![]() |
উৎস |
সকাল সকাল যমরাজ সভায় গিয়ে দেখলেন সন্তোষপুরের নিবারণ পাল একটা ছেঁড়া গেঞ্জি আর নীল চেক-চেক লুঙ্গি পরে শুকনো মুখে মোবাইলে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলছেন। চিত্রগুপ্ত (মানে ঐ জহর রায় লুক-অ্যালাইক) তাক থেকে রোজকার হিসেব নিকেশের খাতাগুলো নামিয়ে ধুলো ঝাড়ছে আর দুটো যমদূত এক কোণে বসে গুলতানি মারছে।
“কি ব্যাপার? এটা কে?”- নিবারণবাবুকে দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন যমরাজ। “স্যার, এনার নাম নিবারণ পাল। কাল রাত্তিরে সিগনাল পেয়ে জোড়া-ব্রিজের পাশের গলি থেকে তুলে এনেছি। বাকি ডিটেল চিত্রবাবু জানেন।”- কান চুলকোতে চুলকোতে বললো এক যমদূত, “আমাদের নাম দু’টো মান্থলি পারফর্মেন্সের খাতায় লিখে নিন, তারপর যাই গিয়ে রেস্ট নিই। মেলা পরিশ্রম হয়েছে।”
আজকাল সিন্ডিকেটের বাজারে এইসব পাতি যমদূতরাও যমরাজকে ভয় পায় না। গম্ভীর মুখে মনে মনে ওদের বাপ-বাপান্ত করতে করতে চিত্রগুপ্ত নাম দু’টো লিখে নিয়ে দু’টোকে বিদায় করলেন। এই জানুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছে, এবার ডিসেম্বর অবধি কে ক’জনকে নিয়ে এলো তার ভিত্তিতেই বছরের শেষে ‘যমালয়-শ্রী’, ‘মহাযমদূত’ এইসব পুরস্কার দিতে হবে।
নিবারণবাবু পিটপিট করে ব্যাপারটা দেখছিলেন। যমদূত দু’টো কেটে পড়ার পর গুটিগুটি যমরাজের সামনে এসে একটা সেলাম ঠুকলেন।