার। এই নিয়ে কথা কাটাকাটিও কম হয়নি আমাদের। ওর সাথে আমার যে ভাইফোঁটার সম্পর্ক, সেটা কোনোদিনই বুঝতে চাইলে না তুমি। সব ভালোবাসার সম্পর্ক যে এক গণ্ডিতে বাঁধা যায় না, এটা তোমার সুরের ভাষাও তোমায় শেখাতে পারল না। বিয়ের আগে বলতে সরোদে আমার জন্য তৈরি করবে নতুন একটা রাগ, যেটা কেউ কখনো শোনেনি আগে। বলা বাহুল্য, শুধু আমার জন্য তোমার সরোদটা একদিনও বাজেনি। একদিন বাজানোর জন্য খুব আবদার করলে বলেছিলে, সুন্দরী মুগ্ধ শ্রোতার অভাব নেই তোমার - বরং অভাব একজন দক্ষ ম্যানেজারের। ব্যাস, এক রাতের মধ্যে আমার ভূমিকা-বদল হয়ে গেলো তোমার ওই একটুকরো কথায়। ফ্যান মেলের লেখিকা বিয়ের পর হয়ে গেলো তার উত্তরদাতা।

ইদানীং তুমি বড্ড দূরে সরে যাচ্ছিলে আমার থেকে। রোজই রাতে বিছানায় শুয়ে মনে হতো, আমরা দুটো ভাসমান হিমশৈলের মতো শুধু ঠেকে আছি পাশাপাশি। পরশুদিন রাতে যখন হঠাৎ অনুভব করলাম তোমার শরীর ঘন হয়ে আসছে আমার খুব কাছে, তখন নিজেকে দেখে বুঝতে পারছিলাম আমাদের মধ্যে জমে আছে এক যুগের অভিমানের পাহাড়। ইচ্ছে করেই হয়তো সেই পাহাড়টা ডিঙোতে চাইনি আমি - যদিও তুমি অভিমান ভাঙানোর কম চেষ্টা করনি। তবে প্রতিবারের মতোই যেটা বলতে চাও তার উল্টোটা বলে ফেলেছিলে - একগাদা তেতো কথা কাটাকাটিতে রাতের ঘুমটাই কেটে গেছিলো আমার। পরেরদিন ভোরে পাশে শোয়া তোমার মুখের দিকে হঠাৎ চোখ চলে যাওয়ায় দেখেছিলাম চোখের কোলে কয়েকফোঁটা জল। আজ সকালে শ্মশানে তোমার মুখটা দেখে হঠাৎ মনে হলো কতদিন পর ঘুমোতে দেখলাম তোমায়! মনে পড়ছিলো বিয়ের ঠিক পরপর এক রাতের কথা.... আমার কিছুতেই ঘুম আসছিলো না, সারারাত তোমার মাথার কাছে বসে দেখেছিলাম তোমায়। কখনো তোমার চোখ একটু কুঁচকে যাচ্ছিল, কখনো ঠোঁটে ফুটে উঠছিলো হালকা হাসি, আবার কখনো ভাঁজ পড়ছিলো কপালে। আজও ঠিক সেদিনের মতো টানটান হয়ে শুয়েছিলে হাত দুটো বুকের কাছে জড়ো করে, শুধু মুখের ওই অভিব্যক্তিগুলো ছিলো না। আজ দেখলাম শোকস্তব্ধ তোমার অনুরাগীরা ভিড় করে এসেছে শ্মশানে তোমায় শেষ দেখা দেখতে... সবার মুখেই শুধু তোমার হঠাৎ চলে যাওয়ার কথা, সবার চোখে জল। আমার কিন্তু একটুও কান্না পায়নি, জানো! সারাদিন শুধু একের পর এক স্মৃতি ভেসে আসছিলো মনে সেলুলয়েডের দৃশ্যের মতো... খুব কম দৃশ্যেই অবশ্য ছিলাম শুধু আমরা দু’জন। সারাজীবন তোমার অসংখ্য অনুরাগীর সাথে ভাগ করে নিতে নিতে তোমায় একলা পাওয়ার অভ্যেসটা যে কখন পেছনে ফেলে এসেছি, নিজেও বুঝতে পারিনি। তাই আজ সবাইকে তোমার জন্য কাঁদতে দেখে আলাদা করে কিছু মনে হয়নি আমার... কেবল আমার কান্নাটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছিলো। একবার মজা করে বলেছিলে, তুমি মারা যাওয়ার পর স্মরণসভায় যখন তোমার মাস্টারপিস ইমনকল্যাণ বাজানো হবে, তখন নাকি আমি প্রথম কাঁদবো। আজ সন্ধ্যেয় নজরুল মঞ্চের সভায় যখন চোখে জল আসলো প্রথমবার, তখন এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিলো, এই বুঝি প্রথম আমার উলটপূরাণের কোনো কথা সত্যি হলো। কিন্তু পরের মুহূর্তেই ভুলটা বুঝতে পেরে পাশে বসে থাকা বিশিষ্ট সাংবাদিককে বেশ চমকে দিয়ে হেসে ফেললাম একটু.... সারা অডিটোরিয়ামে তখন গমগম করে বাজছে সরোদে তোমার বসন্ত পঞ্চমের সুর।

Monday, May 15, 2017

Water and life -- Sudarshan

Have you also learned that secret from the river; that there is no such thing as time? -- Hermann Hesse 
It's everywhere. It's in the calm at the source and at the mouth, in the trepidations of rapids, in the desperation of horse-show lakes, in the placid homecoming of ferries. It's the prima donna of elements. Crystalline in its purity, fluid in its deviousness, vacuous in its promises, torrential in keeping them.
Water is life. We present the photo-series ‘Water and life’ by the brilliant and extremely talented photographer Sudarshan Mondal.


Click on the photos for full-screen viewing...











************************************************
About The Photographer:
Sudarshan Mondal

Sudarshan Mondal loves making images and its creative process. His selection of subjects and approach depends on the project theme he is up to and in this pursuit he works on mundane things: people on streets, landscapes, nature, travel, abstract forms - both in color and black & white. He is now working on a few short and long term non-journalistic projects, mostly personal in nature. Through his photographic endeavor, he tries to establish a sense of time, search social theories, look at the world in a different perspective, and sometimes depicts his own state of mind. From his early days of learning basic camera technicalities, color theories and management, processing raw files in Photoshop or Lightroom, to a trip photographing fashion in Miami, tracing fall colors in New Hampshire, driving on the mountain roads of Smoky or Yellowstone, shooting bikini babes in Puerto Rico or streets in New York City, his quest for new experience compelled him to continually evolve his thought process, while reminding him the importance of carrying a camera with humor, compassion, and curiosity.


