সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনটা ভালো হয়ে গেল। আজকে স্বাধীনতা
দিবস। ছুটির দিন। কাল সকালেই ফেসবুকের কভার ফোটোর জায়গায় একটা দারুণ তিরঙ্গা
দেওয়া দেশাত্মবোধক ছবি গুগল থেকে খুঁজে লাগিয়েছি। অনেকগুলো ‘লাইক’ও পড়েছে।
সঙ্গে প্রোফাইল পিকের জায়গায় আমার প্রিয় বিপ্লবী ভগৎ সিং এর ছবি।
আরো অনেকেই দেখলাম এরকম লাগিয়েছে আর রাত বারোটা বাজার
সঙ্গে সঙ্গেই তো চারদিকে সবাই দেশাত্মবোধক স্ট্যাটাস দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
আমিও লিখে দিলাম,
‘Wishing everyone a happy 67thIndependence Day! Proud to be an Indian!! Jay Hind!!!’
তখনই বেশ কয়েকটা ‘লাইক’ পড়ে গেছিল, এখন লগ-ইন করে দেখলাম
মোট সতেরোটা ‘লাইক’! বাঃ বাঃ!
যাকগে আজকে আর বাড়িতে খাওয়ার ইচ্ছে নেই। ব্যাঙ্গালোরে
এমনিতেই রোজ নিজে রান্না করে খেতে হয়, আজকে ঠিক করলাম চা-টা অবধি নিজের হাতে
বানাবো না। দাঁত মেজে পাড়ার মোড়ের বেকারিতে গিয়ে চা আর কেক অর্ডার দিলাম। আট-দশ
বছরের ছেলেটা, ভেঙ্কটেশ না নাগার্জুনা কি একটা যেন নাম, আমি তো ‘ছটু’ বলেই ডাকি,
এসে চা এর গ্লাস দিয়ে গেল।
নাহ্, চা-টা সত্যিই ভালো হয়েছিল, বেশ নিজের মনে জম্পেশ করে
চা আর কেক খাচ্ছিলাম। খেতে খেতে দেখছিলাম ছটু এদিক ওদিকে ঘুরে ঘুরে চা দিচ্ছে,
কুচকুচে কালো গায়ের রঙ, নোংরা সাদা গেঞ্জি, হাফ প্যান্ট, মাথায় কতদিন তেল পড়েনি
তার ঠিক নেই। মাঝখানে আবার দৌড়ে গিয়ে পাশের গ্যারাজে চার কাপ চা দিয়ে এল। দেখে
বেশ খারাপ লাগলো, শিশু শ্রমিক ব্যাপারটা দেশ থেকে তুলে দেওয়া উচিত। চা শেষ হয়ে
গেল