ক্র্যাকপটের বাংলা করা মুশকিল। আমার নিজের পছন্দ পাগলা জগাই। অর্থাৎ সোজা কথায়, কিঞ্চিৎ ছিটেল। এঁদের দেখা সর্বত্র পাওয়া যায়। আমার কাছে বেশি আসেন বৈজ্ঞানিক ক্র্যাকপটরা, নিজেদের তত্ত্ব শোনাবার জন্যে। এটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর অকুপেশনাল হ্যাজার্ড। এঁদের কথা বিশ্বাস করলে, কয়েক শতাব্দীতে যত জিনিয়াসের আবির্ভাব হবার কথা, আমি এই কয়েক বছরে তার চেয়ে বেশি জিনিয়াস দেখে ফেলেছি।
পাগলা জগাই বিভিন্ন রকমের আছেন। কেউ খুব গোবেচারা নিরীহ টাইপ, কেউ জেদি, কেউ কিঞ্চিৎ উগ্র, কেউ বিশ্বসংসারের ওপর বেজায় খাপ্পা। এঁদের একমাত্র মিল হলো এঁরা সকলেই কিছু নতুন তত্ত্ব বা যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যার ফলে বিজ্ঞানের বাজারচলতি ধ্যানধারণা সব বদলে যাওয়া উচিত। মুশকিল হলো কেউ এঁদের পাত্তা দিচ্ছে না, ভাগ্য ভালো হলে বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ে একটু মন দিয়ে শোনে আর ভাবে, আহা ইনি কি প্রতিভাবান, আর ভাগ্য ভালো না হলে পাড়ার চায়ের দোকানদার বা বাজারের মাছওয়ালাকে শোনাতে হয়, কেউ কেউ সামনে বা পেছনে আওয়াজও খান। তাই এঁরা আরেকটু পড়াশোনা করা লোকজনের কাছ থেকে স্বীকৃতির আশায় ঘোরেন।
বাঙালির স্বাভাবিক দুর্বলতা নিষ্ফলের এবং হতাশের দলে থাকাদের দিকে, তাই এই পর্যন্ত পড়েই কেউ কেউ বলে উঠবেন, তার মানে কি প্রচলিত তত্ত্বকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, গুরুবাক্য বলে মেনে নিতে হবে? আর মেনে নিলে কি বিজ্ঞান এগোবে?