Monday, May 8, 2017

অবসেশন -- বাসবেন্দু

উৎস

"...এটাকে আমি নিছকই 'হত্যা' মানতে পারি না, কারণ 'হত্যা' শব্দটার মধ্যে একটা ডেরোগেটরি সেন্স কাজ করে, প্রাথমিকভাবে। আমার ধারণা এটা ঠিক সেই অর্থে হত্যা নয়। হ্যাঁ, অনস্বীকার্য যে এটা হত্যা। কিন্তু একটা ব্যাপার আপনাকে বুঝতেই হবে যে এই হত্যার একটা লক্ষ্য আছে, একটা সিদ্ধান্তে সে উপনীত হতে চাইছে, দু'জনেই, অর্থাৎ হত্যা মানে দা এক্ট ইটসেল্ফ এবং হত্যাকারী অর্থাৎ আমি, আমরা দু'জনেই চাইছি একটা সার্বিক মুক্তি। কার? না শিল্পীর। আপনি বলবেন সাহিত্যিক, কিন্তু সেটাও তো একটা শিল্পই, নয় কি? মানে কিভাবে আপনি এই ডিমার্কেশন লাইনটা টানলেন? যার হাতে তুলি সে শিল্পী, যার হাতে কলম সে সাহিত্যিক, কে বলেছে আপনাকে? আপনি অমিয়ভূষণ পড়েছেন? পড়েননি সে আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়, নামই শোনেনি তো? আপনি পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ, আপনি শুনেছেনও তাই, আপনাকে সবাই বলেছে রবিঠাকুর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি - শুধু বলেইনি, আপনাকে ইস্কুলে, কলেজে, টিভিতে সর্বত্র ধরে ধরে ব্রেনওয়াশ করে বোঝানো হয়েছে রবিঠাকুরই শেষ কথা। গদ্য, পদ্য, গান, ছোটগপ্পো, ছবি, নাটক মানে ইউ জাস্ট নেম ইট! অদ্ভুত ব্যাপার, আপনার কখনো মনে হয়নি, ক্যানো? এর'ম ক্যানো? ক্যানো একজনই সব পারে আর যদি ধরেও নিই সে পারে, তাহলে আর কারুর পক্ষে কি এর'ম হওয়া সম্ভব না? পুরোপুরি না হলেও, এর শতকরা ষাট ভাগ? বা অন্তত চল্লিশ ভাগ? ভেবেছেন কখনো? ভাবেননি, আপনাকে ভাবতে দেওয়াই হয়নি, আর আপনিও স্বেচ্ছায় ভাবতে চাননি। একটু আগে অমিয়ভূষণের কথা বলছিলাম মনে আছে? উনি শব্দ দিয়ে ছবি আঁকতেন। আপনি হয়তো পড়ছেন অমিয়ভূষণ, পড়তে পড়তে ভাবছেন এনাকে কি বলবো, শিল্পী না সাহিত্যিক? অবশ্য আপনি পড়বেন ক্যানো? আপনি তো জানেনই রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কেউ লিখতে পারেনা, পারেনি, পারবেও না। সুতরাং আপনি চাইবেন আমি ফার্স্ট বয়ের খাতাটাই দেখবো এবং মন দিয়ে দেখবো, আর বাকিরা লিখলেও সেটা ওপর ওপর পড়ে 'হ্যাঁ ভালোই কিন্তু ওর মতন তো না' বলে সব ভুলেটুলে যাবো। আমার দাদু একবার একটা গপ্পো বলেছিলো, দাদু ক্লাসে সেকেন্ড হতো আর ফার্স্টের সাথে তার ওই দু'এক নম্বরের ফারাক থাকতো। তো একবার কি হলো, কোনো একটা পরীক্ষায় আমার দাদু আর ওই জনৈক ফার্স্ট বয় একই ভুল করেছে, অথচ মাস্টার দাদুকে দিয়েছে গোল্লা আর ফার্স্ট বয়কে দুই না তিন নম্বর। তা দাদু উঠে গিয়ে বলেছে যে ওর আর আমার তো একই ভুল, ও নম্বর পেলো কিন্তু আমি পেলামনা ক্যানো? শুনে মাস্টার রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলেছিলো, 'ওরে তুই ভুল করেছিস না বুঝে আর ও করেছে বুঝে!' বলুন দেখি, এটা একটা যুক্তি হলো? ঠিক এই অন্ধযুক্তিটাই আমরা দিয়ে আসছি এখানেও। আমরা মানে আমরা মাইনাস আমি। আপনারা রবীন্দ্রনাথকে মাথায় তুলে ধেই ধেই করতে গিয়ে দুটো অকল্পনীয় অপরাধ করেছেন। কি কি? এক, আপনারা বহু লেখককে তাদের প্রাপ্য লাইমলাইট থেকে নির্মমভাবে বঞ্চিত করেছেন এবং এখনো করছেন আর দুই, আপনারা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি চটকে একগাদা আবর্জনা পয়দা করেছেন যেটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। হেন্স আই চোজ্ টু কিল রবিঠাকুর অল বাই মাইসেল্ফ। আমি চাইনি ভদ্রলোক আমার হাতে খুন হোক, রাদার বেঁচে থাকলে উনি আরও দু'হাজার লেখা দিয়ে যেতে পারতেন কিন্তু একইসাথে ওনাকে নিজের সৃষ্টির নির্মম পতনও দেখতে হতো। সেদিক থেকে আমার এই হত্যা বা বারংবার হত্যার কাজ মার্সি কিলিং এর আওতায় পড়ে। কারণ এই হত্যার মধ্যে দিয়ে আমি শিল্পী ও শিল্প দু'জনকেই বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। শিল্পী তো তুচ্ছ! সে তো এক্সপ্লোরার! তার কাজ তো শিল্পসমুদ্রে ডুব মেরে গভীরে প্রোথিত মণিমাণিক্য কুড়িয়ে আনা! শিল্প তো বয়ে যাওয়া নদী, আর শিল্পী তাতে বিরামহীন অবগাহনে মত্ত! দেখলেন এখানে কিন্তু আমি 'স্নান' বললাম না। 'অবগাহন' বললাম। খেয়াল করলেন? স্নান একটি অতি ছেদো শব্দ। 'কোথায় চল্লি রে? এইত্তো চানে।' কিন্তু অবগাহন? শব্দটা উচ্চারণ করুন। আহা করুনই না একবার! অ ব গা হ ন। আত্মার শুদ্ধি হলো না কির'ম একটা? বাদ্দিন আপনি বুঝবেন না, আপনি ক্যানো আপনারা কেউ বুঝবেন না, যদি বুঝতেন তাহলে রবীন্দ্রনাথের 'নিভে' আর 'নিবে' ব্যবহারের ফারাক বুঝতেন আর দু'টোকেই ওইতো একই হলো বলে কামিনী প্রকাশনার 'সেরা পঞ্চাশটি রবীন্দ্রগান' বলে পেপারব্যাকে ছেপে বের করতেন না। বের করলে রেগে যেতেন, পুড়িয়ে ফেলতেন ওর'ম বই। যাগ্গে, যা বলছিলাম, আমার এই হত্যা বেসিকালি শিল্পের বাস্তিল দুর্গকে পতনের হাত থেকে বাঁচানোর একটা একক প্রচেষ্টা। এবং এতে আমার কোনো অহংবোধ নেই। আমার মনে হয়েছে একজন সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করা জরুরি, এবং আমি তা সফলভাবে করতে পেরে যারপরনাই উৎফুল্ল। আপনাদের ভার্ডিক্ট আমাকে কোনোভাবেই মর্মাহত করবে না কারণ আমি জানি আমি না থাকলে আপনারা সবাই মিলে প্রথমে রবিঠাকুরকে আর তারপর ধীরে ধীরে সাহিত্যকে সামগ্রিকভাবে কবর দিতেন। এবং সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো এই কাজটা আপনারা করতেন অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে। অতএব, মহাশয়, এ বরমাল্য আমি সাদরে গ্রহণ করবো...

Monday, May 1, 2017

নবরত্ন -- সুস্মিতা

পর্ব (১) অতঃপর রাজামশাই কহিলেন- "আমারও নবরত্ন চাই"।
উৎস
মন্ত্রীমশাই সবেগে ঊর্ধ্বে-নিম্নে গ্রীবাচালনা করিলেন এবং বলিলেন- "বটেই তো বটেই তো। কিন্তু রাজামশাই, এই গেলো হপ্তাতেই তো রাজজ্যোতিষীমশায়ের কথামতো অতোগুলো টাকা গচ্চা দিয়ে নবরত্নের আংটি ধারণ করলেন, সীমান্তে ওই ন'টা বজ্জাত প্রতিবেশী রাজার অনুপ্রবেশ আটকাতে।" রাজামশাই রোষকষায়িত দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া পুনরায় বলিলেন- " না রে বাবা! সে পাথুরে নবরত্নের কথা বলছি না রে বাপু। আমি বলছি..." মন্ত্রী মধ্যপথেই রাজার বাক্যি হরণ করিয়া বলিয়া উঠিলেন- "ও হো হো এবার বুঝেছি! তবে কিনা কাল রাতেই তো বড় রাণীমার সন্তোষী মায়ের শুক্রবারের ব্রত বলে নিরিমিষ্যি নবরত্ন কোর্মা খেয়ে এই আজ সকালেও 'হেউ হেউ' করে চোঁয়া ঢেকুর মারছিলেন সিংহাসনে বসে। তাই বলছিলুম কি আজ হাল্কা করে চিকেন বিরিয়ানী আর চিকেন চাপের ওপরেই রইলেন নাহয়। নিরিমিষ্যিটা তো আপনার আবার... হেঁ হেঁ।" রাজামশাই স্বগতোক্তি করিলেন- "এ কোন আবোদাগুলোকে নিয়ে দরবার খুলেছি রে ভাই! এই ধম্মের ষাঁড়গুলো শুধু মাস গেলে বসে বসে মোটা মাইনে আর ভুঁড়ি বাগাতেই সিদ্ধহস্ত। অ্যাকে তো কী বলি বোঝে না তায় আবার লম্বা লম্বা বক্তিমে ঝাড়ছে দ্যাখো ঘাটের মড়া বুড়োটা। অবশ্য মাটন ছাড়া বিরিয়ানী যে ভাবতে পারে তার দৌড় আর কদ্দুরই বা হবে!" প্রকাশ্যে বলিলেন- " জ্বালাতন তো! ওইসব বলছি না মন্ত্রী। আমি নবরত্ন সভার কথা বলছি। যেমনটি আকবরের ছিলো, বিক্রমাদিত্যের ছিলো। ইতিহাসের বই হাতে ধরেননি নাকি। পরের দিন নাতির বইটা একটু উল্টে পাল্টে দেখে আসবেন। বলি একটা জ্ঞানীগুণী রত্নখচিত রাজসভা না হলে কি জাতে ওঠা যায় হে?"

Monday, April 24, 2017

ছায়াচ্ছন্ন -- কৃষ্ণাঞ্জন


শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক। স্টেশনের নাম মথুরাপুর। সেখান থেকে অটো ধরে খটিরবাজার। তারপর ভ্যান-রিকশোতে সাতঘড়া গ্রামের তালপুকুর। আমার ছোট পিসির বাড়ি। গত পুজোয় একাদশীর দিন গিয়েছিলাম, প্রায় অনেক বছর পরে। না, আমাকে শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরতে হয় না। আমার বাড়ি মথুরাপুরের তিনটি স্টেশন আগে। দক্ষিণ বারাশত। কিন্তু এই তালপুকুর গ্রামের অনেকে সেটাকেই শহর ভাবে।

দুপুর নাগাদ খটিরবাজারে পৌঁছে ভ্যানে চেপেছি। ইট বিছানো রাস্তা। রাস্তার পাশে ঘন বাঁশবন, ‘সবুজ হলুদ সর পড়া পুকুর’ ঝিম মেরে আছে। ছোটবেলায় মা-বাবার সাথে বেশ ঘটা করে আসতাম, রাস্তাগুলো সব আবছা মনে পড়ছে। অনেকদিন পর নিজের বাড়িতে ফেরার মতো লাগছে। যেতে যেতে একটা কুমোর-পাড়া পড়ে, রোদে দেওয়া মাটির কলসি, মিষ্টির ভাঁড়। খুব মনোযোগ দিয়ে ছোটবেলায় এগুলো বানানো দেখতাম - বন বন করে চাকা ঘুরছে আর এক বুড়ো নিপুণ হাতে একটা কলসি বানিয়ে ফেলছে। একটা বড় মুসলিম-পাড়ার পরেই রাস্তার বাঁক, বাঁক পেরিয়ে ভ্যানটাকে দাঁড়াতে বললাম। পিসি দাঁড়িয়ে, পিসির ছেলেরা দাঁড়িয়ে, প্রতিবেশী আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে। ভ্যান থেকে নামতেই অর্ধেক-চেনা মুখে হাসি এক মহিলার- “কতো বড়ো হয়ে গেছিস বাবা... আমায় চিনতে পারিস?” কিছু বলার আগেই পিসির ছেলেরা এসে পড়লো। ওরাও বড়ো হয়ে গেছে। প্রায় হাত ধরে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলো। আগে মাটির বাড়ি ছিলো। দাদা চাকরি পেয়ে পাকা বানিয়ে নিয়েছে, ইলেক্ট্রিসিটিও এসেছে। প্লেট-ভর্তি খাবার সাজিয়ে নিয়ে এলো বৌদি, পিসি মাটির উনুনে রান্নায় ব্যস্ত, দেশি মোরগের ঝোল খাব আগেই বলে রেখেছিলাম।

কোনওমতে লুচিগুলো খেয়ে হাঁটতে বেরলাম সেজো ছেলেটির সাথে। অদ্ভুত ভাবে এই ভেতরের রাস্তাগুলোও মনে আছে আমার। মাটির রাস্তা, চারদিকে ঘন সবুজ গাছপালা, নিশ্চিন্দিপুরের থেকে একেবারেই আলাদা করা যায়না। হঠাৎ রাস্তা শেষ, বিশাল ধান-জমি। দাঁড়িয়ে পড়লাম ওখানেই। এটা-ওটা গল্পের মধ্যেই পাশের মুসলিম-পাড়ার কথা উঠলো, কারণ বাইরে তখন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। মুসলিম-পাড়ার সবাই নাকি আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সমর্থক।


আবহাওয়ার খবর -- সৌভিক

উৎস

আজ সারাদিন প্রধানত মেঘলা আকাশ
বিকেলের দিকে আপনার ঘর ও বারান্দায়
মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
বাসন্তী রঙের ওড়না জড়ানো মেয়েটা
নীল রঙের গাড়ীতে চেপে অফিসে চলে যাবে,
জানলা দিয়ে তার গম্ভীর মুখটা দেখে
মেঘ জমবে আপনার বাড়ির গলিতে;
মনে হবে ওই ওড়নাটা জড়িয়ে
মেয়েটা সাইকেল চালালে বা দুপুরবেলা
লোকাল ট্রেনের জানলার ধারে বসলে
বেশি মানাত।
বিকেলের বিমানে মেয়েটা পাড়ি দেবে পশ্চিমে
অনির্দিষ্টকালের জন্য, শহরের আকাশে
ভিড় করবে কিউমুলোনিম্বাসরা;
রাতে যখন বিমান আবু ধাবির মাটি ছোঁবে
আপনার ঘরে তখন ঝোড়ো হাওয়ার সাথে
বজ্র-বিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণের সতর্কতা।
খবর আপাতত এই পর্যন্তই।

Monday, April 17, 2017

The Lens Connection 1 -- Pubarun

Click on the photos for full-screen viewing...





Monday, April 10, 2017

নায়িকা-সংবাদ -- সৃজিতা


উৎস
বাসকসজ্জা

ফসলের কণা ঘিরে আয়োজন কৃষকের তূণে।
লোধ্ররেণু, লিপস্টিক, পূর্ণ হয়েছে প্রসাধন...

অচিরেই দেবদূত ভেঙে দেবে শস্যের ঘর

বিপ্রলব্ধা

‘বঞ্চনা’ শব্দ জুড়ে বেড়ে ওঠে শিকড় বাকড়

স্থানকালপাত্ররা পৃথিবীর পরিধি মাপেনি।
মোহনবাঁশির স্নেহে ভেসে এসেছিলো আশ্বাস...

সিম-কার্ড বুঝে নিক খোলস ছাড়ার কথকতা,
ফেলে আসা ফোন রাখে মৃত শহরের দিনলিপি

উৎকণ্ঠিতা

‘পন্থ নেহারি’ রাই, নিভে আসে দ্রুত চরাচর।
প্রলয়ের কাল বুঝি ছুঁয়েছিলো এত ব্যাকুলতা।
সংকেত ভুলে গেলে.. রিংটোন থাকবে তো মনে?


বিবর্তন -- ঊর্মি

উৎস


আমার আদরের ভাইপো গুল্লুবাবু সবে দু’বছরে পা দিলো। আমি তাকে ডাকি ‘গুল্লাই’ বলে আর সে তার আধো আধো স্বরে আমায় বলে ‘পিপি’ - আসলে বলে “হ্যালো পিপি!!”। ওরা থাকে মুম্বাইতে, আর যবে থেকে গুল্লাই এর মোটামুটি জ্ঞান হয়েছে, আমি এই সুদূর বিদেশে। আমার দুঃখ ছিলো যে ও হয়তো আমাকে চিনবেই না - কিন্তু মোবাইল ফোন এর দাক্ষিণ্যে সে চিন্তা আর নেই। যদিও কিছুদিন অন্তত মোবাইল আর পিপি হয়তো ওর কাছে সমার্থক হয়ে থাকবে - সে থাক, ক্ষতি নেই। আমরা যখন গুল্লুর বয়সী ছিলাম তখন তো বাড়িতে ফোন বলে কিছুর অস্তিত্বই ছিলো না। একটু বড় হতে সামনের বাড়িতে ফোন এলো, পুরো পাড়ায় সাকুল্যে ওইটিই। সুতরাং বাকিদেরও জরুরী ফোন ওখানেই আসতো আর হাঁক পেড়ে ডাকলে তাঁরা পড়িমরি দৌড়ে আসতেন। আস্তে আস্তে ব্যাপারটা সড়গড় হলো, তখন ফোন-বাড়ির লোকের সুবিধে অনুযায়ী দিনক্ষণ আগে থেকে ঠিক করে ফোন আসতো। কিন্তু আমাদের ছোটদের এত ধৈর্য ছিলো না তাই ফোন নিয়ে মাথাব্যথাও ছিলো না।

আর কিছু বছর যেতে মোটামুটি সব বাড়িতে ফোন এসে গেলো - আমরাও ফোনে কথা বলার মতো বড় হলাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, তৎসত্ত্বেও ব্যাপারটা ঠিক ততটা মজার হলো না যতটা ভেবেছিলাম!


