Wednesday, May 8, 2013

চ্যাপলিন-চরিত -- সুশোভন



আকাশের গায়ে কেমন চাপ চাপ নিস্তব্ধতা। এক টুকরো মধ্য কলকাতা আলসেমি ভরা উদাসী  দুপুর। গলির গলি তস্য গলি পেরিয়ে গন্তব্য তিন নম্বর বেডফোর্ড স্ট্রিট।

মাত্র ছফুট-থেকে আট ফুট চওড়া রাস্তা। অগুনতি ঠেলা, রিকশা, আর স্কুল ফেরত বাচ্চারা পাশাপাশি ঠেলাঠেলি করে চলেছে। ঘিঞ্জি রাস্তার দু’ধারে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙাচোরা দোতলা বাড়িরা। রাস্তার ধারে কর্পোরেশনের কলে মত্ত জল কেলি করছে একদল উলঙ্গ শিশু।
একটা বাড়ির দাওয়ায় ঘুমে ঢুলু ঢুলু এক মহিলা বসে ছিলেন। তাঁকেই প্রশ্ন করলাম-
“সেলিমের বাড়িটা এই দিকেই তো?” ঘুম জড়ানো চোখেই সেলিমের বাড়ির রাস্তা দেখিয়ে দেন তিনি। সেই রাস্তার দিকে পা বাড়িয়েছি, মহিলাটি পিছন থেকে বলে ওঠেন, “সিরিফ সেলিম বোলা কিউ? সেলিম জোকারওয়ালা বলুন।
ঠিকই তো! সেলিমরা তো জোকারওয়ালাই!

পাঠক মশাই কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে জোকারদের দেশে আপনাকে স্বাগত।

দশ ফুট বাই দশ ফুট ঘরের দেওয়ালের রং সবুজ। সেখানেই বিকেলের প্রার্থনা সারছেন জোকারদের এই বাড়িটি যিনি গড়ে তুলেছেন সেই সেলিম। প্রার্থনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম। একটুখানি সময়। সেলিম তাও ক্ষমা চেয়ে নিলেন। আরও মিনিট পাঁচেক সময় লাগবে তাঁর প্রার্থনা সারতে।
কে এই সেলিম?

Monday, April 29, 2013

পিয়ানো-ওয়ালা -- সুনন্দ


পলের বাবা-মা ওর ছোটবেলায় ওকে অন্য অনেকের মতোই পিয়ানো শিখতে বাধ্য করেছিলেন। সে বয়সে কি আর অত শান্ত সুর ভাল লাগে? নিয়ম করে রেওয়াজই বা কাঁহাতক সহ্য হয়! তাই সে চেষ্টা বৃথা গেল। বেশ খানিকটা বড় হয়ে, নানা ঘাটের জল খেয়ে, নিজের দেশ উটায় ফেরত আসার আগে নতুন করে প্রেমে পড়তে হলো- ডিজিটাল পিয়ানোর প্রেম। নেহাত শখেই পিয়ানো, আর তার নানা ঘুপচি খবর জেনে ফেললো পল। তবে আমাদের অনেকের মতোই সে সব জানা ওর কোন কাজে লাগেনি। দেশে ফিরে ও কাজ নিলো এক পানীয় জল সরবরাহ করে, এমন সংস্থায়।

ওর যাতায়াতের রাস্তায় একটা ইয়ামাহা পিয়ানোর দোকান পড়ে। সেখানে জল পৌঁছে দিয়ে একদিন ও বসে নতুন ক্ল্যাভিনোভা ডিজিটাল পিয়ানোয় টুংটাং করছিল, এমন সময় এক ভদ্রলোক দোকানের দরজা খুলে ভেতরে এসে ওকে জিজ্ঞেস করলেন এই যন্ত্রটা কি?(আহা, আমাদের সঙ্গে এরকম হয়না কেন! মাঝেমাঝে মনে হয় না, যে বিষয়ে গুচ্ছের জেনে গেছেন, যেটা খুব বেশি ভালবাসেন, তা নিয়ে কেন কেউ একটাও প্রশ্ন করেনা?) লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে পল দেখাতে শুরু করলো ক্ল্যাভিনোভা ঠিক কি আর কত মজার কাজ করতে পারে। কিছুটা যন্ত্রের গুণে, আর বেশ খানিকটা ওর ছোঁয়াচে উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে ভদ্রলোক কিনেই ফেললেন জিনিসটা। মনে রাখবেন, দেশটা আমেরিকা হলেও আর যন্ত্র ডিজিটাল হলেও- একখানা পিয়ানো বেচে ফেলা কিন্তু চাড্ডিখানি কথা নয়! দোকানের মালিক যারপরনাই খুশি হয়ে পলকে দোকানে চাকরির প্রস্তাব দিলেন আর পলও এককথায় রাজি হয়ে গেল!
রাজি হওয়ার কারণ আছে। ওই দোকানেই এক সোনালি চুলের কন্যে কাজ করেন- যার সঙ্গে দু-দণ্ড আলাপ করার ইচ্ছে পলের অনেকদিনের।

Friday, April 26, 2013

ধুন -- পণ্ডিত সুররঞ্জন



Tuesday, April 16, 2013

মধুবন্তী (আলাপ ও জোড়)-- D.Madhusudan

রাগ:  মধুবন্তী (আলাপ ও জোড়)
যন্ত্র:   বাঁশি
বাজিয়েছেন:  শ্রদ্ধেয় মধুদা (D. Madhusudan)
  •  Play করার পর Audio লোড হতে একটু সময় (১০-১৫ সেকেন্ড মত) লাগতে পারে।
       

Tuesday, April 9, 2013

দশা -- আগন্তুক


ভারত আবার সম্মুখ সমরে। আজ্ঞে না, default শত্রু পাকিস্তানের মুখোমুখি নয়। ইতালীর সঙ্গে
মনোমালিন্য হয়েছে দিল্লীর। সুযোগ বুঝে পদ্মফুল কাঁটা ফুটিয়েছে- ম্যাডামের বাপের বাড়ি বলে কি সাত খুন মাফ? কুত্রোচ্চি কাণ্ডের দুঃস্বপ্ন এখনো ভোলেনি ১০ জনপথ। কাজেই পত্রপাঠ ইতালীয় রাষ্ট্রদূত নজরবন্দী এবং ফলতঃ গুটিগুটি পায়ে ইতালীর আত্মসমর্পণ। মুখরক্ষা হল দেশের এবং অবশ্যই দেশের রাজবংশের।


তামিল বধের শাস্তি চাই-তামিলনাড়ুর হুঙ্কার। ওরে ওসব কূটনীতি ভাই-অপারগ এই সরকার। দিল্লী নাহয় চুপটি থাকল, আমরা তো নই বাচ্চা। সমর্থনটি ফিরিয়ে নিলেই শিক্ষা হবে আচ্ছা। কাঁচকলা হবে, থোড়াই কেয়ার-মনমোহিনী উত্তর। সি বি আই দিয়ে Tight দিয়েছি মুলায়ম সহ পুত্তর। গদিতে এখন No ঝঞ্ঝট-বলেই দিলুম স্পষ্ট। অমন দিদিকে সামলে দিলুম কিসের আবার কষ্ট?


নামটি তাহার আই পি এল - ক্রিকেট তো নয়, দৈব খেল। বাদশা আছেন, দিদিও আছেন, আছেন
করুণানিধি- সুপারহিট তো হবেই গুরু, যত বাম হোক বিধি। ঘটা করে হল উদ্বোধন-যুবভারতীর ক্রীড়াঙ্গন। আরাবুল নাম স্মরণ করালো অভ্যাগত পিট-বুল। লক্ষ জনতা শরীর দোলালো-সঙ্ঘবদ্ধ ঘাসফুল। গেল বচ্ছর কাপ জিতেছিনু-ভুলে গেলি তোরা বেইমান! সাধেই কি আর বাঙালি বলেছে-এক নম্বর শয়তান!


চৈত্রের শুরু থেকেই মারাত্মক তপ্ত আবহাওয়া। প্রকৃতিকে হার মানালেন মীরা-মমতায়। রাজভবন থেকে ওড়ানো সাদা পায়রা ডানা ঝাপটে Finish। বিচারালয়ে নির্বাচন। Focus সন্ধানী পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিছু অন্ততঃ কাজ পেলেন। অন্যথাঃ মুখ্যমন্ত্রীই এই সরকারের সব মন্ত্রকের প্রকৃত মন্ত্রী-একথা কে না জানে। বাঙালির হেলদোল নেই। অ্যাকাডেমির বদলে টিভিতেই নাটক দেখতে পেলে মন্দ কি! হাজার হোক সংস্কৃতিমনস্ক জাতি বলে কথা!

About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই