আমাদের
দেশের হিন্দি ছবির অসংখ্য গানের মুখ্য উপজীব্য হচ্ছে ইভ-টিজিং। নায়ক ও তার সঙ্গীরা
হেঁটে, সাইকেলে, বাইকে, চার-চাকায় এমনকি হেলিকপ্টারে করেও নায়িকাকে তাড়া করে
যতক্ষণ না সে প্রেম-প্রস্তাবে সম্মতি জানাচ্ছে। তাতে নায়িকা বিরক্ত, ক্রুদ্ধ, ভীত,
যাইহোক না কেন নায়ক ও তার সাগরেদরা দমছে না। সিনেমায় এসব দেখতে মানুষের বোধহয় ভালই
লাগে। জীবন, কেরিয়ার, চাকরি- এ সবের পিছনে না দৌড়ে একটা বা একাধিক মেয়ের পিছনে
ধাওয়া করা, বিয়ে না করে একসাথে থাকার থেকেও বেশি সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করে। দেশের
রাস্তাঘাটেও দৃশ্যটা প্রায়ই নজরে আসে। হেঁটে, রিক্সায় বা সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে
একটি মেয়ে- আর তার পেছনে পেছনে follow করে চলেছে কয়েকটি ছেলে। তারা নিজেদের মধ্যে মেয়েটিকে
উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন কথা বলছে, গান গাইছে ও অঙ্গভঙ্গি করছে। যদি মেয়েটি একা থাকে বা দু-একজন সঙ্গীর
সাথে থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই।
একটি
মেয়ে হাইস্কুলে সিক্স থেকে সেভেনে উঠতে উঠতেই তার স্কুল, কোচিং, নাচ বা গানের
ক্লাসের যাওয়া আসার পথে কিছু রোড-সাইড রোমিওর পাল্লায় পড়ে। খু-উ-ব কম মেয়ে আছে
যাদের এই অভিজ্ঞতা নেই। গ্রাম, ছোটো শহর, বড় শহর- সম্ভবত এমন কোনও জায়গা নেই
যেখানকার মেয়েরা এই ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিফ-হাল নয়। আমার আবছা আবছা মনে আছে প্রথম
কবে ছেলেরা আমার পিছু নিয়েছিলো। সত্যি বলছি, একদম প্রথম অভিজ্ঞতার কথা ভালো মনে
নেই। তবে যতদূর মনে পড়ে, খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয় ক্লাস সেভেনে পড়তাম। যারা ফলো
করেছিলো তারা সংখ্যায় প্রায় তিন-চার জন ছিল।