Monday, April 3, 2017

খট্‌ -- বাসবেন্দু

উৎস

পুরো ব্যাপারটার শুরুয়াৎ শুক্রবার সন্ধে নাগাদ। মানে গত পরশু। সময়টাও মনে আছে কমলেশের বিলক্ষণ - আটটা পনেরো। সাতটা পঁচিশের আপ কাটোয়াটার ফার্স্ট স্টপেজ চন্দননগর, পরেরটাই কমলেশের। ট্রেন থেকে নেমে, একটা চা খেয়ে, ভাঁড়টা লাইন পার করে ফেলে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” গোছের কথা অনুপমাকে ফোনে জিজ্ঞেস করতে করতে প্ল্যাটফর্মটা পার করে অটোয় উঠতে খুব বেশি হলে মিনিট বারো সময় নেয় বিয়াল্লিশের কমলেশ সরকার। এর অবশ্য হেরফের হয়। হয়, যেদিন উৎপলরাও একই ট্রেনে ফেরে। সেদিন দু’রাউন্ড চা চলে সিগারেট সমেত (বেশিরভাগ দিন দামও মেটায় কমলেশ, আক্ষেপহীন), তারপর নিরুপমদা আর উৎপল এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হাঁটা দেয়, যেদিকটা সাইকেল গ্যারেজ। কমলেশ দু’নম্বর বরাবর সোজা হাঁটে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” বলতে বলতে, স্বাভাবিক। গত পরশুও এর’মই একটা দিন ছিলো। তফাতের মধ্যে, কমলেশের খেয়াল ছিলোনা অটোর জন্য আগলে রাখা খুচরো পাঁচ টাকা কমলেশ বাছাই করা সল্টেড বাদামে খরচ করে ফেলেছিলো এবং চায়ের তিন টাকা দিয়ে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” বলবার সময়ও কমলেশের ঘুণাক্ষরেও মনে পড়েনি পকেটে সর্বনিম্ন টাকার পরিমাণ একশ’, আর স্টেশন থেকে কমলেশের টু বি এইচ কে ফ্ল্যাটের দূরত্বমূল্য সাত। সাতটাকা মাত্র। অতএব, গলির মুখে নেমে, অটোর শেষ যাত্রী কমলেশ, বুকপকেটে হাত দিয়েই উপলব্ধি করে সল্টেড বাদামের কিছুটা দাঁতের গভীর ফাঁকে আটকে আছে যেখানে জিভ পৌঁছোয় না। সুতরাং কমলেশ, রাদার সল্টেড বাদামের অবশিষ্টাংশ উদ্ধাররত কমলেশ, অটোচালকের সাথে নিম্নলিখিত কথোপকথনে লিপ্ত হয়:

অ: “কি হোলো দাদা কি খুঁজ্জেন?”


Monday, March 27, 2017

হোক পলায়ন -- দিদিমণি

উৎস
কথায় বলে, ‘চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা’। আমার কিন্তু কথাটা খুব নিম্নমানের মনে হতো। কোনো বিপদে পড়ে শুধু আপন প্রাণ বাঁচিয়ে পরিস্থিতি থেকে পেছন ফিরে পালাবো এরকমটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু আজ যে ঘটনার কথা বলবো, তা আমার এই আদর্শের মাথায় প্রকাণ্ড ঘা মেরেছিলো। টিভি-সংবাদপত্রে আজকাল আমরা প্রায় রোজই mob-fury দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। হয়তো অনেকেরই জীবনে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তাঁরা জানেন, যে উত্তেজিত জনতার নির্দিষ্ট কোনো চেহারা থাকেনা বলে, মানুষের ভিড়ে অনেকেরই অন্তর্গত পশুত্বটা সহজে প্রকাশ হয়ে পড়ে। যখন দেখেছি স্কুল-কলেজ-অফিসে স্টাফদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দী করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে নারকীয় অত্যাচার-মারধোর-প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ধ্বংস-অপমানজনক গালিগালাজ-অঙ্গভঙ্গি - তখন ভেতরটা শিউরে উঠেছে। জনতার সমবেত আক্রমণে কর্তৃপক্ষ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন আর বাকিরা টেবিল বা ডেস্কের তলায় লুকিয়ে রেহাই পেয়েছেন বা যে কোনো উপায়ে পালিয়ে সে যাত্রা কোনওমতে বেঁচেছেন।

কল্পনায় ভাবার চেষ্টা করেছি এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আমি কি করবো। ভেবেছি, যা হবে দেখা যাবে। যেভাবে হোক, বিপদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমার এই ভাবনাটা সেদিন আর কল্পনার পর্যায়ে থাকলো না। কয়েকবছর আগের ঘটনা, যখন পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কার্যালয় থেকে একটি পেশাগত মিটিং সেরে বেরোচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরেই বাইরে থেকে একটা সম্মিলিত কোলাহল কানে আসছিলো। কনফারেন্স-রুমে থাকায় কিছুই বুঝিনি। মিটিং-শেষে বেরিয়ে দেখলাম, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বিল্ডিং এর সামনে প্রায় হাজার খানেক ছেলেমেয়ে। কান পাততে জানা গেলো - এঁরা বেসিক-ট্রেনিং-প্রাপ্ত বেকার ছেলেমেয়ে, যাঁরা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন, কিন্তু প্রাইমারি-টিচার্স-ট্রেনিং-ইন্সটিটিউট উত্তীর্ণ। সে কারণে এঁদের দাবি ছিলো এঁদেরকে চাকরির নিয়োগপত্র দিতে হবে। অনেকের এমনও দাবি, যে অনেক নেতা-মন্ত্রীই নাকি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এঁদের থেকে লাখ-লাখ টাকাও নিয়েছেন। এখন তাই তাঁরা বিক্ষোভে ‘মজা’ দেখাতে সম্মিলিত হয়েছেন আর প্রাথমিক শিক্ষা-পর্ষদের ভবন ঘেরাও করেছেন। এখন আর ভবন থেকে কাউকে বেরোতে দেওয়া হবেনা এবং ‘পজিটিভ রেসপন্স’ না পেলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলন (অর্থাৎ ভাঙচুর, মারধোর, অগ্নিসংযোগ) শুরু করবেন।


Sunday, March 26, 2017

Qualia vs. Noumena 1 -- Sambita

Click On pics for full-screen view.


1.“The Yell” 2015
Acrylic and spray paint on craft paper.
Collage on newspaper.
Dimensions: 27 X 43 in

Monday, March 13, 2017

পিতামহের প্রতি -- রাজীব


উৎস


পিতামহ,
তোমার ক্রোধাগ্নি ছড়িয়ে পড়ুক
নক্ষত্রের শিরা উপশিরায়।
মহাকাশের নাভিমূলে ফুটে উঠুক
একান্নটি একান্নবর্তী সংসারের পৃথিবী।
প্রথম পঞ্চাশটিতে থাক শান্ত শ্বেত শুভ্র মনুষ্যকুল।
আর একান্নতম গ্রহটি হোক কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধস্থল।
কুরু বা পাণ্ডব বুঝিনা, আমি শুধু
সেই জীবন যুদ্ধের সৈনিক হতে চাই।

শিলুমাসি -- গঙ্গোত্রী

উৎস
শিলুমাসির গল্প এখনও মনে পড়ে যখন ঘরে থাকতে ইচ্ছে করেনা, তখন।
আমার যখন বছর পাঁচেক বয়স তখন শিলুমাসি খুব আসত আমাদের বাসায়। আমাকে তেল মাখিয়ে চান করিয়ে, খাইয়ে দাইয়ে তারপর যেত। আর এর ফাঁকে ঝুড়ি ঝুড়ি গপ্পো শুনতাম আমি, মাসির মুখে। মাসি আমাদের কেমন একটা দুঃসম্পর্কের আত্মীয় হয়। নানান গপ্পের মধ্যে একটি দু’টি আমার আজও মনে পড়লে গা কেমন শিউরে ওঠে...

যাযাবর এসেছিলো সেবার শীতে শিলুমাসিদের গ্রামে।

"যাযাবর কি মাসি?"
"ঘুরে বেড়ায় তারা দেশে বিদেশে, কখনো এক জায়গায় থাকে না, অনেক রকম জাদুটোনা জানে তারা..."

অল্পে আমার কৌতূহল ক্ষান্ত হয় না, মাসিও আমার সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে থাকে।

সন্ধ্যে বেলা তারা নানা রকম খেলা দেখাতো, পয়সাও পেত গ্রামের লোকদের কাছ থেকে। কামু খেলা দেখতে যেত প্রায়ই, দিনের বেলাতেও মাঝে মধ্যেই চলে যেত, ওই দলের লোকেদের সাথে গিয়ে ভিড়তো।


Monday, March 6, 2017

মাশরুম -- তনুজিৎ

উৎস

ঘুম তখন ভাঙতে যাবে। খুব অল্প সময়ের জন্যে, তখনও আমি ঘুমের মধ্যে, মনে হলো কেউ খাটটা খুব জোরে নাড়াচ্ছে; আমি একটা খুব অদ্ভুত গোঙানির মত শব্দ করে জেগে উঠি, ধড়মড় করে। আচমকা খুব নড়ছে ঘরটা। প্রথম কয়েক মুহূর্তের জন্যে কিছু বুঝে উঠতে পারিনা যে কি হচ্ছে। অসময়ে ঘুম ভাঙলে আমার চোখ খুব জ্বলে আর জল বের হয়, দেখতে অসুবিধা হয়। বিছানা থেকে উঠে মেঝেতে পা দিয়ে যখন দাঁড়াতে যাই তখন জোরালো ধাক্কার মতো পড়ে যাই। যখন প্রথম সাঁতার শিখেছিলাম, তখনো পায়ের তলায় যেরকম একটা অনুভূতি হয়েছিলো, যেটা ঠিক মাটির মতো নয়, সেরকম একটা ভূমিহীন অনুভূতি হলো। আমি কখনও ভুত দেখিনি, তবে মাঝেমাঝে যখন চেনা অন্ধকার কোনাটায় একটা অচেনা বস্তুর অবয়ব কয়েক মুহূর্তের জন্যে দেখি, তখন এক ধাক্কায় একটা ভয় আসে; মাথার ভিতর এক ধাক্কায় রক্ত আসে, গরম করে দেয়, বুকের ভিতর ধাক্কাটা খুব জোর শুরু হয়, হাত-পা বেশ অকেজো অসাড় হয়ে আসে। সেটাও কেটে যায়, যখন দেখি অচেনা বস্তুটা আসলে একটা চাদর বা অন্যকিছু। অল্প সময়ের জন্যে ওরকম একটা হঠাৎ ভয় এলো। কিছুক্ষণ মেঝেতে ওইভাবেই পড়ে রইলাম। আমি যে শহরে থাকি, সেখানে খুব বৃষ্টি হয়, আর দূষণটাও বেশি, তাই

Monday, February 27, 2017

মূল কথা -- সুনন্দ

উৎস
গ্রামের পশ্চিম দিকে, খালপাড়ের পরের জমিটার ঠিক মাঝখানে, একটা বিশাল বটগাছ আছে। এককালে ওখানে ফিস্ট হতো, বাগালের দল জিরতো দুপুরের রোদে পিঠ রেখে। এখন আর ওসব হয় না অনেকদিন। ছেলে-ছোকরারা খেলতে যায়, ঝুরিতে তক্তা বেঁধে দোল খায়, আর মাঝেমাঝে ঝিমিয়ে পড়লে গাছের একদিকে এক বড় গর্তের মধ্যে বসে থাকা ধীরু পাগলের চুলে ঢিল বেঁধে আর গায়ে মাটি চাপিয়ে মজা দেখে। পাগল কিছু বলে না। খুব বেশি জ্বালালে, রক্তচক্ষু করে চীৎকার করে ওঠে, “কই শেকড়টা?”

যারা জানে না, তারা খুব ভয় পেতে পারে, গ্রামের ছেলেরা কিন্তু একটুও ভয় পায় না ধীরুকে।  প্রতিদিন কোন না কোন বাড়ি থেকে ধীরু পাগলের খাবার যায়। কোনদিন ভুলে গেলেও ধীরু কিছু বলে না, আওয়াজও করে না। তবু সবাই মনে রাখার চেষ্টা করে।
আজ আমার পালা। দশ কিলোমিটার দূরের দোকান থেকে দুপুরে বাড়িতে ভাত খেতে এসেও শান্তি নেই। বেরনোর সময় বউ হাতে ভাতের টিফিন বাক্স ধরিয়ে দিলো। ফেরার পথে দিয়ে যেতে হবে পাগলের সামনেগজগজ করতে করতে এই এখন ওই দিকেই হাঁটছি।
ধীরু পাগলা চিরকাল পাগল ছিল না

Monday, February 20, 2017

লগবুকে শেষ এন্ট্রি -- অরুণাচল


উৎস

বন্দরে পৌঁছে গেছে মায়াবী জাহাজ
বাতিল কামানে আজ তোপ দাগো। একশ’টা নীরব আওয়াজ
ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়ে যাক নাবিকের লুকোনো বাসনা
সবাই জানুক তবে, আমরা যে আর ভাসবো না।
তার পরে বৃষ্টি শুরু হোক
ধুয়ে যাক তমসুক ... মুছে যাক সমস্ত কুহক
নষ্ট এই সময়ের সমস্ত স্মৃতি গায়ে মেখে
বাতাসেরা নতমুখে জাহাজের ভিজে যাওয়া ডেকএ
এখুনি উড়িয়ে দেবে যাবতীয় শোকগাথাগুলি
ছায়া শুধু রয়ে যাবে। থেকে যাবে অনন্ত গোধূলি।


মধ্যম পুরুষ -- শ্রীময়


ল্যাঙ্গুয়েজ ডে! খায় না মাথায় দেয়? হোয়াট হ্যাপেন্ড এই দিনটাতে? এই তো এতো গুলো 'ডে' গেলো হুড়মুড় করে, সেই লিস্টে তো এটা ছিল না! সত্যি মাইরি! গোটা ফেব্রুয়ারি মাসটাই এই সব আলবাল ডে'তে চলে গেলো! হুজুগে পাবলিক সব!

যাকগে ছাড়ুন। এসব নিয়ে ফালতু টাইম ওয়েস্ট করে লাভ নেই। আপনারও অনেক কাজ আছে, আমার তো আছেই... তারচেয়ে বরং আসুন একটু আড্ডা মারা যাক। তবে হ্যাঁ, আগেই বলে রাখছি আমি কিন্তু ওই পেজ-থ্রি গসিপ টসিপ-এ নেই। ওসব আমি একদম টলারেট করতে পারিনা। কি বলছেন? টপিক? ধুউউউরর... আড্ডা দিতে বসে টপিক নিয়ে ভাবলে চলে!! যা মনে আসছে, তাই দিয়েই স্টার্ট করুন। কিচ্ছু মনে আসছে না? কিস্সু না! কে রে ভাই! আচ্ছা দাঁড়ান, আমি এট্টু ভেবে দেখি...

মিল গিয়া! আচ্ছা আপনি ছোটবেলায় কোন স্কুলে পড়তেন? না, মানে হোয়াট আই'ম ট্রাইং টু নো ইজ- ইংলিশ মিডিয়াম না বেঙ্গলি মিডিয়াম? আমি কিন্তু পাতি বেঙ্গলি মিডিয়াম। সিক্স-এ প্রথম ক্লাসে এ, বি, সি, ডি পড়ানো হয়েছিল। লার্নিং ইংলিশ, পাতলা করে বইটা ছিল... একদিনেই সব পড়ে ফেলেছিলাম। আসলে আমি বরাবরই ইংলিশে স্ট্রং। সব সময় হায়েস্ট না পেলেও বেস্ট ফাইভে থাকতাম। এখনো ক্লিয়ারলি মনে আছে, ইংরেজির জন্য একটা আলাদা কপি করেছিলাম। দ্যাট ওয়াজ মাই সিঙ্গেল কপি, যেটা ব্রাউন পেপারে মলাট দেওয়া ছিল। মলাটের ওপরে সাদা কাগজ হাফ সার্কেল করে কেটে, তার পেরিফেরি বরাবর লেখা ছিল "ইংলিশ ফেয়ার কপি ফর মিস্টার এস.এস.রে"। হাফ সার্কেল থেকে তিন আঙ্গুল নিচে আবার একটা কাগজ স্কোয়ার করে কেটে, তার ভেতরে লিখেছিলাম নেম, রোল নাম্বার, ক্লাস।

Monday, February 13, 2017

Midday Meal -- Subhajit


Though conceived in 1995 and implemented in 2001, the necessity for a nation-wide Midday meal scheme in schools for children suffering from malnutrition has been there even in pre-independence era. Though designed to be a supplementary program, midday meal has since proved to be an attraction for children and a motivation for parents to send their kids to school.

Subhajit takes his lens to the heart of this - enjoy the story....

Monday, February 6, 2017

কবি-জন্ম -- বিবস্বান

উৎস
ছেলেটিকে সবাই বলতো বিষণ্ণ নাস্তিক
আর মেয়েটি প্রতি সপ্তাহে দক্ষিণেশ্বর
ওদের কিভাবে যে আলাপ হলো,
গাছেরা অবাক
হাওয়ারা ফিসফিসিয়ে বললো,
শুনেছ খবর?
এমনকি যে নদীটা প্রত্যেক সপ্তাহে দেখতো প্রণাম ভঙ্গি শান্ত সন্ধেতারার


সেও চমকে উঠলো এমন, লোকে ভাবলো
অসময়ে জোয়ার
ও! বলা হয়নি বুঝি! মেয়েটির নাম সন্ধেতারা


আর ছেলেটির?

গল্পে গল্পে রাতের ওপর মায়ার আলো
আলোয় আলোয় শুদ্ধ স্বরে রেওয়াজ


ওদের মাত্র তেইশ দিনের আলাপ

আলাপ গড়িয়ে চলে বন্দিশের দিকে

Monday, January 30, 2017

শীতের কাছাকাছি -- শৌভিক



আমি একটু আধটু জ্বর করি।
ঘুম থেকে দেরি হয়, টেনে নিই পুরনো চাদর।
ক্রমাচ্ছন্ন। বুঁদ হই।
বই পড়া হয় না। চোখে লাগে। আবার ঘুমিয়ে পড়ি। 

পাহাড়, ঝর্ণা, রেন্ট হাউস, পাথুরে সিঁড়ি। বারান্দার সোজাসুজি লম্বা প্যাসেজ। সার দেওয়া তিনটে ঘর। প্রথম ঘরটায় সবাই বসে আছে। গল্প, হাসি, অন্তাক্ষরী, ফল-ফুল-দেশ-পাখি। ফ্রাইং প্যানে টগবগিয়ে ফুটছে জল। পাহাড়ে বন্‌ধ আজ। লাঞ্চে ডিমসেদ্ধ পাউরুটি, মাখন; চাইলে জেলি। বড়মার ব্যাগ থেকে উঁকি দিচ্ছে গোলমরিচের কৌটো। দিদা বিট-নুনের শিশি সামলায়, একটু সুযোগ পেলেই ঢেলে নিয়ে দৌড় দেব, তক্কে তক্কে আছি। বারান্দায় মা, ছোটমাসি দাঁড়িয়ে আছে। সামনে তাকালে নিচে যাওয়ার সিঁড়ি।

এক-পা নামতেই বকুনি। দু’পা নামলে বিচ্ছু বদনাম। তিন পা এগোলে কানমলার হুমকি। চার ধাপ পেরোলে থাপ্পড়ের প্রতিশ্রুতি। পাঁচ পা নামলে ছেলেধরা...

এরপরও সাহস করে আর এক ধাপ এগোলে খুন খারাপি কিছু একটা হয়ে যাবে, মার গলার আওয়াজ জানিয়ে দিচ্ছে।

আর  ভরসা হয় না।

‘উঠে আয়, উঠে আয়, এক্ষুনি উঠে আয়।’

ফিরতি পায়ে এক দুই...সিঁড়ি গুলো খুব খাড়াই। হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে হয়। উপর দিকে মুখ তুললেই মার কড়া দৃষ্টি। সেদিকে চোখ রেখে নামতে গিয়েই হঠাৎ পপাত চ। কপালে একটু লাগলো।

উঠছি। এবার দ্রুত। নইলে আর আস্ত থাকবো না।

Monday, January 23, 2017

একটি মৃত্যু সংক্রান্ত কাহিনী -- তপোব্রত

উৎস
ষোলই জানুয়ারি, সোমবার!

সকাল সকাল যমরাজ সভায় গিয়ে দেখলেন সন্তোষপুরের নিবারণ পাল একটা ছেঁড়া গেঞ্জি আর নীল চেক-চেক লুঙ্গি পরে শুকনো মুখে মোবাইলে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলছেন। চিত্রগুপ্ত (মানে ঐ জহর রায় লুক-অ্যালাইক) তাক থেকে রোজকার হিসেব নিকেশের খাতাগুলো নামিয়ে ধুলো ঝাড়ছে আর দুটো যমদূত এক কোণে বসে গুলতানি মারছে।

“কি ব্যাপার? এটা কে?”- নিবারণবাবুকে দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন যমরাজ। “স্যার, এনার নাম নিবারণ পাল। কাল রাত্তিরে সিগনাল পেয়ে জোড়া-ব্রিজের পাশের গলি থেকে তুলে এনেছি। বাকি ডিটেল চিত্রবাবু জানেন।”- কান চুলকোতে চুলকোতে বললো এক যমদূত, “আমাদের নাম দু’টো মান্থলি পারফর্মেন্সের খাতায় লিখে নিন, তারপর যাই গিয়ে রেস্ট নিই। মেলা পরিশ্রম হয়েছে।”

আজকাল সিন্ডিকেটের বাজারে এইসব পাতি যমদূতরাও যমরাজকে ভয় পায় না। গম্ভীর মুখে মনে মনে ওদের বাপ-বাপান্ত করতে করতে চিত্রগুপ্ত নাম দু’টো লিখে নিয়ে দু’টোকে বিদায় করলেন। এই জানুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছে, এবার ডিসেম্বর অবধি কে ক’জনকে নিয়ে এলো তার ভিত্তিতেই বছরের শেষে ‘যমালয়-শ্রী’, ‘মহাযমদূত’ এইসব পুরস্কার দিতে হবে।

নিবারণবাবু পিটপিট করে ব্যাপারটা দেখছিলেন। যমদূত দু’টো কেটে পড়ার পর গুটিগুটি যমরাজের সামনে এসে একটা সেলাম ঠুকলেন।


ইচ্ছে -- ঐকিক


      - খুব ইচ্ছে করে।
- কি?
- সে জানিনা, শুধু জানি ইচ্ছে করে। ক্যাপসুল লিফটে, গাড়ির মধ্যে, ঘরে, জানালার ধারে, সব সময় ইচ্ছে করে।
- অত ইচ্ছের কি আছে আবার? চুপ করে বোস।
- কিন্তু ইচ্ছেপূরণ না হলে মন খারাপ হয় যে ... তোর ইচ্ছে করে না?
- তোর না শরীর খারাপ? জল খা। কাল জানিস, কি হয়েছে? আমার যে ছোট মাসি জামশেদপুরে থাকে, আরে ... যার বরের ক্যান্সার হয়েছিল ...
- একটু চুপ কর। উত্তর দিবি না, তোর ইচ্ছে করে কি না?
- আমার তোর মত অত বাঁধভাঙা ইচ্ছে-টিচ্ছে করে না বাপু। তোর সবেতেই একটু বেশি বেশি।
- বেশ। এই চুপ করলাম।
- আচ্ছা, ঠিক আছে, আর গোসা করতে হবে না। আমারও মাঝেমধ্যে অল্পস্বল্প ইচ্ছে করে। হল এবার?
- লোকজনের মধ্যে? না আড়াল চাই?
- ধুর! লোকজনের মধ্যে! পাগল নাকি? কেউ না থাকলে ভেবে দেখতেও পারি।
- চল না, এই দেখ, ধারেকাছে কেউ কোত্থাও নেই।
- ধুস! যখন-তখন ইচ্ছে হলেই হয় নাকি?
- হয়। দেখবি?
- ................
- কি হল?
- ......... দেখা।



কয়েক সেকেন্ড পরে জনান্তিকে একটি বায়ুনিঃসরণের শব্দ পাওয়া গেল।

Monday, January 16, 2017

যে ছিলো আমার... -- ঊর্মি

উৎস
     একটা চারকোনা উঠোন, তার দু’টো দিক জুড়ে বাথরুম, কলের পাড়সহ চারটে ঘর। উঠোনের আরেক কোণে একটা ঝাঁকড়া মাথা শিউলি ফুলের গাছ। কলের পাড় ঘেঁষে একটা খুব সরু রাস্তা ঢুকে গেছে পাশের বাড়িতে, কোনো দেওয়ালের বালাই নেই। সেই বাড়ি টপকে আরেকটা বাড়ি পেরোলেই অন্য একটা গলি, ধরে ডানদিকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই বড় রাস্তা, বড় রাস্তা ধরে দুটো বাড়ির সামনে দিয়ে ফিরলেই মিঠির বাড়ির দোরগোড়া হয়ে সেই চারকোনা উঠোন। 


About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই