Monday, November 12, 2012

অভিযোগ -- সুনন্দ


-      সর্বক্ষণ অন্যের কথা ভাবতে, শুনতে, বলতে আর ভাল লাগেনা। কে কোথায় কার স্বাধীনতা কেড়ে নিলো, কে কবে কার ওপর অত্যাচার করলো, কোথায় কোন নক্ষত্রে ক’টা টিকটিকি দেখা গেছে, সেই নিয়ে আলাপ, প্রলাপ, বিলাপ, আলোচনা, প্রস্তাবনা, সমালোচনা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, দুর্গন্ধ – আর ভাল লাগেনা। আর ভাল লাগেনা এত শব্দ। শব্দ-কল্পদ্রুম মানে অনেক পরে বুঝেছি। ওর মানে কেউ বাজে শব্দ করলে কল্পনা করা যে তার মাথায় দুড়ুম করে হাতুড়ি বসিয়ে দিলাম। Anger Management এর দরকার হবে না, ওই দুড়ুম শব্দেই বেজায় হাসি পাবে। আমারও এখন তেমন ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে, কেউ একটু আমার কথা বলুক। কেউ না বললে অন্তত আমিই একটু নিজের কথা বলি। একটু নিজের পিঠ চাপড়ে দিই, নিজের কাঁধে মাথা রেখে একটু ঘুমোই। অন্য সক্কলের মতো আমিও নিজেকে ভালবাসি, কথাটা একবার অন্তত বলার মতো করে বলি। “প্রতিটি বলের সমান ও বিপরীতধর্মী বল দোকানে পাওয়া যায়” এর মতো করে নয়। কিছু নিখাদ সত্যি কথা আছে, যা জনসমক্ষে বলতে গেলেই আর মেরুদণ্ডে জোর পাওয়া যায় না।

-      যাহা শিরশির করে, তারে শিরদাঁড়া কয়।

-      নিজের কথাও ঠিক তাই। একদম বাচ্চারা ছাড়া সবাই বোঝে ‘আমি, আমি’ করা মানে কি। ‘আত্মসর্বস্ব’ হয়ে যাওয়া। ‘স্বার্থপর’ হওয়া। ‘খারাপ’ হয়ে যাওয়া। কেন?

Wednesday, November 7, 2012

অসূর্যম্পশ্যা (৩) -- অনির্বাণ

<<আগের সংখ্যা 

অসূর্যম্পশ্যা – ঘ

অনেকদিন আপনাদের সাথে কথা হয় নি। ১৯২৮, আমার জন্মদিনে আমি ফিরে এসেছি। না বম্বের দিনশ পেতি বাংলোটায় নয়। তাজ হোটেলে। জের ব্যস্ততা বেড়েছে। আমার সাথে এই নিয়ে বিস্তর কথা কাটাকাটি মনোমালিন্য হয়েছে। এপ্রিল মাস এসে গেল। ডাক্তার বলেছেন, শরীর ভাল করতে ফের পশ্চিমে ঘুরে আসতে।
আমি তাই প্যারিস এলাম। জে সি-অফ করতে আসেন নি। কাঞ্জি দ্বারকাদাস, এখন ওই আমার খবর রাখে। ও একটা গোলাপের বোকে পাঠিয়েছে।
প্যারিসে গিয়ে লোকমুখে খবর পেলাম, জেও ভারত ছেড়ে ইওরোপে এসেছেন। আয়ারল্যান্ডে। প্যারিসে আমার খুব শরীর খারাপ হলো, জে খবর পেলেন।
রীতিমত যোগাড়যন্ত্র করে এসেও পড়লেন। এসেই জেসুলভ কাণ্ড।
তড়িঘড়ি আমার চিকিৎসক পাল্টানো হলো। অবাক ব্যাপার, কাজও দিলো। শরীরে একটু হলেও বল ফিরে পেলাম। যদিও শরীর খুবই দুর্বল, প্রদীপে দুফোঁটা তেল পড়লো, আগুনের তেজ একটু বাড়লো। সম্পর্ক একটু নরম হলো।

কিন্তু সুতো একবার ছিঁড়ে গেলে, সে কি আর গিঁট দিয়ে লাগালে আগের মত হয়ে যায়। একটা দাগ তো থেকেই যায়, তাই না? জে আর আমার মধ্যে দূরত্ব বেড়েই যাচ্ছে। আজ থেকে নয়, প্রায় পাঁচ বছর হলো, জে আর আমায় সেরকম সময় দিতে পারেন না। ওঁর নাকি প্রচুর কাজ। আমাকে এই বিশাল বাড়িটায় দিনা আর একটা কুকুর নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে হবে। দুঃখের স্মৃতি তো, একটু হাত চালিয়ে লিখে দিই। ফাঁকি দিচ্ছি ভাববেন না যেন।
প্রথম প্রথম আমি সব জায়গায় সাথে যেতাম। সেই তো ১৯২০ তে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে গেলাম। গান্ধীপন্থীরা সবাই মিলে জেকে চূড়ান্ত অপমান করলেন। ১৯২২ এর মাঝামাঝি নাগাদ তো কংগ্রেসের সাথে ওঁর সব সম্পর্কই বলতে গেলে শেষ হয়ে গেল। তখন শুধু নতুন দলের কাজ, মিটিং আর ভ্রমণ। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত অবিশ্রাম ছুটে বেড়াচ্ছেন। সেপ্টেম্বর ১৯২২, আমি বিরক্ত হয়ে দিনাকে নিয়ে লন্ডন চলে গেলাম। কাঞ্জিকে বলে গেলাম জেকে একটু দেখতে। দেশে ফিরে চেষ্টা করলাম জেকে নিয়ে সময় কাটাতে, কিন্তু ব্যস্ততা বেড়েই চললো।

Tuesday, November 6, 2012

অসূর্যম্পশ্যা (২) -- অনির্বাণ

<< আগের সংখ্যা

অসূর্যম্পশ্যা

ফেব্রুয়ারি ২০, ১৯১৮। সেদিন সকাল থেকেই বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। আজ আমার ১৮ বছরের জন্মদিন। সকাল থেকে গোলাপের তোড়া আর হরেক কিসিমের কেকে ভেসে যাচ্ছে বোম্বের বাড়িটা। বাবা-মা দুজনেই মহা-ব্যস্ত, একমাত্র মেয়ের জন্মদিন বলে কথা। বাবুর্চি-খানসামায় ঘর ছয়লাপ। আমাদের বোম্বের বাড়িটায় তো সব অতিথিকে বসানোই যাবে না। সামনের লনটায় প্রচুর আয়োজন করা হয়েছে। খাবার-দাবার, আলো-ফুলে ছয়লাপ কাণ্ড। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার আছে। সকাল থেকে আমি খুব খুশি। সেই জে বাবার সাথে কথা বলে যাওয়ার পর থেকে এরম খুশির দিন আমার জীবনে আর আসে নি। আজ আমায় একজন মস্ত বড়ো একটা উপহার দেবেন। নিশ্চিত দেবেন। কিন্তু মজাটা কি জানেন, আমি ছাড়া আর কেউ জানে না আমায় সব থেকে বড়ো গিফ্‌টটা কে দিচ্ছে? আপনি জানেন কে?
একটু ভাবুন তো। না না দুর। বাবা-মা নন, অন্য কেউ।
না, হলো না। জেও নন। জে কি করে আমায় উপহার দেবেন? তিনি তো আজকে নিমন্ত্রিতই নন।
বাবা বোম্বে হাইকোর্ট থেকে একটা রিস্ট্রেইনিং অর্ডার বার করেছেন। রুট্‌ঠি নাবালিকা, তাই তার বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তার পরিবারের। মহামান্য আদালত আদেশ দিয়েছেন রুট্‌ঠি আর জে দেখা করতে পারবে না। কোনো প্রকাশ্য স্থানে জেকে যেন রুট্‌ঠির সাথে দেখা না যায়।

হ্যাঁ, যা বলছিলাম। বলুন দেখি সেরা উপহারটা কে দিলো? আগের প্যারাগ্রাফে আপনাকে কিন্তু একটা ক্লু দিয়েছি, ভাবুন দেখি। বুঝতেই পারছেন কোনো রাজা-মহারাজা-নবাবের দেয়া উপহার এটা নয়। এ উপহার যার দেয়া, তার কাছে কোনো রাজা-মহারাজা পাত্তা পায় না। সারা পৃথিবীর মানুষ এর কাছে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করে। ভাবুন ভাবুন, না পারলে এই একটু পরেই বলে দেবোখন।

Monday, November 5, 2012

অসূর্যম্পশ্যা (১) -- অনির্বাণ

উৎসর্গ

অবধূতের মতো আমার কিছু গুরু আছে। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই, বিশেষতঃ সাহিত্যের জন্য রয়েছেন একাধিক সাহিত্য-গুরু। অবধূত না বলে একলব্যও বলতে পারেন। এঁদের একজন বাদে কারোর সাথে আমার কোনোদিন মোলাকাত হয় নি। তাঁরা সব্বাই যে প্রচণ্ড জনপ্রিয় তা কিন্তু নয়। কিন্তু তারা আমার প্রিয়।
হুমায়ুন আহমেদ তাদের মধ্যে একজন। বাংলাদেশে প্রবল জনপ্রিয়, পশ্চিমবঙ্গে নন। জনপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণ খুব সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের পাঠকের সঙ্কীর্ণতা। চাচা-খালু-জনাব-পানি-বুয়া এসব শব্দ বোধহয় আমরা খোলা মনে নিতে পারি নি।
সেসব আলাদা প্রসঙ্গ। ভক্ত হিসেবে তাঁর লেখা প্রতিটি প্রকাশিত শব্দ (হ্যাঁ, লেখা নয়, শব্দ) আমি পড়েছি। সবই দারুণ ভালো লাগে নি। কিন্তু ট্রিপ্‌ল সেঞ্চুরির ইনিংসে মিস-টাইম্‌ড বাউন্ডারির মতোই সেগুলি সহজে এড়িয়ে যাওয়া যায়। মনে মনে বা লিখে লিখে তাঁর স্টাইলের নকল করার চেষ্টা করেছি।
গুরুচণ্ডালীতে একজন লিখেছিলেন হুমায়ুন আহমেদ মৃদু মানুষের ঈশ্বর। উপযুক্ত বিশেষণ।

নারায়ণ সান্যালের অবশ্য সেরকম কোনো বিশেষণ নেই। ইনি হুমায়ুনের তুলনায় বেশ খানিকটা কম জনপ্রিয়। সম্ভবতঃ একটি বিশেষ প্রকাশনা গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত না করতে পারায় তাঁর লেখার প্রাপ্য প্রচারে অনেকটা খামতি থেকে গেছে। বিশ্বাসঘাতকএখনও প্রচুর বিক্রি হয়। কিন্তু আনন্দেনা থাকতে পারলে টপ টেনেটিকে থাকা বড়োই মুশকিল।
নারায়ণ সান্যালের অনেকগুলো স্টাইলের মধ্যে একটি অনবদ্য স্টাইল ছিল - যেটা কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা কল্পনা। এই স্টাইলটাকে সঠিকভাবে ভাষায় বর্ণনা করা মুশকিল। চেষ্টা করছি।
এককথায় বলতে পারেন ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণ। ইতিহাসের বিকৃতি বলবেন না, প্রেম আর যুদ্ধের থেকেও সাহিত্যে গণ্ডি বেঁধে দেয়া আরো বেশি কষ্টকর। এবারের লেখা নারায়ণ সান্যালের সেই স্টাইলে। স্টাইলের নাম? – ওই যে বললাম 'ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণ'।
বিশ্বাসঘাতকের দোহাই, পড়লে লাইন বাদ দিয়ে পড়বেন না। বিশ্বাসঘাতক যারা পড়েছেন, তাঁরা বুঝতে পারবেন, ধরতে পারবেন এই নকলনবিশি। এমনকি, ‘লাইন বাদ দিয়ে পড়বেন নাশব্দবন্ধটাও বিশ্বাসঘাতকথেকে টোকা। আর হ্যাঁ, পারলে গল্পের মাঝখানে গুগল উইকি না ঘেঁটে গল্পটা শেষ করে ফেলুন।
বিশ্বাসঘাতকের প্রথম সংস্করণে, গল্পের সাঙ্ঘাতিক নাটকীয় স্থানে এরকম ধরনের একটা বাক্য ছিল সেই বিজ্ঞানী হয়তো এখন কবরে শুয়ে আপসোস করছেন। পরের কোনো একটা সংস্করণে স্টার দিয়ে নিচে ফুটনোট দেয়া ছিল। সরি, উনি বেঁচে আছেন। সে বছরের নোবেল প্রাপকদের তালিকায় তাঁর নাম দেখা গেছে। তাই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি, কল্পনা আছে, বাস্তব থেকে বিচ্যুতি আছে। কিন্তু একটা গল্পও আছে।
আসুন, শুরু করা যাক। গল্পের নাম 'অসূর্যম্পশ্যা'।


Thursday, November 1, 2012

খবর এবার 'PDF' - এ


লম্বা ছুটি কাটানোর পর আজ থেকে আবার খুলছে ‘কথা’-র দপ্তর। না আজ আর নতুন কোনো পোস্ট নয়, শুধু ‘স্পেশালএডিশন’-এর তিনখানা PDF থাকছে আপনাদের জন্য। প্রতিবারের মতো এবারেও PDF সাজিয়েছে নির্মাল্য। বিস্তারিত খবর রয়েছে এইপাতায় ...

আগামী সোমবার থেকে আবার আমরা নতুন নতুন চমক নিয়ে নিয়মিত হাজিরা দেবো। ততক্ষণ অনলাইনে বা ডাউলনোড করে অফলাইনে PDF গুলো পড়তে থাকুন।

# সবশেষে আরো একবার স্পেশালএডিশনের সকল contributors কে আমাদের তরফ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ J।


About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই