Wednesday, July 19, 2017

হেমন্তের কবিতা -- রাজীব

উৎস
আমার ব্যালকনিতে কুয়াশা এলে
আমি তার দাস হয়ে উঠি
জলের প্রতিটি বিন্দু শাসনের
আঙ্গুল দেখায়।
ধ্রুপদী ছন্দ তবু
কিছু কথা বলে যায় কানে।
একফালি হেমন্তের রোদ
উঁকি মারে ভালবাসা হয়ে।
ঋতুচক্রের মতো
লুকোচুরি খেলে যায় মন।
ফাঁদ পাতা হিসেব
ফিরে আসে গ্রীষ্মের দহন বেলায়।
তৃষ্ণার্ত কন্ঠে তখন চেয়ে থাকি
আকাশের নীলে।
আমার ব্যালকনিতে কুয়াশা এলে
তুমি তার দেবী হয়ে ওঠো।

Thursday, July 13, 2017

Qualia vs. Noumena 2 -- Sambita

Click On pics for full-screen view.


1.Series: “Control-Fear Conditioning” 2013
Charcoal and tinted charcoal on sketchbook.
Dimensions: 8.25 X 11 in

2.Series: “Control-Revelation” 2015
Mixed media on paper.
8.25 X 11.75 in


Thursday, July 6, 2017

অরাজনৈতিক -- শ্রীময়

উৎস
হ্যাঁ দাদা, আমি হিসি করে দেয়াল ভেজাই,
সঙ্গে লোক জুটলে কাটাকুটিও খেলি
কানে জল ঢুকলে এক পা তুলে লাফাই
পকেটে পয়সা এলে ফুত্তি কত্তে মদ খাই

হ্যাঁ দাদা, আমি আম বেচতে উঠি বসিরহাট লোকালে
পিঠে রবারের ফিতে মেরে বগলে শব্দ করি
দেখতে কালো খেতে ভালো লজেন বেচি
রাত্তি বেলা ঘরে ঢোকার আগে
কেলাবের টিভিতে সারূপ খানকে দেখে চুল আঁচড়াই

হ্যাঁ দাদা, দেখাসোনা ফিরি, যত দেখবেন তত লাভ
কেনাকাটা আপনার বেক্তিগত চাপ, ওসব আমি বুঝি

কিন্তু এই যে দাদারা, আপনাদের এই ছোট ভাইটিকে
এট্টা  কথা বোঝান দেখি ?
কেন আমার দাদা, বাবার বডি নিয়ে সসান যাওয়ার সময় মার খাবে?
কেন আমার মাসির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে অন্য পাড়ার লোক ?
কেন কালকে সকালে ঠাকুর পোনাম করে লোকগুলো খুন কত্তে বেরোবে?
কেন সোন্ধে বেলা নামাজ পড়ে লোকগুলো মোসাল নিয়ে ঘর জ্বালাতে নামবে?
কেন পোস্সু আমি বাদাম বেচতে বেরোতে পারবোনা ?

কেন তস্সু আমার মাথা, হাত, কাঁধের ঝোলা, দুটো পা

খুঁজতে গেরামের লোক পাসের গেরামে  যাবে?

কি সুর বাজে আমার প্রাণে -- রম্যাণী

উৎস
"আহ! চুপ করো। ফোন-টোন কিচ্ছু করতে হবে না।", বলেই গাড়ির জানালায় মুখ সেঁটে বসে গেলো। আমিও তত সময়ে বদ্ধ কালা, বাইরে আকাশ, সামনে পাহাড়, প্রাণে তখন বর্ষাকালে বসন্ত-বাহার। ব্যাগে সাত দিনের ছুটি-হঠাৎ পাওয়া। তিন দিন রাস্তায়- হাতে রইল চার, তাই "পথে এবার নামো সখা"; ভাগ্যি ভালো, অফ সিজ্যন, তাই মাফলার জড়ানো-ফ্লাক্স বগলে জনস্রোতে ভাঁটা। রাস্তার দু’পাশে 'ফুডিং এভেলেবেল' ধাবায় ফাঁকা চেয়ার টেবিল, যেন মেলা খুলেছে, কিন্তু জমে উঠতে এখনো দেরি। রাস্তায় পাহাড়ি পোশাকে ঝলমলে বাচ্চা, আপেল টুকটুকে গাল, গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাহাড়ি বুলবুল।

গাড়ি পাহাড় বেয়ে চলেছে কুমায়ন এর দিকে। আমি তাল গুনি, চৌদ্দ মাত্রা- আমির খান গেয়ে যান "পরান কোয়েলিয়া কুকো রহি"; ধিন-নাউকুচিয়া তাল, ধা-ভীম তাল। সারথি বাবু বলে ওঠেন, "বাকি লৌটনে কে টাইম"। আমরা নামি একটা ছোট্ট কাঠের ঘরের সামনে, বাইরে টেবিল পাতা, গাছের গুঁড়ির তৈরি। খিদেয় পেট চুঁই-চুঁই। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখি গরম পরোটা ভাজা হচ্ছে। খদ্দের আমরা ছাড়া আরেক দল। 'ফরেনোর', বলে উঠলেন আনন্দ জী। ঘুরে দেখি ঢাউস ক্যামেরা নিয়ে গাছে জড়ানো কুমড়ো লতার ছবি তুলছে। ফুলে ভর্তি। দিম্মা পোস্ত-বাটা মাখিয়ে মুচমুচে করে ভেজে দিতেন, সাথে ঘি-ভাত। মাখন দেয়া পরোটা চিবোতে চিবোতে পোস্ত-বাটার কথা ভাবি। ধোঁয়া ওঠা ঘি-ভাত, কাঁচা লঙ্কা আর গর্মা-গ্রম দহি-পরোটা-তুলনাটা গুছিয়ে তোলার আগেই দেখি পাশের ভদ্দরলোক শেষ টুকরো মুখে পুরছে। তেল জবজবে হাতটা পাঞ্জাবি তে মুছে ফেলেই এক গাল হাসি-
-ছুটি চলছে কিন্তু
-জাহান্নামে যাও। আমি মনোযোগ দিয়ে পরোটা চিবোই। পাশে কমলা-হলুদ কুমড়ো ফুল। আনন্দ জী শুনি তখনও বলছেন, "অর এক লাও", মুখে স্বর্গীয় আনন্দ। পোস্ত-মাখা কুমড়ো ফুলের স্বাদ যদি জানতো!
"অর দো ঘণ্টে মে মুক্তেশ্বর পৌঁছ জায়েঙ্গে"। রাষ্ট্র-ভাষায় আমাদের অভয় দান করে আবার যাত্রা শুরু হলো।
গান চলছে, পুরোনো হিন্দি গান, কাশ্মীর কি কলি। গুনগুনিয়ে উঠতে গিয়ে থেমে যাই। যেন এক যুগ আগের কথা। মায়ের হাত ধরে, বাড়ির পাশেই দিদির বাড়ি - গানের দিদিমণি। শখ মায়ের, উৎসাহ আমার।

রবিবার সকাল... দিদি রান্নাঘরে শাক কাটেন, আমি হারমোনিয়ামে সা রে গা রে সা সাধি। তেলে ফোড়ন পড়ে, দিদি ভূপালি শেখান - মা নি বর্জিত। খাতা দেখে সাদা কালো রিডে সুর খোঁজার চেষ্টা করি। আরোহে দিদি হাত ধরে নিয়ে যান। অবরোহে একাই নামি, পা ফস্কে যায়। দিদি এসে পাশে বসেন। সাদা চুল, সাদা শাড়ি, হাতে হলুদের ছোপ। ভুল করি বারবার, দিদি হাসেন, বলেন, "বাড়ি গিয়ে রেওয়াজ করবি"। আমি বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ি। কোনো কোনো রবিবার দিদির ছেলে রাজু দাদা নেমে আসে, "মায়ের রান্না হতে হতে আমার সাথে চল"। ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি ভাঙি, কাঠের পুরোনো সিঁড়ি, বড্ডো উঁচু। ওপারে অন্য জগত। সেতার, তানপুরা, "ওটা কি?", রাজু দাদা চিনিয়ে দেয়, 'সুর মণ্ডল।' 



Wednesday, June 28, 2017

সান্দাক্‌ফু-র পথে: দ্বিতীয় কিস্তি -- তিতাস

<<আগের পর্ব
২৮শে জানুয়ারি: টুমলিং থেকে কালাপোখরি
সূর্যোদয় - টুমলিং
সকালবেলা উঠে দেখি আগের দিনের মতো মেঘ নেই আকাশে, বেশ পরিষ্কার। কাঞ্চনজঙ্ঘা সমেত ঘুমন্ত বুদ্ধকেও বেশ দেখা যাচ্ছে, ঝলমল পরিবেশ। রাস্তার ধারে কালকের তুষারপাতের চিহ্নও স্পষ্ট। আজ আমাদের যেতে হবে গৈরিবাস, কায়াকাট্টা পার করে কালাপোখরি, সব মিলিয়ে প্রায় বারো কিমি। ঠিক হলো, দুপুরের খাওয়া হবে হয় গৈরিবাসে, না হয় কায়াকাট্টায়, সুবিধে মতো। টুমলিং থেকে বেরোনোর প্রায় এক ঘণ্টা পরে আমরা সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্ক এর চেক পোস্ট পার করলাম, এখানে আমাদের সবার পারমিট করাতে হলো। এই পথে অনেক নাম-না-জানা পাখির দেখা পেলাম, আর রাস্তার ধারে প্রচুর রডোডেন্ড্রন গাছ। ফুল ফুটে নেই, তবে কুঁড়ি ধরে আছে অনেক। এগারোটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম গৈরিবাস নামক লোকালয়ে। খাওয়ার সময় হয়নি, তাই শুধু চা বলা হলো। এখানেই আমাদের আলাপ হয় সুদাসবাবুর সাথে। অনবদ্য মানুষ একজন! পঞ্চাশের ওপর বয়স, কিন্তু উদ্যমের কোনো খামতি নেই। পাহাড় ভালোবাসেন খুব। একাই বেরিয়ে পড়েছেন সান্দাক্‌ফুর পথে, এই নিয়ে তাঁর ছ’বার। সুদাসবাবুকে সাথে নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম গৈরিবাস থেকে। গৈরিবাসের পর রাস্তা বেশ খাড়া। প্রায় দেড়’ঘণ্টা পর আমরা পৌঁছলাম কায়াকাট্টাতে, আরেকটা ছোট্ট লোকালয়। সুদাসবাবু একটু গল্প করে, দুপুরের খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে পড়লেন। খাওয়া শেষ করে বেরোতে আমাদের একটু সময় লাগলো। প্রায় দেড়’ঘণ্টা পরে আমরা রওনা দিলাম কালাপোখরির উদ্দেশ্যে। রাস্তায় তখনও অনেক জায়গাতেই জল জমে বরফ হয়ে আছে। কালাপোখরি পৌঁছতে বিকেল সাড়ে চারটে বেজে যায়। গ্রামে ঢোকার আগেই একটা ছোট্ট পুকুর, নাম কালাপোখরি। এই পুকুরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। গ্রামের নামকরণ এই পুকুরের নাম থেকেই। এই গ্রাম থেকে পাহাড়ের মাথায় সান্দাক্‌ফু চোখে পড়ে।
ঘুমন্ত বুদ্ধ - টুমলিং থেকে


About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই